অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়, প্রাকৃতিক সম্পদের উত্তোলন ও ব্যবহার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তখনকার প্রেক্ষাপটে তা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ ছাড়াই পদ্মা সেতুর মতো একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কারণ বৈদেশিক সাহায্যে অনেক অসম্মানজনক শর্ত থাকে, ঋণের সুদের হার বেশি হয়, মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়, পরমুখাপ্রেক্ষিতা বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় তা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

  1. ক)

    ওয়েজ আর্নার্স স্কিম কী?

    (1)
  2. খ)

    "আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যতীত উন্নয়ন সম্ভব নয়"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ছিল? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বৈদেশিক সাহায্য কি দেশের স্থিতিশীল উন্নয়নের অন্তরায়? উদ্দীপকের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে প্রেরণের জন্য সরকার যে বিশেষ সুবিধা বা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল, তাকে ওয়েজ আর্নার্স স্কিম (Wage Earners' Scheme) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশই এককভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হয়।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে একটি দেশ তার উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি করে প্রয়োজনীয় মূলধনি যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও কাঁচামাল আমদানি করতে পারে। বাণিজ্যের ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত হয়, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ছাড়া প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে বৈদেশিক সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি ছিল।

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ভেঙে পড়েছিল এবং চরম খাদ্যঘাটতি বিদ্যমান ছিল। উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে, সে সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয়, প্রাকৃতিক সম্পদের উত্তোলন ও ব্যবহার, এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য বিদেশি অনুদান ও ঋণ অপরিহার্য ছিল।

    তখন অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ও রাজস্ব আয় এতই কম ছিল যে, পুনর্বাসন ও প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক সাহায্য ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় ছিল না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত বৈদেশিক সাহায্য দেশের টেকসই ও স্থিতিশীল উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

    উদ্দীপকে যথাযথভাবে নির্দেশ করা হয়েছে যে, বৈদেশিক সাহায্যের সাথে বিভিন্ন অসম্মানজনক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শর্ত জড়িয়ে থাকে। এছাড়া উচ্চ সুদের হারের কারণে ঋণ পরিশোধের বোঝা দিন দিন বৃদ্ধি পায়, যা জাতীয় বাজেটের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। সাহায্যনির্ভরতার ফলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে, নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারে অনীহা তৈরি হয় এবং পরমুখাপেক্ষিতা বেড়ে গিয়ে জাতীয় সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে।

    বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভর না করেও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। সুতরাং, আত্মমর্যাদাশীল অর্থনৈতিক মুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জনে বৈদেশিক সাহায্যের নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সম্পদ সমাবেশ ও বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধির পথ বেছে নেওয়া যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন