বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
7.1.
মরণব্যাধি 'করোনা' নিয়ে ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে একটি সংলাপ লেখো।
7.2.
'মানুষ মানুষের জন্য' শিরোনামে একটি খুদেগল্প লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৭.১. মরণব্যাধি 'করোনা' নিয়ে ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে একটি সংলাপ:
(স্থান: ডাক্তারের চেম্বার)
রোগী: আসসালামু আলাইকুম, ডাক্তার সাহেব। ভেতরে আসতে পারি?
ডাক্তার: ওয়ালাইকুমুস সালাম। আসুন, বসুন। বলুন, আপনার কী সমস্যা?
রোগী: ডাক্তার সাহেব, গত তিন-চার দিন ধরে আমার প্রচণ্ড জ্বর, শুকনো কাশি আর সেই সাথে শরীরজুড়ে তীব্র ব্যথা। খাবারের কোনো স্বাদ-গন্ধও পাচ্ছি না। খুব দুর্বল লাগছে।
ডাক্তার: আপনার এই লক্ষণগুলো কিন্তু করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর উপসর্গের সাথে বেশ মিলে যায়। শ্বাসকষ্ট আছে কি?
রোগী: না, শ্বাসকষ্ট এখনো তেমন নেই, তবে বুকে কিছুটা চাপ অনুভব করছি। আমি খুব ভয় পাচ্ছি ডাক্তার সাহেব, এটা কি করোনা?
ডাক্তার: ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। করোনা মরণব্যাধি হলেও সঠিক সময়ে সচেতনতা ও চিকিৎসার মাধ্যমে বেশিরভাগ মানুষই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপনার দ্রুত একটি আরটি-পিসিআর (RT-PCR) টেস্ট করানো দরকার।
রোগী: টেস্টের রিপোর্ট আসার আগ পর্যন্ত আমার কী করণীয়?
ডাক্তার: আপনি নিজেকে পরিবারের অন্য সবার থেকে আলাদা বা আইসোলেশনে রাখবেন। সবসময় মাস্ক পরবেন। প্রচুর পরিমাণে কুসুম গরম পানি, ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার এবং পুষ্টিকর তরল খাবার খাবেন। আর নিয়মিত পালস অক্সিমিটার দিয়ে রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা মাপবেন।
রোগী: ওষুধের ব্যাপারে কী করব ডাক্তার সাহেব?
ডাক্তার: আমি জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল এবং কাশির জন্য কিছু সাধারণ ওষুধ লিখে দিচ্ছি। তবে কোনো অবস্থাতেই নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন না। রিপোর্ট এলে বা অক্সিজেনের মাত্রা ৯৪%-এর নিচে নামলে অবিলম্বে আমাকে জানাবেন অথবা হাসপাতালে যাবেন।
রোগী: অনেক ধন্যবাদ ডাক্তার সাহেব। আপনার পরামর্শ মেনে চলব।
ডাক্তার: ধন্যবাদ, সাবধানে থাকুন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।
৭.২. খুদেগল্প: মানুষ মানুষের জন্য
টানা তিন দিনের অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে চারপাশ থমথমে। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া রফিক ছাতা মাথায় দিয়ে বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। মাসের শেষ, নিজের পকেটেই হাত দিলে সামান্য কিছু খুচরো টাকা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। জরুরি একটা টিউশনির খোঁজে সে শহরের অন্য প্রান্তে রওনা হয়েছে।
বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাতেই তার চোখে পড়ল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ফুটপাতের এক কোণে ভিজে জবুথবু হয়ে বসে আছেন এক বৃদ্ধা। তাঁর কোলে বছর পাঁচেকের এক শিশু, জ্বরে কাঁপছে এবং ক্ষুধায় কাঁদছে। বৃদ্ধা পথচারীদের কাছে হাত পাতছেন, কিন্তু বৃষ্টির তাড়াহুড়োয় কেউ তাঁর দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না।
বৃদ্ধার আর্তনাদ রফিকের বুকে এসে বিঁধল। সে এগিয়ে গেল। বৃদ্ধা কাতর কণ্ঠে বললেন, "বাবা, কাল রাত থেকে বাচ্চাটা কিছু খায়নি, গায়ে প্রচণ্ড জ্বর। কটা টাকা দিবি বাবা? একটু দুধ কিনে খাওয়াই।"
রফিকের পকেটে তখন মাত্র পঞ্চাশ টাকার একটি নোট ছিল—যা তার যাতায়াতের একমাত্র ভাড়া। একবার ভাবল টাকাটা দিয়ে দিলে সে নিজে টিউশনিতে যাবে কীভাবে? কিন্তু পরক্ষণেই বিবেক তাকে নাড়া দিল—মানুষ মানুষের জন্য না দাঁড়ালে এই পৃথিবীর অর্থ কী?
রফিক আর দ্বিধা করল না। পকেট থেকে শেষ সম্বলটুকু বের করে বৃদ্ধার হাতে দিল এবং পাশের একটি ফার্মেসি থেকে নিজের পরিচিতির সূত্রে বাকি মূল্যে প্যারাসিটামল সিরাপ এনে শিশুটিকে খাইয়ে দিল। এরপর পাশের দোকান থেকে এক প্যাকেট বিস্কুট কিনে বৃদ্ধার হাতে তুলে দিল। বৃদ্ধার চোখ দিয়ে কৃতজ্ঞতার অশ্রু গড়িয়ে পড়ল, তিনি হাত তুলে প্রাণভরে দোয়া করলেন।
বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ পথ হেঁটে হেঁটে রফিক যখন টিউশনির ঠিকানায় পৌঁছাল, ততক্ষণে সে ক্লান্ত হলেও তার মনটা এক অদ্ভুত অনাবিল শান্তিতে ভরে উঠেছিল। সে উপলব্ধি করল, আত্মত্যাগের মাধ্যমে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আনন্দই জীবনের পরম সার্থকতা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও