পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

১৯৪০ সালে পাঞ্জাবের প্রধান শহরে একটি দলের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সমাবেশে তৎকালীন বাংলার একজন মহান নেতা এই অঞ্চলের মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার জন্য কিছু দাবি পেশ করেন। পরে দাবিগুলো বেশ পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীকালে ঘাটের দশকের মাঝামাঝিতে ঐ নেতার নেতৃত্বে এই অঞ্চলের প্রধান দলগুলো একত্র হয় এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। পূর্ব অংশের জনগণ তাদের ব্যাপক সমর্থন দেন এবং পূর্ব অংশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন।

  1. ক)

    ভাষা আন্দোলন কাকে বলে

    (1)
  2. খ)

    'কালরাত্রি' বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে যে প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে তার বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে পূর্ব বাংলার মানুষ যে আন্দোলন করেছিল, তাকে ভাষা আন্দোলন বলে।

  2. খ)

    'কালরাত্রি' বলতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতকে বোঝায়। এ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ ও পিলখানায় তারা নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এ রাতের নৃশংসতার কারণেই এটি 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।

  3. গ)

    উদ্দীপকে ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক আইনসভা নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। (উদ্দীপকে 'ঘাটের দশক' লেখা থাকলেও এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে দলগুলোর ঐক্য ও নির্বাচন ১৯৫৪ সালের ঘটনা।)

    ১. প্রেক্ষাপট: ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বৈষম্যমূলক শাসনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো যুক্তফ্রন্ট গঠন করে এবং ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

    ২. ফলাফল: মার্চ মাসের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের ২২৩টি লাভ করে এবং মুসলিম লীগ মাত্র কয়েকটি আসন পায়।

    ৩. পরিণতি: এ কে ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হন। তবে কিছুদিন পরই কেন্দ্রীয় সরকার ৯২-ক ধারা জারি করে প্রাদেশিক সরকার বাতিল করে দেয়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাবটি লাহোর প্রস্তাব (১৯৪০)। এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

    ১. উত্থাপন: ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে বাংলার নেতা এ কে ফজলুল হক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

    ২. ভৌগোলিক ভিত্তি: ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের কথা ছিল।

    ৩. স্বায়ত্তশাসন: প্রস্তাবে অঞ্চলগুলোকে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম ইউনিট হিসেবে গঠনের দাবি ছিল।

    ৪. সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা: সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সংখ্যালঘুদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার বিধান রাখার কথাও ছিল।

    সুতরাং, লাহোর প্রস্তাব মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানিয়েছিল, যা পরবর্তীকালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন