জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্ভিদ 'P' ও 'Q' প্রক্রিয়ায় খনিজ লবণ শোষণ করে। বিপাকীয় শক্তির ব্যবহারের উপর নির্ভর করে 'P' প্রক্রিয়ায় শ্বসন হার বৃদ্ধি পেলেও 'Q' প্রক্রিয়ায় শ্বসন হার স্বাভাবিক থাকে।

  1. ক)

    ম্যাক্রোমৌল কী?

    (1)
  2. খ)

    'ডোনান সাম্যাবস্থা' বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'P' প্রক্রিয়াটি আধুনিক মতবাদের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'P' ও 'Q' প্রক্রিয়ায় দুটি বৈসাদৃশ্যময়-বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য যে অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদানগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণে প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোমৌল বা ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোষঝিল্লির অভ্যন্তরে কিছু অবিভাজ্য বা অবিব্যাপ্য (non-diffusible) স্থির আয়ন থাকলে, কোষের ভেতরে ও বাইরের তড়িৎ নিরপেক্ষতা বা সাম্যাবস্থা বজায় রাখার জন্য ঝিল্লির বাইরে থেকে বিপরীত আধানযুক্ত ব্যাপনক্ষম ক্যাটায়ন বা অ্যানায়নের যে অতিরিক্ত ব্যাপন ঘটে এবং ভেতরের ও বাইরের ব্যাপনক্ষম আয়নের গুণফল সমান হয়, তাকে ডোনান সাম্যাবস্থা (Donnan Equilibrium) বলে। বিজ্ঞানী এফ. জি. ডোনান ১৯১১ সালে এ তত্ত্ব প্রদান করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'P' প্রক্রিয়াটি হলো খনিজ লবণের 'সক্রিয় শোষণ', কারণ এতে প্রত্যক্ষভাবে বিপাকীয় শক্তি ব্যবহৃত হয় এবং শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়।

    সক্রিয় শোষণের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য আধুনিক মতবাদটি হলো 'প্রোটন-অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট মতবাদ' (Proton-Anion Co-transport Theory বা কেমিওসমোটিক মডেল):
    ১. প্লাজমামেমব্রেনে অবস্থিত ATP-ase এনজাইম বিপাকীয় শক্তি (ATP) ভেঙে ADP ও অজৈব ফসফেটে পরিণত করে এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত শক্তি ব্যবহার করে কোষের ভেতর থেকে প্রোটন (H⁺) বাইরে বের করে দেয়।
    ২. এর ফলে কোষের বাইরে H⁺-এর ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং কোষের ভেতরে ও বাইরে একটি প্রোটন নতিমাত্রা (Proton gradient) ও তড়িৎ রাসায়নিক নতিমাত্রা (Electrochemical gradient) তৈরি হয়, যাকে প্রোটন মোটিভ ফোর্স (PMF) বলে।
    ৩. এই তড়িৎ রাসায়নিক প্রবণতার কারণে বহিঃস্থ ক্যাটায়ন (যেমন- K⁺) মেমব্রেনের নির্দিষ্ট আয়ন চ্যানেল বা প্রোটিন ক্যারিয়ার দিয়ে সহজেই কোষের ভেতরে প্রবেশ করে।
    ৪. অপরদিকে, প্রোটন (H⁺) যখন পুনরায় কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে চায়, তখন এটি অ্যানায়নকে (যেমন- NO₃⁻, Cl⁻ ইত্যাদি) সাথে নিয়ে একটি সিমপোর্ট (Symport) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাহক প্রোটিনের সহায়তায় কোষে প্রবেশ করায়।
    এভাবেই আধুনিক কেমিওসমোটিক পদ্ধতিতে শক্তি ব্যয়ের মাধ্যমে আয়ন শোষিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'P' প্রক্রিয়াটি হলো সক্রিয় শোষণ এবং 'Q' প্রক্রিয়াটি হলো নিষ্ক্রিয় শোষণ। নিম্নে এদের বৈসাদৃশ্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বিপাকীয় শক্তির ব্যবহার: সক্রিয় শোষণে (P) প্রত্যক্ষভাবে বিপাকীয় শক্তি (ATP) ব্যবহৃত হয়। পক্ষান্তরে, নিষ্ক্রিয় শোষণে (Q) বিপাকীয় শক্তির কোনো প্রত্যক্ষ ব্যবহার ঘটে না।
    ২. শ্বসন হার: 'P' প্রক্রিয়ায় শক্তির প্রয়োজনীয়তার কারণে উদ্ভিদের শ্বসন হার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু 'Q' প্রক্রিয়ায় শক্তির কোনো প্রয়োজন না থাকায় শ্বসন হার স্বাভাবিক থাকে।
    ৩. ঘনত্বের নতিমাত্রা: সক্রিয় শোষণ আয়নগুলোর ঘনত্বের নতিমাত্রার বিপরীতে (কম ঘনত্ব থেকে বেশি ঘনত্বের দিকে) ঘটতে পারে। কিন্তু নিষ্ক্রিয় শোষণ সর্বদা ঘনত্বের নতিমাত্রা অনুযায়ী (বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে) ঘটে।
    ৪. বাহক অণু ও এনজাইমের ভূমিকা: সক্রিয় শোষণে বাহক প্রোটিন বা সাইটোক্রোম এবং ATP-ase ও ডিহাইড্রোজিনেজ জাতীয় এনজাইমের প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকে। কিন্তু নিষ্ক্রিয় শোষণে কোনো এনজাইমের ভূমিকা নেই এবং ব্যাপন বা অভিস্রবণের মাধ্যমে আয়ন প্রবেশ করে।
    ৫. বিষাক্ত পদার্থের প্রভাব: শ্বসন প্রতিরোধক পদার্থ বা বিষাক্ত রাসায়নিক (যেমন- সায়ানাইড) প্রয়োগ করলে 'P' প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে বন্ধ বা হ্রাস পায়, কিন্তু 'Q' প্রক্রিয়া এতে সরাসরি প্রভাবিত হয় না।

    অতএব, উদ্দীপকের প্রক্রিয়া দুটি কার্যপ্রণালী, শক্তির প্রয়োজনীয়তা ও শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে সুস্পষ্টভাবে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন