যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
বারেক ও তারেক ব্যবসায়ী। বারেক তারেককে বলল, শীতকালে যতই বেশি শীত বাড়তে থাকে সবজির দামও তত কমতে থাকে। আবার শীত যখন কমতে থাকে সবজির দামও তত বাড়তে থাকে। তারেক বলল, বিষয়টি যেন চাহিদা ও সরবরাহভিত্তিক।
- ক)(1)
ব্যতিরেকী পদ্ধতি কী?
- খ)(2)
অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি কখন ঘটে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বারেকের বক্তব্য কোন পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উপস্থাপিত পদ্ধতির অসুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করে। দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিতে আলোচ্য ঘটনাযুক্ত এবং আলোচ্য ঘটনাযুক্ত নয়—এমন দুটি মাত্র দৃষ্টান্ত তুলনা করে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়, তাকে ব্যতিরেকী পদ্ধতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিরীক্ষণের উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় বিষয় বা শর্ত লক্ষ না করে কিংবা অপ্রয়োজনীয় বিষয়কে কারণ মনে করে সিদ্ধান্ত নিলে অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি ঘটে। অর্থাৎ, ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিশেষ অবস্থাকে অবহেলা করলে বা এড়িয়ে গেলে এ অনুপপত্তি দেখা দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বারেকের বক্তব্য জন স্টুয়ার্ট মিলের পরীক্ষণমূলক পদ্ধতির 'সহ-পরিবর্তন পদ্ধতি' (Method of Concomitant Variations)-কে নির্দেশ করে।
সহ-পরিবর্তন পদ্ধতির মূলকথা হলো: যখন কোনো একটি ঘটনা কোনো বিশেষ উপায়ে পরিবর্তিত হলে অপর একটি ঘটনাও একইভাবে পরিবর্তিত হয়, তবে ঘটনা দুটির একটি অপরটির কারণ বা কার্য অথবা কার্যকারণ সূত্রে পরস্পর সম্পর্কিত।
উদ্দীপকে বারেক লক্ষ করেছে যে, শীতের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে সবজির দাম কমে যায় এবং শীত কমে যাওয়ার সাথে সাথে সবজির দাম বেড়ে যায়। এখানে শীতের মাত্রা এবং সবজির দাম পরস্পর বিপরীতমুখী বা ব্যস্তানুপাতিকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। অতএব, একটি ঘটনার পরিবর্তনের সাথে অপর ঘটনার আনুপাতিক পরিবর্তন লক্ষ করায় এটি স্পষ্টভাবে সহ-পরিবর্তন পদ্ধতিকে নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উপস্থাপিত পদ্ধতিটি হলো সহ-পরিবর্তন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিটি কার্যকর হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা বা অসুবিধা রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সীমিত প্রয়োগক্ষেত্র: এ পদ্ধতি কেবল সেসব ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা পরিমাপযোগ্য বা পরিমাণে হ্রাস-বৃদ্ধি করা যায়। গুণগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা যায় না।
২. অতিপরিবর্তনজনিত ভ্রান্তি: পরিবর্তনের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। সীমার বাইরে গেলে কার্যকারণ সম্পর্ক বজায় নাও থাকতে পারে। যেমন—উত্তাপ বাড়লে পারদ বাড়ে, কিন্তু অতিরিক্ত তাপে তা বাষ্পে পরিণত হতে পারে।
৩. সহকার্যকে কারণ মনে করার সম্ভাবনা: দুটি ঘটনা হয়তো কোনো সাধারণ কারণের সহকার্য হিসেবে একসাথে পরিবর্তিত হচ্ছে, কিন্তু এ পদ্ধতিতে তাদের একটিকে অপরটির কারণ মনে করার ভুল হতে পারে।
৪. আকস্মিক বা কাকতালীয় পরিবর্তন: কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুটি ঘটনার একই সাথে পরিবর্তন নেহাত কাকতালীয় হতে পারে, যার মধ্যে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নেই।সুতরাং, সহ-পরিবর্তন পদ্ধতি পরিমাণগত বিশ্লেষণে অত্যন্ত উপযোগী হলেও এটি ত্রুটিমুক্ত নয় এবং এর অপপ্রয়োগে ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও