পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ক' রাষ্ট্রটি উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত। উত্তর অংশ সরকার পরিচালনা করত। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণের জনগণের ভাষাকে উপেক্ষা করে আরেকটি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেয়। এতে দক্ষিণের জনগণ প্রতিবাদ করে এবং আন্দোলন শুরু করে।
- ক)(1)
পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
- খ)(2)
পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদ কেন বাতিল করা হয়েছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তোমার পঠিত আন্দোলনের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তোমার পঠিত আন্দোলনের তাৎপূর্য বিশ্লেষণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদ দীর্ঘ সাত বছরেও কোনো সংবিধান প্রণয়ন করতে পারেনি। এছাড়া পরিষদের তৎকালীন কার্যকলাপ ও ক্ষমতাকে গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ নিজের কর্তৃত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি গণপরিষদের ব্যর্থতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দলের অজুহাত দেখিয়ে ১৯৫৪ সালের ২৪ অক্টোবর প্রথম গণপরিষদ বাতিল ঘোষণা করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আন্দোলনটি হলো ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক 'ভাষা আন্দোলন'।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেশটির মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৫৬ ভাগ বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ১৯৪৮ সালে জিন্নাহর 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা' ঘোষণার পর তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালে খাজা নাজিমুদ্দীন পুনরায় একই ঘোষণা দিলে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। এই রক্তের বিনিময়ে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলনটি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, যার তাৎপর্য ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী।
প্রথমত, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে। বাঙালিরা বুঝতে পারে যে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে তাদের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অনেক বেশি দৃঢ়। দ্বিজাতিতত্ত্বের অসারতা প্রমাণ করে এই আন্দোলন একটি ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী চেতনার সূচনা করে।
দ্বিতীয়ত, এটি ছিল পাকিস্তান সরকারের ঔপনিবেশিক মানসিকতা ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথম সফল গণআন্দোলন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগ পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।
অতএব, ভাষা আন্দোলন কেবল মুখের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বীজ বপনকারী এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও