যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
মুন্নি কুমিল্লার কোটবাড়িতে পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গিয়েছে। বিশাল পাহাড়ি জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে দূরে একটি গাছ দেখতে পেল। কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না যে, এটি কী গাছ? পরে সে গাছটির চারিদিকে ঘুরে দেখল যে, এটি একটি বট গাছ। বাড়িতে ফেরার পথে দেখল, বিভিন্ন জায়গায় অনেক পেয়ারা গাছ রয়েছে। কয়েকটি পেয়ারা গাছ থেকে পেয়ারার স্বাদ নিয়ে মুন্নি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো যে, পেয়ারা হয় সুস্বাদু।
- ক)(1)
আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য কোনটি?
- খ)(2)
যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
মুন্নির বটগাছের ধারণায় কোন ধরনের আরোহের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বটগাছ ও পেয়ারার ধারণায় যে আরোহের ইঙ্গিত রয়েছে তাদের পার্থক্য তুলে ধর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য বা প্রাণকেন্দ্র হলো 'আরোহমূলক লম্ফ' (Inductive Leap)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অনুমানে কোনো একটি বিশেষ দৃষ্টান্তের ক্ষেত্রে যা সত্য, যুক্তির সমতার ভিত্তিতে সেই শ্রেণির অন্যান্য দৃষ্টান্তের ক্ষেত্রেও তা সত্য বলে স্বীকার করে নেওয়া হয়, তাকে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ (Induction by Parity of Reasoning) বলে। এটি জ্যামিতিক প্রমাণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে দেখা যায়; যেমন— কোনো একটি নির্দিষ্ট সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের ভূমি সংলগ্ন কোণদ্বয় পরস্পর সমান প্রমাণ করে যুক্তিসাম্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে 'সকল সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের ভূমি সংলগ্ন কোণদ্বয় পরস্পর সমান'।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুন্নির বটগাছের ধারণায় অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত 'ঘটনা সংযোজন' (Colligation of Facts)-এর ইঙ্গিত রয়েছে।
কতিপয় প্রত্যক্ষকৃত বিচ্ছিন্ন বা খণ্ড খণ্ড তথ্যকে একটি মানসিক ধারণার সূত্রে একত্রিত করার প্রক্রিয়াকে ঘটনা সংযোজন বলে। উদ্দীপকে মুন্নি বিশাল পাহাড়ি জঙ্গলে দূর থেকে গাছটি স্পষ্ট চিনতে না পেরে গাছটির চারিদিকে ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করল। অতঃপর তার বিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণগুলোকে 'বটগাছ' নামক একটি সাধারণ ধারণায় যুক্ত করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাল যে এটি একটি বটগাছ। যেহেতু এখানে কোনো সার্বিক সিদ্ধান্ত স্থাপন করা হয়নি, বরং পর্যবেক্ষণকৃত অংশগুলোকে কেবল একটি প্রত্যয়ের অধীনে আনা হয়েছে, তাই এটি ঘটনা সংযোজন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বটগাছের ধারণায় 'ঘটনা সংযোজন' এবং পেয়ারার ধারণায় 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ' (বা প্রকৃত আরোহ)-এর ইঙ্গিত রয়েছে। তাদের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১. লম্ফের উপস্থিতি: পেয়ারার ধারণায় কয়েকটি পেয়ারার স্বাদ নিয়ে 'সকল পেয়ারা সুস্বাদু' সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে, অর্থাৎ এখানে জানা থেকে অজানায় যাওয়ার 'আরোহমূলক লম্ফ' রয়েছে। কিন্তু বটগাছের ধারণায় কেবল একটি নির্দিষ্ট গাছের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করে সেগুলোকে যুক্ত করা হয়েছে, কোনো আরোহমূলক লম্ফ ঘটেনি।
২. সিদ্ধান্তের সার্বিকতা: পেয়ারার ধারণাটিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে (সকল পেয়ারা হয় সুস্বাদু)। কিন্তু বটগাছের ক্ষেত্রে কেবল একটি একক বস্তুর গুণাবলিকে একত্রিত করে একটি একক বা বিশেষ ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
৩. প্রকৃত বনাম অপ্রকৃত রূপ: পেয়ারার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আরোহটি হলো প্রকৃত আরোহ (অবৈজ্ঞানিক আরোহ)। অন্যদিকে বটগাছের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ঘটনা সংযোজন হলো এক প্রকার অপ্রকৃত আরোহ।
৪. সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা: পেয়ারার সিদ্ধান্তটি অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করায় সম্ভাব্য (কারণ টক পেয়ারাও থাকতে পারে), কিন্তু বটগাছের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ সুনির্দিষ্ট হওয়ায় বটগাছ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত।
পরিশেষে বলা যায়, লক্ষ্য ও অনুমানের কাঠামোগত দিক থেকে বটগাছের ঘটনা সংযোজন এবং পেয়ারার অবৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও