অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি দেশ দীর্ঘদিন যাবত বিদেশিদের দ্বারা শাসিত ও শোষিত হয়েছে। দেশটি যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তার লড়াই অব্যাহত রয়েছে। দেশটি কৃষিপ্রধান হলেও তা অনুন্নত, শিল্পে অনগ্রসর, বিপুল জনসংখ্যা কিন্তু শিক্ষার হার কম, খাদ্য ঘাটতি, অনুন্নত আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো, প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা ইত্যাদি কারণে তার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। কিন্তু সরকার আর্থ- সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার ব্যাপক প্রসারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আশা করা যায় দেশটি দ্রুতই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন করতে সক্ষম হবে।

  1. ক)

    গ্রামীণ খাত কী?

    (1)
  2. খ)

    বিশ্বায়নের ফলে সৃষ্ট সুবিধাসমূহ কীরূপ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন দেশের অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে? এর বৈশিষ্ট্যগুলো লিখ।

    (3)
  4. ঘ)

    দেশটির অর্থনীতি সম্ভাবনাময়- তুমি কি এই ধারণার সাথে একমত? উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত ব্যক্ত কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রামাঞ্চলে গড়ে ওঠা কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, মৎস্য ও পশুসম্পদসহ গ্রামকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সামগ্রিক রূপই হলো গ্রামীণ খাত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বায়নের ফলে সমগ্র বিশ্ব একটি একক বাজারে বা বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে। এর ফলে অবাধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তির দ্রুত স্থানান্তর, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি গ্রহণ, শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণ ও বিশ্ববাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের বিপুল সুযোগ লাভ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে একটি অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

    উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্যের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
    ১. কৃষিপ্রধান অর্থনীতি: দেশের একটি বড় অংশ কৃষিনির্ভর হলেও তা সনাতন ও অনুন্নত পদ্ধতির কারণে উৎপাদনশীলতায় পিছিয়ে।
    ২. দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা ও নিরক্ষরতা: বিপুল জনসংখ্যা এবং অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষার হারের কারণে কার্যকর মানবসম্পদের ঘাটতি রয়েছে।
    ৩. শিল্পের অনগ্রসরতা ও মূলধনের স্বল্পতা: শিল্পায়নের গতি মন্থর এবং আধুনিক প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে।
    ৪. অনুন্নত আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো: পরিবহন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্বলতা বিদ্যমান।
    ৫. খাদ্য ঘাটতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা: খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার চ্যালেঞ্জ এবং প্রাকৃতিক উৎসের সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি এই ধারণার সাথে সম্পূর্ণ একমত যে দেশটির (বাংলাদেশের) অর্থনীতি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত দেশটির দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট, অনুন্নত কৃষি ও দুর্বল অবকাঠামোর মতো নানাবিধ সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতি অগ্রগতির নির্দেশক। উদ্দীপকে লক্ষ্য করা যায়, সরকার আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার ব্যাপক প্রসারে উদ্যোগ নিয়েছে।

    অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের রয়েছে বিপুল কর্মক্ষম জনশক্তি (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড)। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হলে দেশে ও বিদেশে উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে শিল্প ও সেবা খাতের বিকাশ দ্রুততর হচ্ছে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়ে খাদ্য উৎপাদনও দ্রুত বাড়ছে। সুতরাং, সরকারি উদ্যোগগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশটি অচিরেই কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হবে। অতএব, দেশটির অর্থনীতি নিঃসন্দেহে অমিত সম্ভাবনাময়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন