ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. 'P' তার বাবার নামে রেজিস্ট্রিকৃত তিন তলা বাড়িতে থাকেন। ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনার কথা বিবেচনা করে মি. 'P' বাড়িটি বিমা কোম্পানির কাছে বিমা করতে গেলে তারা বিমা করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে মি. 'P' এর বাবা নিজেই বাড়িটি বিমা করেন। পরবর্তীতে মি. 'P' বিমা কোম্পানিকে না জানিয়ে বাড়ির চতুর্থ তলার কাজ শুরু করেন। এতে বাড়িটি বাম দিকে হেলে পড়ে এবং মি. 'P'-এর বাবা বিমা দাবি করলে বিমা কোম্পানি তা পূরণে অস্বীকৃতি জানায়।
- ক)(1)
স্থলাভিষিক্তকরণের নীতি কী?
- খ)(2)
বিমাকে ঝুঁকি বণ্টনের যৌথ ব্যবস্থা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন নীতির কারণে মি. 'P'-এর প্রস্তাবে বিমা কোম্পানি রাজি হয়নি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বিমা কোম্পানি জনাব 'P'-এর বাবাকে বিমা দাবি পূরণে অস্বীকৃতির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষতিপূরণ বিমায় বিমাকারী বিমাগ্রহীতার ক্ষতিপূরণ সম্পূর্ণ পরিশোধের পর ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি বা বিষয়বস্তু থেকে উদ্ধারকৃত অবশিষ্ট অংশের ওপর যে মালিকানা স্বত্ব অর্জন করে, তাকে স্থলাভিষিক্তকরণের নীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমা ব্যবস্থায় সমঝুঁকিসম্পন্ন অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রিমিয়াম দিয়ে গঠিত সাধারণ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় বলে বিমাকে ঝুঁকি বণ্টনের যৌথ ব্যবস্থা বলা হয়।
বিমার ক্ষেত্রে বহু বিমাগ্রহীতার দেওয়া ছোট ছোট প্রিমিয়াম একত্রিত হয়ে একটি বড় তহবিল গঠিত হয়। এই দলের সবার ক্ষেত্রে কিন্তু একই সাথে ক্ষতি সংঘটিত হয় না; বরং অল্প কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিমা কোম্পানি ওই যৌথ তহবিল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দেয়। ফলে একজনের একক বড় ক্ষতি সবার মধ্যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে বণ্টিত হয়ে যায়। এ কারণেই বিমাকে ঝুঁকি বণ্টনের যৌথ ব্যবস্থা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'বিমাযোগ্য স্বার্থের নীতি'র (Principle of Insurable Interest) কারণে মি. 'P'-এর প্রস্তাবে বিমা কোম্পানি রাজি হয়নি।
বিমাযোগ্য স্বার্থ বলতে বিমা বিষয়বস্তুর ওপর বিমাগ্রহীতার এমন এক আর্থিক স্বার্থ বা সম্পর্ককে বোঝায়, যার কারণে বিষয়বস্তুটি নিরাপদ থাকলে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান বা ঝুঁকিমুক্ত থাকেন এবং সেটি বিনষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি সরাসরি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিমাযোগ্য স্বার্থ না থাকলে বিমা চুক্তি আইনত বাতিল ও অকার্যকর হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাড়িটি মি. 'P'-এর বাবার নামে রেজিস্ট্রিকৃত। বাড়িটির আইনগত মালিকানা বাবার হওয়ায় বিমাযোগ্য আর্থিক স্বার্থ কেবল তাঁর বাবারই রয়েছে। মি. 'P' উক্ত বাড়িতে বসবাস করলেও আইনগত মালিকানা না থাকায় বাড়ির ওপর তাঁর প্রত্যক্ষ বিমাযোগ্য স্বার্থ ছিল না। তাই বিমাযোগ্য স্বার্থের নীতির কারণেই বিমা কোম্পানি মি. 'P'-এর সাথে বিমা চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বিমা কোম্পানি কর্তৃক জনাব 'P'-এর বাবাকে বিমা দাবি পূরণে অস্বীকৃতির সিদ্ধান্তটি 'চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের নীতি' ও 'শর্তভঙ্গ'-এর কারণে সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
বিমা চুক্তি হলো চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের (Utmost Good Faith) একটি চুক্তি। এই নীতি অনুযায়ী, চুক্তি সম্পাদনকালে এবং চুক্তি চলাকালীন উভয় পক্ষকেই বিমার বিষয়বস্তু ও ঝুঁকির প্রকৃতি সংক্রান্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করতে হয়। চুক্তি চলাকালে যদি বিমাগ্রহীতা এমন কোনো পরিবর্তন ঘটান যা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয় এবং তা বিমাকারীকে অবহিত না করেন, তবে তা সদ্বিশ্বাসের নীতি লঙ্ঘন এবং চুক্তিভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়। এমন অবস্থায় বিমাকারী ক্ষতিপূরণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারে।
উদ্দীপকে বাড়িটি তিন তলা থাকা অবস্থায় বিমা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিমা কোম্পানিকে কোনো প্রকার তথ্য না জানিয়ে বা অনুমতি না নিয়েই বাড়ির ওপর চতুর্থ তলার নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এই অপরিকল্পিত অতিরিক্ত লোড বা কাজের ফলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং বাড়িটি বাম দিকে হেলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়টি গোপন রেখে কাজ করায় চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের নীতি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং বিমাগ্রহীতার অবহেলা ও অননুমোদিত কাজের জন্যই ক্ষতি সংঘটিত হয়েছে। সুতরাং, বিমা কোম্পানি কর্তৃক জনাব 'P'-এর বাবার বিমা দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানানো সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও আইনসম্মত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও