রসায়ন ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের রসায়ন ল্যাবরেটরিতে 0.01 g নমুনা 5 মিলি আয়তনের টেস্টটিউব এবং 40 মিলি আয়তনের বিকারক বোতল নিয়ে একটি পরীক্ষা করল। কাজ শেষে তাদের বর্জ্যগুলিকে তারা বিশেষ চিহ্নিত বোতলে রাখল। অন্য আরেকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা এই ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের বর্জ্যগুলি সরাসরি কলেজের পাশের জমিতে ফেলে দেয়।
- ক)(1)
মোলারিটি কাকে বলে?
- খ)(2)
ল্যাবরেটরিতে নিরাপদ চশমা ব্যবহার করা প্রয়োজন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম কলেজের ছাত্রদের ব্যবহৃত অ্যানালাইটিক্যাল পদ্ধতিটি বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
পরিবেশ বিবেচনায় দুটি কলেজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যাকে ঐ দ্রবণের মোলারিটি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ, তীব্র অ্যাসিড বা ক্ষারের ছিটেফোঁটা চোখের ভেতরে ঢুকে স্থায়ী ক্ষতি এমনকি অন্ধত্ব ঘটাতে পারে। এছাড়া কাচের যন্ত্রপাতি অসাবধানতাবশত ভেঙে বা উত্তপ্ত দ্রবণের বিস্ফোরণে কাচের টুকরো চোখে ছিটকে এসে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই চোখকে যেকোনো ধরনের রাসায়নিক বা শারীরিক আঘাত ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য ল্যাবরেটরিতে নিরাপদ চশমা বা সেফটি গগলস ব্যবহার করা অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম কলেজের শিক্ষার্থীরা নমুনার ভর হিসেবে 0.01 g (বা 10 mg), 5 mL টেস্টটিউব এবং 40 mL বিকারক বোতল ব্যবহার করেছে। নমুনার এই ক্ষুদ্র পরিমাণ নির্দেশ করে যে তারা সেমি-মাইক্রো বা মাইক্রো অ্যানালাইটিক্যাল পদ্ধতির অন্তর্গত কৌশল ব্যবহার করেছে (প্রধানত এখানে 0.01 g নমুনা নেওয়া হয়েছে যা সেমি-মাইক্রো ও মাইক্রো উভয় পরিসরেই বিবেচিত হতে পারে, তবে 5 mL টেস্টটিউব ও 0.01 g ভর মূলত 'সেমি-মাইক্রো' বা আধা-সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ পদ্ধতির সাথে সংগতিপূর্ণ)।
পদ্ধতিটির বর্ণনা:
১. নমুনায়নের সুবিধা: এই পদ্ধতিতে কঠিন নমুনা 0.005 g থেকে 0.05 g (বা 0.01 g থেকে 0.1 g) এবং তরল দ্রবণ 1-5 mL পরিসরে ব্যবহার করা হয়। ফলে অত্যন্ত স্বল্প পরিমাণে রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়।
২. সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্রের ব্যবহার: দ্রবণে গঠিত অধঃক্ষেপ পৃথক করার জন্য প্রচলিত ফিল্টার পেপারের পরিবর্তে সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, যার ফলে খুব দ্রুত ও নিখুঁতভাবে অবশেষ ও দ্রবণ পৃথক করা যায়।
৩. স্বল্প সময়ের বিশ্লেষণ: রাসায়নিকের আয়তন ও ভর কম হওয়ায় বিক্রিয়া খুব দ্রুত ঘটে এবং অল্প সময়ে ফলাফল পাওয়া যায়।
৪. বিষাক্ত গ্যাসের স্বল্পতা: ক্ষতিকর বা বিষাক্ত গ্যাস (যেমন H₂S) কম পরিমাণে উৎপন্ন হয়, যা পরিবেশ ও ল্যাবরেটরির বাতাস দূষণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দুটি কলেজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। পরিবেশের দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের এই ব্যবস্থার যথার্থতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
প্রথম কলেজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা:
প্রথম কলেজের শিক্ষার্থীরা কাজ শেষে রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি না ফেলে নির্দিষ্ট চিহ্নিত বোতলে সংরক্ষণ করেছে। ল্যাবরেটরির বর্জ্যে ভারী ধাতু, তীব্র অ্যাসিড, ক্ষার ও বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে। সেগুলোকে উপাদান অনুযায়ী আলাদা করে লেবেলযুক্ত বোতলে সংরক্ষণ করলে পরবর্তীকালে নিষ্ক্রিয়করণ (neutralization) বা পরিবেশসম্মত নিরাপদ উপায়ে অপসারণ বা পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হয়। এটি পরিবেশদূষণ রোধ করে এবং পানি ও মাটিকে বিষাক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। অতএব, প্রথম কলেজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটি বিজ্ঞানসম্মত, পরিবেশবান্ধব ও অত্যন্ত যথার্থ।দ্বিতীয় কলেজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা:
দ্বিতীয় কলেজের শিক্ষার্থীরা কোনো প্রক্রিয়াকরণ ছাড়াই সমস্ত রাসায়নিক বর্জ্য কলেজের পাশের জমিতে ফেলে দিয়েছে। এই অপরিকল্পিত বর্জ্য অপসারণের ফলে মাটি মারাত্মকভাবে দূষিত হয় এবং মাটির উর্বরতা ও উপকারী অণুজীব ধ্বংস হয়ে যায়। এছাড়া বৃষ্টির পানির সাথে এই বর্জ্য মিশে ভূগর্ভস্থ পানি এবং পার্শ্ববর্তী জলাশয়কে দূষিত করে, যা জলজ প্রাণী ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এটি পরিবেশ আইনেরও পরিপন্থী।সুতরাং, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সুরক্ষার বিবেচনায় প্রথম কলেজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ যথার্থ ও ইতিবাচক হলেও দ্বিতীয় কলেজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটি চরম অসচেতনতামূলক, ক্ষতিকর এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও