পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
'X' নামক একটি রাষ্ট্র স্বাধীন হওয়ার পর একটি কমিটি গঠন করে সে দেশের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। ঐ খসড়া সংবিধান গণপরিষদে বিল আকারে উত্থাপন, গৃহীত ও কার্যকর হতে দীর্ঘ দশ মাস সময় লাগে। অন্যদিকে 'Y' নামক রাষ্ট্রের সংবিধান গড়ে ওঠে ক্রমরিবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে লোকাচার ও প্রথার ভিত্তিতে। এজন্য এ সংবিধানের ক্ষেত্রে কোনো কমিটি বা গণপরিষদে বিল উত্থাপনের প্রয়োজন হয়নি।
- ক)(1)
বাংলাদেশের সংবিধান কত সালে প্রণীত হয়?
- খ)(2)
বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'X' নামক দেশটির সংবিধান কোন পদ্ধতিতে প্রণয়ন করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কোন সংবিধানটি তোমার কাছে উত্তম সংবিধান বলে মনে হয়? যুক্তিসহ তোমার মতামত তুলে ধরো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালে প্রণীত হয়।
- খ)
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬–৪৭ক) নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে।
এতে আইনের দৃষ্টিতে সমতা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, চলাফেরা, সভা-সমিতি, চিন্তা-বিবেক ও বাক স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্পত্তির অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। এসব অধিকার লঙ্ঘিত হলে নাগরিক আদালতের শরণাপন্ন হয়ে প্রতিকার পেতে পারে। তাই বলা যায়, সংবিধানে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
- গ)
'X' দেশের সংবিধান গণপরিষদ (Constituent Assembly)-এর মাধ্যমে প্রণীত লিখিত সংবিধান।
উদ্দীপকে দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর একটি কমিটি গঠন করে খসড়া সংবিধান তৈরি করা হয়। এরপর খসড়াটি গণপরিষদে বিল আকারে উত্থাপিত ও গৃহীত হয় এবং পরে কার্যকর হয়। এই পদ্ধতিতে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আলোচনা করে সংবিধান প্রণয়ন করেন। এ ধরনের সংবিধান সুসংবদ্ধ ও লিখিত থাকে। বাংলাদেশের সংবিধানও একইভাবে গণপরিষদে গৃহীত হয়ে ১৯৭২ সালে কার্যকর হয়েছিল।
- ঘ)
উদ্দীপকে 'X' রাষ্ট্রের লিখিত সংবিধান ও 'Y' রাষ্ট্রের অলিখিত (বিবর্তিত) সংবিধানের কথা বলা হয়েছে। আমার মতে 'X' রাষ্ট্রের সংবিধানটি উত্তম।
১. সুস্পষ্টতা ও নির্দিষ্টতা: লিখিত সংবিধানে সরকারের ক্ষমতা, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সুস্পষ্ট লেখা থাকে, ফলে বিভ্রান্তি থাকে না।
২. অধিকার সুরক্ষা: লিখিত সংবিধানে মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত থাকে এবং লঙ্ঘিত হলে আদালতে প্রতিকার পাওয়া যায়।
৩. স্থিতিশীলতা ও জবাবদিহি: সংবিধান সহজে পরিবর্তন করা যায় না, ফলে শাসকদের খেয়ালখুশিমতো ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ কম থাকে এবং রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা আসে।
৪. জনগণের অংশগ্রহণ: গণপরিষদের মাধ্যমে প্রণীত হওয়ায় এতে জনগণের প্রতিনিধিদের মতামত প্রতিফলিত হয়।
অন্যদিকে 'Y'-এর অলিখিত সংবিধান নমনীয় হলেও তা স্পষ্ট নয় এবং প্রথার ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং, 'X' রাষ্ট্রের সংবিধানই অধিক সুস্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য বলে আমার কাছে উত্তম মনে হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও