বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

একমাত্র সন্তান কাব্য বাক্প্রতিবন্ধী- বিষয়টি যখন জানলেন মিসেস শরীফা- একটুও ঘাবড়ালেন না; স্বামীকেও বোঝালেন। বাবা-মায়ের পরম স্নেহ-মমতা ও আদরযত্নে বেড়ে উঠতে লাগল কাব্য। একদিন মা লক্ষ করলেন ছেলে আপন মনে কাগজে আঁকিবুঁকি করছে; তিনি বুঝে গেলেন মুখে ভাষা না থাকলেও তুলির আঁচড়েই সে একদিন বিশ্বজয় করবে। স্বামীর সাথে পরামর্শ করে ছেলের আঁকা-আঁকির জন্য যা যা করা দরকার সব করলেন। আজ দেশে-বিদেশে কাব্যের আঁকা ছবি প্রদর্শনী হচ্ছে; বিক্রি হচ্ছে বহুমূল্যে।

  1. ক)

    বাবা-মা'র কোন আয়োজন দেখে সুভার হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে উঠেছিল?

    (1)
  2. খ)

    'তুমি আমাকে যাইতে দিয়ো না, মা।'- সুভার এই অভিব্যক্তি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    কাব্যের বাবা-মায়ের সাথে 'সুভা' গল্পের বাবা-মায়ের বৈসাদৃশ্য দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    'উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে কাব্যের মতো সুভাও সমাজের একজন হয়ে উঠতে পারত।'- যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কলকাতা যাত্রার আয়োজন দেখে সুভার হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে উঠেছিল।

  2. খ)

    সুভা বাকপ্রতিবন্ধী, তাই মুখে কিছু বলতে পারে না। কলকাতা যাত্রার আয়োজন দেখে সে বুঝতে পারে, তাকে প্রিয় গ্রাম, প্রকৃতি ও পরিচিত জগৎ ছেড়ে অচেনা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সে মায়ের কাছে আশ্রয় চায়, কিন্তু ভাষা না থাকায় নিজের ব্যথা বলতে পারে না। ‘তুমি আমাকে যাইতে দিয়ো না, মা’—এই অভিব্যক্তির মধ্য দিয়ে তার বুকভরা আকুতি, ভয় ও অসহায়তা প্রকাশ পেয়েছে, যা তার চোখের ভাষায় ফুটে উঠেছে।

  3. গ)

    উদ্দীপকে কাব্যের বাবা-মা সন্তানের প্রতিবন্ধিতা মেনে নিয়ে তাকে আদর-যত্নে বড় করেছেন। মা তার আঁকার প্রতিভা বুঝতে পেরে বাবার সাথে পরামর্শ করে সব ব্যবস্থা করেছেন। ফলে কাব্য সফল শিল্পী হয়েছে।

    অন্যদিকে ‘সুভা’ গল্পের বাবা-মা সুভাকে ঠিকভাবে বুঝতে চেষ্টা করেননি। মা সুভাকে নিজের গর্ভের একটি ত্রুটি বা কলঙ্ক বলে মনে করতেন। বাবা তাকে স্নেহ করলেও তার ভেতরের অনুভূতি বুঝে তার বিকাশের কোনো ব্যবস্থা করেননি। সুভার মনের ইচ্ছাকে গুরুত্ব না দিয়ে তারা তাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেন।

    অর্থাৎ কাব্যের বাবা-মা সহানুভূতিশীল ও সচেতন, আর সুভার বাবা-মা অবহেলা ও অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন।

  4. ঘ)

    মন্তব্যটি যথার্থ। উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে সুভাও সমাজের একজন হয়ে উঠতে পারত।

    ১. সংবেদনশীল মন: সুভা বাকপ্রতিবন্ধী হলেও তার অনুভূতি ছিল গভীর। সে প্রকৃতি ও গৃহপালিত প্রাণীর সাথে নীরব ভাবের আদান-প্রদান করত। এই সম্ভাবনাকে বিকশিত করা যেত।
    ২. পরিবারের অবহেলা: কাব্যের মা ছেলের প্রতিভা চিনে সহায়তা করেছেন। কিন্তু সুভার মা তাকে কলঙ্ক ভেবে অবহেলা করেছেন। সুভা শিক্ষা বা ভাব প্রকাশের কোনো সুযোগ পায়নি।
    ৩. সামাজিক সংস্কার: সমাজ প্রতিবন্ধীকে বোঝা মনে করে এবং বিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চায়। সুভাকেও তাই করা হয়েছে। সহায়ক পরিবেশ পেলে সে নিজের মতো করে সমাজে অবদান রাখতে পারত।

    সুতরাং, কাব্য উপযুক্ত পরিচর্যা পেয়ে সফল হয়েছে; সুভাও তেমন সুযোগ পেলে সমাজের একজন হয়ে উঠতে পারত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন