জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
গ্রিক পুরাণে বর্ণিত দানবের নামে পরিচিত প্রাণী একটি বিশেষ কোষ দ্বারা চলন, খাদ্যগ্রহণ ও আত্মরক্ষা করে থাকে।
- ক)(1)
রেটিয়া মিরাবিলিয়া কী?
- খ)(2)
প্রতিস্রোত তন্ত্র বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উল্লিখিত কোষটির গঠন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত প্রাণীটির কোষ ও অঙ্গ পর্যায়ে কাজের ভিন্নতা দেখা যায়— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অস্থিময় মাছের পটকা বা বায়ুথলির প্রাচীরে অবস্থিত সমান্তরাল কৌশিকজালিকাবিশিষ্ট রক্তনালির যে বিশেষ নেটওয়ার্ক গ্যাস নিঃসরণ ও গ্যাস শোষণে অংশ নেয়, তাকে রেটিয়া মিরাবিলিয়া (Rete mirabile) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিস্রোত তন্ত্র (Counter-current system) হলো এমন একটি শারীরবৃত্তীয় কৌশল, যেখানে দুটি ভিন্ন নালির মধ্য দিয়ে দুটি সান্নিধ্যপূর্ণ প্রবাহী পরস্পর বিপরীত অভিমুখে প্রবাহিত হয়, যাতে তাদের মধ্যে দ্রবীভূত পদার্থ বা তাপের সর্বোচ্চ পরিমাণ বিনিময় ঘটে।
উদাহরণস্বরূপ, মাছের ফুলকার মধ্য দিয়ে রক্তপ্রবাহ এবং ফুলকার উপর দিয়ে প্রবাহিত পানির দিক সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হয়। এর ফলে রক্ত ও পানির মধ্যে সর্বত্র একটি অনুকূল ঘনমাত্রার নতিমাত্রা (concentration gradient) বজায় থাকে এবং রক্তে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পানির অক্সিজেন সর্বোচ্চ পরিমাণে (প্রায় ৮০% বা তার বেশি) রক্তে প্রবেশ করতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে গ্রিক পুরাণে বর্ণিত দানবের নামে পরিচিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা (Hydra) এবং উল্লিখিত বিশেষ কোষটি হলো নিডোসাইট (Cnidocyte)।
একটি আদর্শ নিডোসাইট কোষ নিম্নলিখিত অংশগুলো নিয়ে গঠিত:
১. আবরণ (Covering): কোষটি দ্বিস্তরী আবরণে আবৃত। বাইরের স্তরটি পাতলা এবং ভেতরের স্তরটি কিছুটা পুরু। দুটি স্তরের মধ্যবর্তী সাইটোপ্লাজমে দানাদার উপাদান ও নিউক্লিয়াস অবস্থান করে। নিউক্লিয়াসটি সাধারণত কোষের তলদেশের দিকে থাকে।
২. নেমাটোসিস্ট (Nematocyst): এটি নিডোসাইটের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি বিশেষ কাইটিননির্মিত তরলপূর্ণ ক্যাপসুল। এর ভেতরের তরল বিষাক্ত, যা 'হিপনোটক্সিন' (প্রোটিন ও ফেনলের মিশ্রণ) নামে পরিচিত। ক্যাপসুলের সম্মুখ প্রান্ত একটি লম্বা, ফাঁপা এবং প্যাঁচানো সূত্রকে রূপান্তরিত হয়। সূত্রের গোড়ায় একটি চওড়া বাট (shaft) থাকে, যার ওপর তিনটি বড় কাঁটা বা বার্ব (barb) এবং কয়েক সারি ক্ষুদ্র কাঁটা বা বার্বিউল (barbule) থাকে।
৩. অপারকুলাম (Operculum): ক্যাপসুলের মুখ বা শীর্ষভাগে একটি ঢাকনা থাকে, যাকে অপারকুলাম বলে। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি ক্যাপসুলটিকে ঢেকে রাখে এবং নিডোসাইট উদ্দীপিত হলে ঢাকনাটি খুলে যায়।
৪. নিডোসিল (Cnidocil): এটি কোষের মুক্ত প্রান্তে অবস্থিত একটি শক্ত ও সংবেদনশীল চুলের মতো প্রবর্ধন। এটি পরিবর্তিত সিলিয়াম যা ট্রিগারের মতো কাজ করে। শিকার বা শত্রুর স্পর্শ লাগামাত্র এর মাধ্যমে উদ্দীপনা কোষে পৌঁছায় এবং অপারকুলাম খুলে গিয়ে নেমাটোসিস্টের সূত্রকটি বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়।
৫. পেশিসূত্র ও ল্যাসো (Muscle fibers and Lasso): কোষের সাইটোপ্লাজমে সংকোচনশীল মায়োফাইব্রিল বা পেশিসূত্র থাকে যা কোষের সংকোচনে সহায়তা করে। এছাড়া কোষের গোড়ায় ল্যাসো নামক স্থিতিস্থাপক সূত্র থাকে, যা নিক্ষিপ্ত নেমাটোসিস্টকে কোষের সাথে ধরে রাখতে সাহায্য করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রাণীটি হলো নিডারিয়া পর্বের হাইড্রা (Hydra)। হাইড্রা দ্বিস্তরী বা ডিপ্লোব্লাস্টিক প্রাণী এবং এদের গঠন সেলুলার-টিস্যু (কোষ-কলা) মাত্রার। তবে এদের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রকৃত অঙ্গ (True organ) গঠিত না হওয়ায় দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক কাজ কোষ ও আদিম অঙ্গ বা কলা পর্যায়ে সুস্পষ্ট শ্রমবন্টনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। নিচে এর ভিন্নতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কোষ পর্যায়ে কাজের ভিন্নতা:
হাইড্রার একটোডার্ম ও এন্ডোডার্মে নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত কোষ ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব পালন করে:- পেশি-আবরণী কোষ: দেহের বহিঃআবরণ রক্ষা এবং সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে চলনে সহায়তা করে।
- ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ: পুনরুৎপত্তি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো কোষে রূপান্তরিত হয়।
- নিডোসাইট: খাদ্যগ্রহণ, শিকার অবশকরণ, আত্মরক্ষা এবং চলনে ব্যবহৃত হয়।
- সংবেদী ও স্নায়ুকোষ: পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা সারা দেহে ছড়িয়ে দেয়।
- গ্রন্থিকোষ ও পুষ্টি কোষ: গ্যাস্ট্রোডার্মে অবস্থিত এসব কোষ খাদ্য পরিপাকের জন্য পরিপাক রস ক্ষরণ করে এবং অন্তকোষীয় পরিপাক সম্পন্ন করে।
- জননকোষ: প্রজননের জন্য শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপন্ন করে।
২. অঙ্গ বা কলা পর্যায়ে কাজের ভিন্নতা:
হাইড্রার দেহে কোনো জটিল অঙ্গতন্ত্র (যেমন— সংবহনতন্ত্র, শ্বসনতন্ত্র, রেচনতন্ত্র) নেই। তবে কিছু দৈহিক অংশ সম্মিলিত অঙ্গের মতো সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে:- কর্ষিকা (Tentacles): একাধিক কোষ ও কলার সমন্বয়ে গঠিত অঙ্গসদৃশ অংশ, যা শিকার ধরা, শত্রুকে প্রতিহত করা এবং চলন (যেমন— সমারসল্টিং) ঘটায়।
- হাইপোস্টোম ও মুখছিদ্র: খাদ্য গ্রহণ এবং অপাচ্য অংশ নিষ্কাশনে কাজ করে।
- সিলেন্টেরন (পরিপাক-সংবহন গহ্বর): এই গহ্বরটি খাদ্য পরিপাক (বহিঃকোষীয় পরিপাক) এবং একই সাথে পরিপাকৃত খাদ্যরস সারা দেহে সংবহনের সমন্বিত কাজ সম্পাদন করে।
- পদচাক্তি (Pedal disc): মিউকাস ক্ষরণ করে প্রাণীকে কোনো অবলম্বনের সাথে আটকে রাখা, গ্লাইডিং চলন সম্পন্ন করা এবং গ্যাসীয় বুদ্বুদ তৈরির মাধ্যমে ভাসতে সাহায্য করে।
- জননাঙ্গ (শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়): বিশেষ গঠন হিসেবে প্রজনন কার্য পরিচালনা করে।
সুতরাং দেখা যায়, হাইড্রার ক্ষেত্রে কোষ পর্যায়ে বিভিন্ন বিশেষায়িত কোষের স্বাতন্ত্র্য এবং কর্ষিকা, পদচাক্তি বা সিলেন্টেরনের মতো অঙ্গীয় কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের সুনির্দিষ্ট কাজের ভিন্নতা ও চমৎকার শ্রমবন্টন বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও