রসায়ন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    কলয়েড কী?

    (1)
  2. খ)

    Rf এর মান 1 এর চেয়ে কম কেন?

    (2)
  3. গ)

    "A" এর কৌটাজাতকরণ প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    B এবং C খাদ্যের মধ্যে কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য অধিক নিরাপদ ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে অসমসত্ত্ব ও অদ্রবণীয় মিশ্রণে বিস্তৃত দশার কণাগুলোর ব্যাস সাধারণত ২ ন্যানোমিটার থেকে ৫০০ ন্যানোমিটার (বা ১ nm থেকে ১০০০ nm) সীমার মধ্যে থাকে এবং কণাগুলো বিস্তার মাধ্যমে সমানভাবে ছড়িয়ে স্থায়ী অবস্থায় থাকে, তাকে কলয়েড বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্রোমাটোগ্রাফিতে রিটার্ডেশন ফ্যাক্টর (RfR_f) হলো মূলরেখা থেকে উপাদান বা দ্রবণ কণা কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্ব এবং দ্রাবক সম্মুখভাগ কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্বের অনুপাত।

    অর্থাৎ, Rf=উপাদান কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্বদ্রাবক সম্মুখভাগ কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্বR_f = \frac{\text{উপাদান কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্ব}}{\text{দ্রাবক সম্মুখভাগ কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্ব}}

    ক্রোমাটোগ্রাফি চলাকালে দ্রাবক অবিচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত হয়ে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রম করে। কিন্তু মিশ্রণের উপাদানগুলো স্থির মাধ্যমের সাথে অধিশোষণ বা বিভাজনের কারণে সবসময় দ্রাবকের চেয়ে কম বা সর্বোচ্চ সমান দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে, কখনোই দ্রাবকের চেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে না। ফলে লব সবসময় হরের চেয়ে ছোট (বা তাত্ত্বিকভাবে সমান) থাকে। তাই বাস্তব ক্ষেত্রে RfR_f এর মান সবসময় ১ এর চেয়ে কম হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'A' পাত্রে রয়েছে ফলমূল ও শাক-সবজি। ফলমূল ও শাক-সবজির কৌটাজাতকরণ প্রক্রিয়াটি নিম্নলিখিত ধাপগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়:

    ১. খাদ্যবস্তু নির্বাচন ও প্রস্তুতকরণ: সতেজ, পরিপক্ব ও দাগমুক্ত ফলমূল বা শাকসবজি বাছাই করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধৌত করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী খোসা ছাড়িয়ে নির্দিষ্ট আকারে টুকরো করা হয়।
    ২. ব্লাঞ্চিং (Blanching): শাকসবজি বা ফলের টুকরোগুলোকে ৮২°–১০০°C তাপমাত্রার ফুটন্ত পানিতে বা বাষ্পে ২ থেকে ৫ মিনিট উত্তপ্ত করে দ্রুত ঠাণ্ডা পানিতে ডুবানো হয়। এর ফলে এনজাইমের কার্যকারিতা নষ্ট হয়, খাদ্যের বর্ণ ও স্বাদ অটুট থাকে এবং ক্ষতিকর অণুজীবের সংখ্যা হ্রাস পায়।
    ৩. ক্যানিং বা কৌটা প্রস্তুত ও ভর্তি করণ: পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত ধাতব ক্যানে প্রস্তুতকৃত ফল বা সবজির টুকরাগুলো সাজিয়ে ভরা হয়।
    ৪. তরল মাধ্যম (ক্যানিং লিকুইড) যোগ: ফলের ক্ষেত্রে সাধারণত ৩০%–৪০% চিনির সিরাপ এবং শাকসবজির ক্ষেত্রে ১%–২% লবণ দ্রবণ (ব্রাইন) গরম অবস্থায় কৌটায় এমনভাবে যোগ করা হয় যেন ওপরের দিকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইঞ্চি ফাঁকা জায়গা (Headspace) থাকে।
    ৫. এগজস্টিং (Exhausting): কৌটাটির ওপর আলগা ঢাকনা দিয়ে ৮০°–৯০°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে ভেতরের বাতাস বের করে দেওয়া হয়, যেন ভ্যাকুয়াম সৃষ্টি হয় এবং জারণ ক্রিয়া বন্ধ থাকে।
    ৬. সিলিং (Sealing): এগজস্টিং-এর পরপরই সিলিং মেশিনের সাহায্যে কৌটার মুখ সম্পূর্ণ বায়ু নিরোধকভাবে বন্ধ (সিল) করা হয়।
    ৭. স্টেরিলাইজেশন (জীবাণুমুক্তকরণ): সিল করা কৌটাগুলোকে ১০০°–১২১°C তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় ধরে উত্তপ্ত করে সব ধরনের জীবাণু ও তাদের স্পোর ধ্বংস করা হয়।
    ৮. শীতলীকরণ ও লেবেলিং: সবশেষে ক্যানগুলোকে দ্রুত ঠাণ্ডা পানিতে ডুবিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে লেবেল লাগিয়ে শুষ্ক ও শীতল স্থানে সংরক্ষণের জন্য রাখা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের B হলো প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ দ্বারা সংরক্ষিত খাদ্য এবং C হলো কৃত্রিম বা রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ দ্বারা সংরক্ষিত খাদ্য। এদের মধ্যে 'B' খাদ্য অর্থাৎ প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ দ্বারা সংরক্ষিত খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য অধিক নিরাপদ। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভের নিরাপদ ভূমিকা (খাদ্য B):
    খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভগুলো হলো লবণ, চিনি, ভিনেগার (অ্যাসিটিক অ্যাসিড), সরিষার তেল, হলুদ ইত্যাদি। এগুলো প্রাকৃতিকভাবেই খাদ্যদ্রব্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পরিবেশ সৃষ্টি করে। যেমন—লবণ ও চিনি অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য থেকে অতিরিক্ত পানি টেনে নিয়ে জীবাণুর কোষকে পানিশূন্য করে ধ্বংস করে; ভিনেগার মাধ্যমের pH কমিয়ে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে। যেহেতু এগুলো মানবদেহের পরিচিত প্রাকৃতিক উপাদান, এদের পরিমিত ব্যবহারে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদী বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয় না। ফলে খাদ্য B তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও পুষ্টিকর থাকে।

    ২. কৃত্রিম প্রিজারভেটিভের স্বাস্থ্যঝুঁকি (খাদ্য C):
    খাদ্য C-তে ব্যবহৃত কৃত্রিম প্রিজারভেটিভগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সোডিয়াম বেনজোয়েট, সরবেট, নাইট্রেট, নাইট্রাইট, সালফাইট, BHA, BHT ইত্যাদি। এসব কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমোদিত মাত্রা রয়েছে। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় কিংবা দীর্ঘকাল ধরে কৃত্রিম প্রিজারভেটিভযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করলে দেহে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। যেমন:

    • সোডিয়াম বেনজোয়েট ভিটামিন C-এর সাথে বিক্রিয়া করে ক্ষতিকর 'বেনজিন' গঠন করতে পারে, যা কার্সিনোজেনিক (ক্যান্সার সৃষ্টিকারী)।
    • নাইট্রেট ও নাইট্রাইট পাকস্থলীতে গিয়ে নাইট্রোসামিন তৈরি করে, যা পাকস্থলী ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।
    • সালফাইট হাঁপানি রোগীদের জন্য তীব্র অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি করে।
    • BHA ও BHT লিভার ও কিডনির ক্ষতিসাধন করতে পারে।

    সুতরাং, রাসায়নিক উপাদানের বিষাক্ততা ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির তুলনায় প্রাকৃতিক উপাদানের কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় B এবং C খাদ্যের মধ্যে 'B' খাদ্যটি স্বাস্থ্যের জন্য অধিক নিরাপদ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন