জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
পলাশ বেড়াতে গিয়ে দেখল জমির উঁচু অংশে আম ও নিচু অংশে ধান লাগানো হয়েছে। দুটো উদ্ভিদের CO₂ বিজারণের পথ (চক্র) আলাদা।
- ক)(1)
ইমাস্কুলেশন কী?
- খ)(2)
ভাইরাসকে অকোষীয় বলা হয় কেন ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম উদ্ভিদে যে চক্র সম্পন্ন হয় তা রেখাচিত্রের সাহায্যে দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উদ্ভিদদ্বয়ে সম্পন্ন চক্র দুটির তুলনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃত্রিম পরাগায়নের উদ্দেশ্যে উভলিঙ্গ ফুল থেকে পুংকেশর বা পরাগধানী কেটে অপসারণ করার প্রক্রিয়াকে ইমাস্কুলেশন (Emasculation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভাইরাসের দেহে কোনো কোষপ্লাজম, কোষঝিল্লি, কোষপ্রাচীর, নিউক্লিয়াস বা সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু থাকে না। এছাড়া ভাইরাসে নিজস্ব কোনো বিপাকীয় এনজাইম বা বিপাকীয় কার্যপদ্ধতি নেই। জীবদেহের বাইরে ভাইরাস সম্পূর্ণ জড় পদার্থের মতো আচরণ করে। শুধুমাত্র একটি নিউক্লিক অ্যাসিডের কোর এবং প্রোটিনের আবরণ দ্বারা গঠিত হওয়ায় ভাইরাসকে অকোষীয় বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম উদ্ভিদটি হলো 'আম', যা একটি C3 উদ্ভিদ। C3 উদ্ভিদে কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারণের জন্য ক্যালভিন চক্র বা C3 চক্র সম্পন্ন হয়।
ক্যালভিন চক্রের প্রধান ধাপসমূহের সংক্ষিপ্ত রেখাচিত্র:
১. CO₂ গ্রহণ: রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট (RuBP) + CO₂ + H₂O --(রুবিসকো এনজাইম)--> অস্থায়ী কিটো এসিড (৬C)।
২. কিটো এসিড ভেঙে ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড (3-PGA) সৃষ্টি (৩C বিশিষ্ট প্রথম স্থায়ী পদার্থ)।
৩. 3-PGA থেকে ATP ও NADPH ব্যবহার করে ৩-ফসফোগ্লিসারালডিহাইড এবং ডাইহাইড্রক্সি অ্যাসিটোন ফসফেট তৈরি।
৪. ট্রায়োজ ফসফেটগুলোর বিভিন্ন রূপান্তরের মাধ্যমে গ্লুকোজ/সুক্রোজ সংশ্লেষণ এবং RuBP-এর পুনরুৎপাদন সম্পন্ন হয়।রেখাচিত্র সংক্ষেপে:
CO₂ + RuBP (5C) ---> অস্থায়ী কিটো এসিড (6C) ---> 3-ফসফোগ্লিসারিক এসিড (3C) ---> ট্রায়োজ ফসফেট ---> ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেট ---> গ্লুকোজ / স্টার্চ
(একই সাথে চক্রের মাধ্যমে RuBP-এর পুনরুৎপাদন ঘটে)। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম উদ্ভিদ (আম) হলো C3 উদ্ভিদ এবং ২য় উদ্ভিদ (ধান) হলেও উদ্দীপকের প্রেক্ষিতে দুটি উদ্ভিদের বিজারণ পথ পৃথক উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থাৎ আম উদ্ভিদে C3 চক্র (ক্যালভিন চক্র) এবং তুলনামূলক ভিন্ন বিজারণ পথ হিসেবে ধানের ক্ষেত্রে C3 ও C4 এর তুলনামূলক আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে আম উদ্ভিদের চক্রটি হলো C3 চক্র এবং উদ্দীপকে নির্দেশিত ভিন্ন চক্রটি হলো C4 চক্র (হ্যাস ও স্ল্যাক চক্র)। নিচে এদের তুলনা করা হলো:
১. প্রথম স্থায়ী পদার্থ: C3 চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো ৩-কার্বনবিশিষ্ট ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড (PGA)। পক্ষান্তরে, C4 চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালোঅ্যাসিটিক এসিড (OAA)।
২. প্রথম CO₂ গ্রাহক: C3 চক্রে CO₂ গ্রাহক হলো ৫-কার্বনবিশিষ্ট রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট (RuBP)। কিন্তু C4 চক্রে CO₂ গ্রাহক হলো ৩-কার্বনবিশিষ্ট ফসফোএনল পাইরুভিক এসিড (PEP)।
৩. ক্লোরোপ্লাস্টের ধরন: C3 উদ্ভিদের মেসোফিল কোষে একই ধরনের ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। কিন্তু C4 উদ্ভিদে ক্র্যাঞ্জ অ্যানাটমি দেখা যায়, যেখানে মেসোফিল কোষ এবং বান্ডল সিথ কোষে ভিন্ন ভিন্ন রূপের ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।
৪. কার্বক্সিলেশন এনজাইম: C3 চক্রের প্রধান এনজাইম রুবিসকো (RuBisCO), কিন্তু C4 চক্রে মেসোফিল কোষে PEP-কার্বক্সিলেজ এনজাইম কাজ করে।
৫. আলোক-শ্বসন (Photorespiration): C3 উদ্ভিদে উচ্চ আলো ও তাপে স্পষ্ট আলোক-শ্বসন ঘটে যা উদ্ভিদের উৎপাদন কমায়। C4 উদ্ভিদে আলোক-শ্বসন প্রায় অনুপস্থিত বা অত্যন্ত কম।
৬. উৎপাদনশীলতা: C4 চক্রের সালোকসংশ্লেষণের হার ও জৈব পদার্থ উৎপাদনের ক্ষমতা C3 চক্রের চেয়ে অনেক বেশি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও