‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

সুমন সুইজারল্যান্ড বেড়াতে যায়। সেই দেশের নিয়ম, শৃঙ্খলা এবং নাগরিকদের কর্তব্যবোধ দেখে সে মুগ্ধ। সুমন বলল, বাহ্! এই দেশের নাগরিকগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে যেমন সচেতন; তেমনি কর্তব্য সম্পর্কেও নিষ্ঠাবান।

  1. ক)

    অধিকার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    আইনের অনুশাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার এর মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সুমনের উক্তি, "এই দেশের নাগরিকগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে যেমন সচেতন; তেমনি কর্তব্য সম্পর্কেও নিষ্ঠাবান"- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও আত্মউন্নয়নের জন্য একান্ত অপরিহার্য।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইনের অনুশাসন (Rule of Law) বলতে বোঝায় আইনের প্রাধান্য বা সার্বভৌমত্ব। এর মূল অর্থ হলো আইনের চোখে সবাই সমান, কাউকে বিনাবিচারে বা আইনবহির্ভূতভাবে শাস্তি দেওয়া যাবে না এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় আইন সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে। অধ্যাপক ডাইসির মতে, আইনের অনুশাসন হলো আইনের প্রাধান্য, আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং ব্যক্তির মৌলিক স্বাধীনতার সংরক্ষণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:\n১. ধারণা ও উৎস: মানবাধিকার হলো জন্মগতভাবে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক অধিকার, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বজনীন। অন্যদিকে, মৌলিক অধিকার হলো রাষ্ট্রের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত অধিকার।\n২. রাষ্ট্রীয় পরিধি: মানবাধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত (যেমন- জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র), কিন্তু মৌলিক অধিকার একটি নির্দিষ্ট দেশের সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।\n৩. আইনি বাধ্যবাধকতা ও বলবৎযোগ্যতা: মৌলিক অধিকার সংবিধানে সন্নিবেশিত থাকায় এগুলো ক্ষুণ্ন হলে নাগরিকরা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে বিচার পেতে পারেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হলে সংশ্লিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি সমর্থন ছাড়া সরাসরি আদালতে তা বলবৎ করা প্রায়শই কঠিন।\nসুতরাং, সকল মৌলিক অধিকারই মূলত মানবাধিকার, কিন্তু সকল মানবাধিকার কোনো নির্দিষ্ট দেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে গৃহীত নাও হতে পারে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সুমনের উক্তিটি অধিকার ও কর্তব্যের পারস্পরিক সম্পর্ককে নিখুঁতভাবে নির্দেশ করে। পৌরনীতি ও সুশাসন অনুসারে অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর পরিপূরক এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত; একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।\n\nঅধিকার ভোগের জন্য নাগরিককে নিজ কর্তব্য পালন করতে হয়। সমাজে একজনের অধিকার ভোগ অন্যজনের কর্তব্য পালনের ওপর নির্ভরশীল। উদাহরণস্বরূপ, একজন নাগরিকের নিরাপদে চলার অধিকার তখনই নিশ্চিত হয়, যখন অন্য নাগরিকরা আইন মেনে চলেন। ঠিক তেমনি, রাষ্ট্র নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে বলেই রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকা, কর প্রদান করা ও আইন মেনে চলা নাগরিকের আবশ্যিক কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।\n\nউদ্দীপকে দেখা যায়, সুমন সুইজারল্যান্ড ভ্রমণকালে সেখানকার নাগরিকদের মধ্যে উচ্চ শৃঙ্খলাবোধ, সচেতনতা ও গভীর কর্তব্যবোধ প্রত্যক্ষ করে। সুইজারল্যান্ডের নাগরিকরা কেবল তাদের অধিকার ভোগের জন্যই সচেতন নয়, বরং রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে চলা এবং দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে সমাজকে সুশৃঙ্খল রাখতেও নিষ্ঠাবান।\n\nঅধিকার ছাড়া কর্তব্য যেমন দাসত্ব বা একনায়কতন্ত্রের জন্ম দেয়, তেমনি কর্তব্যহীন অধিকার সমাজে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা ডেকে আনে। তাই সুমনের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত—উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির মূল রহস্যই হলো নাগরিকদের অধিকার সচেতনতার পাশাপাশি নিজ নিজ কর্তব্যের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন