বাংলা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
4.
খ. দারিদ্র্য বিমোচনে 'নারীসমাজের ভূমিকা
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দারিদ্র্য বিমোচনে নারীসমাজের ভূমিকা
ভূমিকা:
একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো তার জনশক্তি। জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক অংশ নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে গৃহকোণে আবদ্ধ রেখে কিংবা তাদের শ্রম ও প্রতিভাকে অবমূল্যায়ন করে কোনো জাতির পক্ষেই অর্থনৈতিক মুক্তি বা দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। তাই বর্তমান বিশ্বে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূলধারায় নারীকে সম্পৃক্ত করা একটি অপরিহার্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য ও নারী:
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দারিদ্র্য এ দেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা। ঐতিহাসিকভাবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীরা অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতার শিকার হয়ে এসেছে। পরিবারে অভাব-অনটন দেখা দিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও শিশুরা। কিন্তু সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে নারীরা আজ পরিবার ও সমাজকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করছে।
দারিদ্র্য বিমোচনে নারীর বহুমুখী অবদান:
১. কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি: বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীরা কৃষিকাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বীজ সংরক্ষণ, ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ, হাঁস-মুরগি পালন, গবাদিপশু পালন, শাকসবজি চাষ এবং কুটির শিল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা পারিবারিক আয়ে সরাসরি সাহায্য করে দারিদ্র্য দূর করছেন।
২. পোশাক শিল্প ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প (গার্মেন্টস)। এ শিল্পের সিংহভাগ শ্রমিকই নারী। তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে এবং লাখ লাখ পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসছে।
৩. ক্ষুদ্রঋণ ও আত্মকর্মসংস্থান: গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা ইত্যাদি বিভিন্ন এনজিও এবং সরকারি ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা নিয়ে নারীরা আজ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। হস্তশিল্প, বুটিক, সেলাই, মাশরুম চাষ ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করছে।
৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ভূমিকা: শিক্ষিকা ও স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নারীরা সমাজে সচেতনতা তৈরি করছেন, যা পরিবার পরিকল্পনা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অবদান রেখে দারিদ্র্য বিমোচনে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখছে।
৫. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সমাজে বাল্যবিয়ে হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে।
প্রতিবন্ধকতা:
দারিদ্র্য বিমোচনে নারীদের অগ্রগতি সত্ত্বেও মজুরি বৈষম্য, সামাজিক কুসংস্কার, নিরাপত্তার অভাব, ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব তাদের পথকে কণ্টকাকীর্ণ করে রেখেছে।
উপসংহার:
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন, "আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি দেব।" একইভাবে বলা যায়, নারীকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারলে একটি দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব। তাই নারীশিক্ষা বিস্তার, কারিগরি প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে নারীর অর্থনৈতিক ভূমিকাকে আরও বেগবান করা প্রয়োজন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও