গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রহিম সাহেব ও জামাল সাহেব দুই বন্ধু। তাদের কিছু শারীরিক সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলেন। তাদের কী সমস্যা জানতে চাইলে রহিম সাহেব বলেন, অল্প পরিশ্রম করেই তিনি হাঁপিয়ে যান, বুক ধড়ফড় করে। মাঝে মাঝে বুকে ব্যথা ও ঘাম হয়। অন্য দিকে জামাল সাহেব বললেন, তার ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। দ্রুত ওজন কমছে এবং শরীর খুব দুর্বল লাগে।
- ক)(1)
পথ্য কাকে বলে?
- খ)(2)
আঁশ জাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে— বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
রহিম সাহেব যে রোগে আক্রান্ত তার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'রহিম সাহেব ও জামাল সাহেবের সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ্য পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হবে'— উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রোগ নিরাময়, রোগ উপশম ও রোগীর সুস্থতা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যকে পথ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আঁশ জাতীয় খাবার পরিপাকনালিতে পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং মলকে নরম ও পিচ্ছিল রাখে। এটি অন্ত্রের পেরিস্টালসিস বা পেশির সংকোচন-প্রসারণ গতি বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে মল সহজে শরীর থেকে নিষ্ক্রান্ত হতে পারে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রহিম সাহেব হৃদরোগে (Heart Disease) আক্রান্ত। অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, বুকে ব্যথা হওয়া ও অতিরিক্ত ঘাম হওয়া হৃদরোগের প্রধান লক্ষণ।
হৃদরোগের উল্লেখযোগ্য কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চর্বি, কোলেস্টেরল ও লবণযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করলে ধমনিতে চর্বির স্তর জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
২. কায়িক শ্রমের অভাব: অলস জীবনযাপন এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করার কারণে শরীরে মেদ জমে এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়।
৩. স্থূলতা ও ওজন বৃদ্ধি: অতিরিক্ত শরীরের ওজন হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
৪. মানসিক চাপ ও ধূমপান: অতিরিক্ত মানসিক চাপ, রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং ধূমপান বা তামাক সেবনের ফলে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হৃদরোগ দেখা দেয়।
অতএব, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও পুষ্টিহীন খাদ্যাভ্যাসই রহিম সাহেবের এই রোগের মূল কারণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'রহিম সাহেব ও জামাল সাহেবের সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ্য পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হবে'— উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপক থেকে দেখা যায়, রহিম সাহেব হৃদরোগে এবং জামাল সাহেব ডায়াবেটিসে (ঘন ঘন প্রস্রাব, দ্রুত ওজন হ্রাস, দুর্বলতা) আক্রান্ত। দুটি রোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির হওয়ায় উভয়ের পথ্য পরিকল্পনাও ভিন্ন হতে হবে:
১. রহিম সাহেবের পথ্য পরিকল্পনা (হৃদরোগীর পথ্য):
- খাদ্যতালিকায় সম্পৃক্ত চর্বি, কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার (যেমন: লাল মাংস, ঘি, মাখন, ডিমের কুসুম) পরিহার করতে হবে।
- রান্নায় উদ্ভিজ্জ তেল (যেমন: সয়াবিন, অলিভ অয়েল) পরিমিত ব্যবহার করতে হবে।
- খাবারে লবণের পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত রাখতে হবে, যাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে।
২. জামাল সাহেবের পথ্য পরিকল্পনা (ডায়াবেটিস রোগীর পথ্য):
- খাদ্যতালিকায় শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চিনি, মিষ্টি, গুড়, কোমল পানীয় ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়।
- ভাত, আলু, রুটি ইত্যাদি পরিমিত ও নির্ধারিত পরিমাণে খেতে হবে।
- জটিল শর্করা ও আঁশসমৃদ্ধ খাদ্য (যেমন: লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, কাঁচা শাকসবজি) বেশি গ্রহণ করতে হবে, যা রক্তের গ্লুকোজ হঠাৎ বাড়তে দেয় না।
- নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিমিত আহার গ্রহণ করতে হবে যাতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা হাইপারগ্লাইসেমিয়া না হয়।
সুতরাং, রহিম সাহেবের ক্ষেত্রে চর্বি ও লবণ নিয়ন্ত্রণ এবং জামাল সাহেবের ক্ষেত্রে শর্করা ও ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিবেচ্য বিষয়। তাই তাদের রোগ নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের পথ্য পরিকল্পনা প্রয়োজন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও