বাংলা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
11.1.
জ্ঞানচর্চায় বিজ্ঞান' বিষয়ের ওপর দুই বন্ধুর মধ্যকার সংলাপ রচনা করো।
11.2.
অথবা, 'মানুষ মানুষের জন্য' - এ শিরোনামে একটি খুদেগল্প রচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১১.১ 'জ্ঞানচর্চায় বিজ্ঞান' বিষয়ের ওপর দুই বন্ধুর সংলাপ:
স্থান: বিদ্যালয়ের পাঠাগার সংলগ্ন বারান্দা
চরিত্র: তানভীর ও সাজিদ (উভয়েই দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী)
তানভীর: কী রে সাজিদ! এত মনোযোগ দিয়ে কী বই পড়ছিস?
সাজিদ: আরে তানভীর, বোসো। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের একটি প্রবন্ধ পড়ছিলাম। চমৎকার একটা ভাবনা পেলাম—জ্ঞানচর্চায় বিজ্ঞানের ভূমিকা নিয়ে।
তানভীর: খুব ভালো বিষয়। কিন্তু অনেকে তো মনে করেন সাহিত্য, দর্শন বা ইতিহাসচর্চাই কেবল প্রকৃত জ্ঞানচর্চা, বিজ্ঞান তো মূলত প্রায়োগিক বিষয়।
সাজিদ: তা ঠিক নয়, তানভীর। বিজ্ঞান কেবল প্রযুক্তি বা আবিষ্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞান মূলত আমাদের চিন্তার পদ্ধতি। যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য অনুসন্ধান করাই বিজ্ঞানের মূল সুর। আর এটাই তো জ্ঞানচর্চার আসল ভিত্তি।
তানভীর: দারুণ বলেছিস! আসলে বিজ্ঞানচর্চা কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও অন্ধ অনুকরণ থেকে মানুষকে মুক্ত করে এবং অনুসন্ধিৎসু মনের জন্ম দেয়।
সাজিদ: একদম ঠিক। বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া মানবমন মুক্ত হতে পারে না। কোনো কিছুকে বিচার-বিশ্লেষণ না করে মেনে নেওয়া জ্ঞানের লক্ষণ নয়। বিজ্ঞান আমাদের প্রশ্ন করতে শেখায়—'কেন', 'কীভাবে'।
তানভীর: হ্যাঁ, সাহিত্য ও দর্শন যেমন আমাদের অনুভূতি ও মানবতাবোধকে শাণিত করে, বিজ্ঞান তেমনি আমাদের বাস্তবমুখী ও যুক্তিবাদী করে তোলে। দুইয়ের মিলনেই প্রকৃত মননশীলতা গড়ে ওঠে।
সাজিদ: যথার্থ বলেছিস। বর্তমান যুগে সমৃদ্ধ দেশ ও সমাজ গড়তে হলে তরুণ প্রজন্মকে বৈজ্ঞানিক মনস্তত্ত্বের অধিকারী হতে হবে। বিজ্ঞানমনস্ক জাতিই পারে প্রগতির পথে এগিয়ে যেতে।
তানভীর: চমৎকার আলোচনার জন্য ধন্যবাদ, সাজিদ। চল, ক্লাসের সময় হয়ে গেছে।
সাজিদ: তোমাকেও ধন্যবাদ, চল।
১১.২ অথবা, খুদেগল্প: 'মানুষ মানুষের জন্য'
শ্রাবণ মাসের একটানা প্রবল বর্ষণে তিস্তা ও যমুনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত করেছে। কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চরের বাসিন্দা রহমত আলীর ভিটেমাটি এখন পানির নিচে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় একটি উঁচু বাঁধে। সঙ্গে কোনো শুকনো খাবার নেই, নেই বিশুদ্ধ খাবার পানি। ছোট মেয়েটি ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদছে। চারদিকে শুধু অথই পানি আর বিপন্ন মানুষের হাহাকার। এমন দুর্যোগে পুরো চরে নেমে এসেছে এক গভীর অনিশ্চয়তা ও অন্ধকার।
পরদিন সকালে বাঁধে আশ্রিত মানুষের চোখে পড়ল দূরে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা বাঁধের দিকে এগিয়ে আসছে। নৌকায় কিছু তরুণ-তরুণী। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী—নাম 'স্পন্দন'। ছুটির দিনে নিশ্চিন্তে ঘরে বসে না থেকে তারা ছুটে এসেছে দুর্গত মানুষের পাশে। তারা সঙ্গে নিয়ে এসেছে চিঁড়া, গুড়, স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র।
দলের সদস্য শুভ রহমত আলীর হাতে খাবারের প্যাকেট তুলে দিতে দিতে পরম মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, "চাচা, ভয় পাবেন না। আমরা আপনাদের পাশে আছি। এই সামান্য খাবারটুকু রাখুন।"
রহমত আলীর চোখ দিয়ে আনন্দাশ্রু গড়িয়ে পড়ল। এক অচেনা তরুণের এমন মানবিক সহমর্মিতায় তার বুক ভরে গেল। তিনি কাঁপা গলায় বললেন, "বাবা, তোমরা আমাদের নিজেদের কেউ নও, তবু এত দূর থেকে আমাদের জন্য ছুটে এসেছ! আল্লাহ তোমাদের ভালো করুন।"
শুভ মৃদু হেসে বলল, "চাচা, ভূপেন হাজারিকার সেই অমর গানটি কি শোনেননি—'মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না?' আমরা তো শুধু মানুষের দায়িত্বটুকু পালন করার চেষ্টা করছি।"
প্রকৃতির রুদ্ররূপের কাছে মানুষ অসহায় হতে পারে, কিন্তু একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতার বন্ধনই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। রহমত আলীর ভেজা চোখে তখন নতুন করে বাঁচার প্রত্যয় স্পষ্ট হয়ে উঠল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও