জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

শ্বসন একটি ছন্দোময় প্রক্রিয়া। শ্বাসকেন্দ্র, শ্বসন সংশ্লিষ্ট প্রতিবর্ত ক্রিয়া ইত্যাদি শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রয়োজন হলে একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকেই এ কাজটি করতে হয়।

  1. ক)

    ওটাইটিস মিডিয়া কী?

    (1)
  2. খ)

    শ্বসনে হিমোগ্লোবিন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রশিক্ষিত ব্যক্তির কৃতকাজের ধারাবাহিক বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লিখিত নিয়ন্ত্রণ কি শুধুই স্নায়বিক? বিশ্লেষণপূর্বক মন্তব্য কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ওটাইটিস মিডিয়া (Otitis media) হলো মধ্যকর্ণের সংক্রমণজনিত প্রদাহ। এটি প্রধানত ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ঘটে থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শ্বসনে হিমোগ্লোবিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রক্তে প্রধান অক্সিজেন পরিবাহক হিসেবে কাজ করে। লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত লৌহঘটিত প্রোটিন হিমোগ্লোবিন ফুসফুসের অ্যালভিওলাই থেকে আসা অক্সিজেনের সাথে শিথিলভাবে যুক্ত হয়ে অস্থায়ী অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে। রক্তের মাধ্যমে এই অক্সিহিমোগ্লোবিন দেহের প্রতিটি কোষে পরিবাহিত হয় এবং সেখানে অক্সিজেন মুক্ত হয়ে কোষীয় শ্বসনে ব্যবহৃত হয়। শতকরা প্রায় ৯৮ ভাগ অক্সিজেন এভাবে হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। এছাড়া হিমোগ্লোবিন কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন রূপে পরিবহন করে এবং রক্তের অম্ল-ক্ষারক ভারসাম্য (pH) বজায় রাখতে সাহায্য করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রশিক্ষিত ব্যক্তির কৃতকাজটি হলো কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস (মুখোমুখি শ্বাসদান ও CPR) প্রদান। এর ধারাবাহিক পদক্ষেপসমূহ নিচে দেওয়া হলো:

    ১. রোগীকে প্রস্তুতকরণ: রোগীকে শক্ত, সমান মেঝেতে চিৎ করে শুইয়ে দিতে হবে এবং তার মুখের ভেতরে কোনো লালা, বমি বা রক্ত থাকলে তা পরিষ্কার করে শ্বাসনালি উন্মুক্ত করতে হবে।
    ২. মাথা ও চিবুকের অবস্থান ঠিক করা: এক হাত দিয়ে রোগীর কপাল পেছনের দিকে আলতোভাবে চাপ দিতে হবে এবং অন্য হাতের আঙুল দিয়ে চিবুক ওপরের দিকে তুলে ধরতে হবে, যাতে জিভ শ্বাসনালির পথ বন্ধ না করে।
    ৩. নাক বন্ধ করা ও মুখ লাগানো: কপালে রাখা হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে রোগীর নাকের ছিদ্র দুটি চেপে বন্ধ করতে হবে। এরপর উদ্ধারকারী গভীর শ্বাস নিয়ে নিজের মুখ দিয়ে রোগীর পুরো মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে শক্তভাবে সিল করতে হবে।
    ৪. শ্বাসপ্রদান: রোগীর মুখের ভেতর এমনভাবে ফুঁ দিতে হবে যেন রোগীর বুক স্পষ্ট ফুলে ওঠে। প্রতি ফুঁ দেওয়ার পর রোগীর বুক স্বাভাবিক অবস্থায় নেমে আসার জন্য সময় দিতে হবে। এভাবে প্রতি মিনিটে ১০-১২ বার শ্বাস দিতে হবে।
    ৫. বুকে চাপ প্রয়োগ (প্রয়োজনে): হৃদস্পন্দন বন্ধ থাকলে বা নাড়ি পাওয়া না গেলে কৃত্রিম শ্বাসদানের পাশাপাশি প্রতি ৩০ বার বুকে চাপের পর ২ বার কৃত্রিম শ্বাস দেওয়ার প্রক্রিয়া (CPR) অব্যাহত রাখতে হবে যতক্ষণ না স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস ফিরে আসে বা জরুরি চিকিৎসা দল আসে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্বাসক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ শুধুই স্নায়বিক নয়; বরং এটি স্নায়বিক ও রাসায়নিক—উভয় ব্যবস্থার সমন্বিত নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    ১. স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ:
    মস্তিষ্কের মেডুলা অবলংগাটা এবং পনসে শ্বাসকেন্দ্র অবস্থিত। মেডুলায় বিদ্যমান প্রশ্বাস কেন্দ্র (Inspiratory center) এবং নিঃশ্বাস কেন্দ্র (Expiratory center) ডায়াফ্রাম ও ইন্টারকোস্টাল পেশির সংকোচন ও প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে ছন্দোময় শ্বাসক্রিয়া পরিচালনা করে। এছাড়া পনসে অবস্থিত নিউমোট্যাক্সিক কেন্দ্র ও অ্যাপনিউস্টিক কেন্দ্র শ্বসনের হার ও গভীরতা নির্ধারণে সাহায্য করে। ফুসফুস অতিরিক্ত প্রসারিত হলে ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে হেরিং-ব্রুয়ের প্রতিবর্ত (Hering-Breuer reflex) সৃষ্টি হয়ে প্রশ্বাস বন্ধ করে নিঃশ্বাস চালু করে।

    ২. রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ:
    রক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) এবং অক্সিজেনের (O₂) ঘনত্বের পরিবর্তনের দ্বারা শ্বাসক্রিয়া সরাসরি প্রভাবিত হয়। রক্তে CO₂-এর পরিমাণ এবং H⁺ আয়ন বৃদ্ধি পেলে (pH হ্রাস পেলে) মস্তিষ্কের মেডুলায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় কেমোরিসেপ্টর এবং মহাধমনী আর্চ ও ক্যারোটিড ধমনিতে অবস্থিত প্রান্তীয় কেমোরিসেপ্টরসমূহ উদ্দীপ্ত হয়। এরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্বসনকেন্দ্রকে সংকেত পাঠায়, যার ফলে শ্বসনের হার ও গভীরতা বৃদ্ধি পেয়ে অতিরিক্ত CO₂ শরীর থেকে বের হয়ে যায় এবং রক্তের স্বাভাবিক গ্যাসীয় সমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

    সুতরাং, শ্বাসক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ছন্দোময় প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হলেও রক্তে রাসায়নিক উপাদানের পরিবর্তন শ্বসনকেন্দ্রকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। অতএব, পরিশেষে বলা যায় যে শ্বাসক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ শুধুই স্নায়বিক নয়, এটি স্নায়বিক ও রাসায়নিক উভয় প্রক্রিয়ার এক জটিল ও সমন্বিত ফলাফল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন