ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

অমরসিংহপুর গ্রামের সাধারণ কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবার জন্য একটি সমিতি গঠন করেন। এ সমিতির শেয়ারের সংখ্যা ২০,০০০। গত বছর সমিতির লাভের পরিমাণ ১,৫০,০০০ টাকা। জনাব রফিক এই সমিতির একজন সাধারণ সম্পাদক। তার শেয়ারের সংখ্যা ১,০০০ টি। বার্ষিক সাধারণ সভায় সর্বোচ্চ লভ্যাংশ বণ্টনের সিদ্ধান্ত হয়। রফিক সমিতি হতে ৬,৩৭৫ টাকা লভ্যাংশ উত্তোলন করে। সমিতির দ্বারা গ্রামবাসী মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত হতে রক্ষা পেয়েছে।

  1. ক)

    শেয়ার কী?

    (1)
  2. খ)

    'একতাই বল সমবায়ের মূলমন্ত্র'—ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে অমরসিংহপুর গ্রামের কৃষকরা কোন ধরনের সমবায় সমিতি গঠন করেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক অনুসারে সমবায় সমিতিতে কোন নীতির অভাব দেখা দেয়? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌথমূলধনী কোম্পানি বা সমবায় সমিতির অনুমোদিত মূলধনের সমমূল্যের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য একককে শেয়ার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'একতাই বল সমবায়ের মূলমন্ত্র' বলতে বোঝায় অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে সংঘবদ্ধ শক্তির মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতা অর্জন করা।

    এককভাবে স্বল্প পুঁজির সাধারণ মানুষ সমাজে টিকে থাকতে বা মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ প্রতিহত করতে পারে না। কিন্তু তারা যখন সমবায়ের পতাকাতলে একতাবদ্ধ হয়, তখন তাদের সম্মিলিত পুঁজি ও ঐক্য বিরাট শক্তিতে রূপ নেয়। পারস্পরিক সহযোগিতা ও একতার ভিত্তিতেই সমবায়ের সকল সাফল্য অর্জিত হয় বলে একে সমবায়ের মূল ভিত্তি ও মূলমন্ত্র বিবেচনা করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে অমরসিংহপুর গ্রামের কৃষকরা 'সমবায় বিক্রয় সমিতি' (বা উৎপাদক সমবায় সমিতি) গঠন করেন।

    ক্ষুদ্র উৎপাদক বা কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়াদের শোষণ হতে মুক্ত হয়ে সরাসরি বাজারে পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে যে সমবায় সমিতি গঠন করে, তাকে সমবায় বিক্রয় সমিতি বলা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, অমরসিংহপুর গ্রামের সাধারণ কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার লক্ষ্যে একটি সমিতি গঠন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত হতে রেহাই পেয়েছেন। ফসল বিক্রয় করে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যে গঠিত হওয়ায় এটি একটি সমবায় বিক্রয় সমিতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক অনুসারে সমবায় সমিতিতে 'আইনানুগ নিয়মানুবর্তিতা' বা 'আইন অনুযায়ী সঞ্চিতি তহবিলে সংরক্ষণ ও লভ্যাংশ বণ্টন নীতির' অভাব দেখা দিয়েছে।

    বাংলাদেশ সমবায় সমিতি আইন অনুযায়ী, সমবায় সমিতির অর্জিত নীট মুনাফার কমপক্ষে ১৫% সংরক্ষিত বা সঞ্চিতি তহবিলে এবং কমপক্ষে ৩% সমবায় উন্নয়ন তহবিলে জমা রাখা বাধ্যতামূলক। অবশিষ্ট সর্বোচ্চ ৮২% মুনাফা সদস্যদের মাঝে শেয়ার বা কারবারের আনুপাতিক হারে লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করা যায়। কোনো সমবায় সমিতি তার মোট মুনাফার শতভাগ সদস্যদের মাঝে বণ্টন করতে পারে না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সমিতির মোট লাভ ১,৫০,০০০ টাকা এবং শেয়ার সংখ্যা ২০,০০০টি। রফিকের শেয়ার ১,০০০টি (যা মোট শেয়ারের ৫%)। রফিক লভ্যাংশ পেয়েছেন ৬,৩৭৫ টাকা। অর্থাৎ মোট বণ্টিত লভ্যাংশ ছিল (৬,৩৭৫ / ০.০৫) = ১,২৭,৫০০ টাকা, যা মোট লাভের ৮৫%। এটি ইঙ্গিত করে যে সঞ্চিতি তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ জমা রাখা হয়নি বা যথাযথ নিয়মে বণ্টন করা হয়নি। বিশেষ করে, সঞ্চিতি সংরক্ষণ না করে সর্বাধিক লভ্যাংশ বিতরণের প্রবণতায় সমবায়ের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা ও সমবায় আইনের বিধিমালার যথাযথ অনুসরণের অভাব ফুটে উঠেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন