ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

আফনান সুদীর্ঘ ২৩ বছর কৃতিত্বের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করে তার ‘চিম্বুক' রাষ্ট্রটিকে স্বর্ণময় করে তুলেন । তিনি ছিলেন তার রাজবংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। বিদ্রোহ দমন, রাজ্য বিজয়, শাসন ব্যবস্থার সংস্কার, রাজস্ব বিভাগের পুনর্বিন্যাস প্রভৃতি ক্ষেত্রে তার অবদান অপরিসীম। দূরদর্শী ও মেধাবী এ শাসক অনেক রাজ্য জয় করেন। তবে ‘চেতন নগর' রাজ্য জয় ইতিহাসের পাতায় তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে। তার সেনাপতি সোহরাব তথায় একটি সুন্দর নগরী প্রতষ্ঠিা করেন। পরবর্তীতে আফনান তথায় তার রাজধানী স্থানান্তর করেন।

  1. ক)

    উত্তর আফ্রিকা ও মিসরে কে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন?

    (1)
  2. খ)

    দারুল হিকমা কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসক কর্তৃক 'চেতন নগর' রাজ্য জয়ের সাথে ফাতেমি খলিফা আল-মুইজের কোন দেশ বিজয়ের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসককে যদি তার বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা যায়, তাহলে আল-মুইজকে উত্তর আফ্রিকা ও মিসরের ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে অভিহিত করার যৌক্তিকতা তুলে ধরো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উত্তর আফ্রিকা ও মিসরে ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদি ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'দারুল হিকমা' বা 'জ্ঞানের গৃহ' হলো ফাতেমি খলিফা আল-হাকিম কর্তৃক ১০০৫ খ্রিস্টাব্দে কায়রোতে প্রতিষ্ঠিত একটি বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র ও একাডেমি।

    এখানে একটি বিশাল লাইব্রেরি ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ের গবেষণার সুব্যবস্থা ছিল। তৎকালীন সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, দর্শন ও ধর্মতত্ত্ব শিক্ষার পাশাপাশি বই পড়ার জন্য এটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। এটি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশে অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসক কর্তৃক 'চেতন নগর' রাজ্য জয়ের সাথে ফাতেমি খলিফা আল-মুইজের 'মিসর' বিজয়ের মিল রয়েছে।

    ফাতেমি খলিফা আল-মুইজ ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁর সুযোগ্য সেনাপতি জওহর আল-সিকিলির মাধ্যমে মিসর বিজয় সম্পন্ন করেন। মিসর বিজয়ের পর সেনাপতি জওহর সেখানে নতুন রাজধানী হিসেবে একটি চমৎকার নগরী গড়ে তোলেন, যার নাম রাখা হয় 'আল-কাহিরা' (বর্তমান কায়রো)। পরবর্তীতে ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে আল-মুইজ মাহদিয়া থেকে তাঁর রাজধানী কায়রোতে স্থানান্তর করেন।

    উদ্দীপকে আফনান তাঁর সেনাপতি সোহরাবের মাধ্যমে 'চেতন নগর' জয় করেন, সোহরাব সেখানে একটি নগর প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে আফনান সেখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। এই পুরো ঘটনাটি খলিফা আল-মুইজ কর্তৃক সেনাপতি জওহরের সাহায্যে মিসর বিজয় এবং কায়রো নগরী প্রতিষ্ঠার সাথে সম্পূর্ণরূপে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আল-মুইজকে উত্তর আফ্রিকা ও মিসরের ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে অভিহিত করা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

    আল-মুইজ ৯৫৩ থেকে ৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ তেইশ বছর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফাতেমি খিলাফত পরিচালনা করেন। তিনিই প্রথম ফাতেমি খলিফা যিনি ফাতেমি সাম্রাজ্যকে একটি আঞ্চলিক শক্তি থেকে সুবিশাল আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যে রূপান্তর করেন। তাঁর শাসনামলে ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত সেনাপতি জওহরের নেতৃত্বে মিসর বিজয় ফাতেমি ইতিহাসের সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। মিসর বিজয়ের পর মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র স্থানগুলোতেও ফাতেমি খিলাফতের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

    তিনি নতুন রাজধানী হিসেবে কায়রো নগরী এবং বিশ্বখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। শাসনব্যবস্থার সংস্কার, সুষ্ঠু রাজস্ব নীতি প্রণয়ন, ধর্মীয় পরমতসহিষ্ণুতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনি নৌবাহিনীকে পুনর্গঠিত করে ভূমধ্যসাগরে ফাতেমি প্রাধান্য বিস্তার করেন। তাঁর হাত ধরেই ফাতেমি সাম্রাজ্য উন্নতির স্বর্ণশিখরে পৌঁছায়। সুতরাং, অভ্যন্তরীণ সংস্কার, রাজ্য বিস্তার এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা বিবেচনায় আল-মুইজকে ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে গণ্য করা পুরোপুরি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন