যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

যুক্তি-১ : সব দার্শনিক হন উদার সক্রেটিস হন দার্শনিক অতএব, সক্রেটিস হন উদার।
যুক্তি-২:সক্রেটিস হন উদার ।প্লেটো হন উদার ।রাসেল হন উদার।অতএব, সব দার্শনিক হন উদার।

  1. ক)

    আরোহের ভিত্তি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'অনুমান একটি মানসিক প্রক্রিয়া’– বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    যুক্তি-১ এ প্রতিফলিত অনুমানের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    যুক্তি-১ ও যুক্তি-২ অনুমান প্রক্রিয়ার পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়, সেগুলোকে আরোহের ভিত্তি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অনুমান হলো একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বা মানসিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জানা বা প্রত্যক্ষ সত্যের ওপর নির্ভর করে কোনো অজানা বা অপ্রত্যক্ষ সত্যে উপনীত হওয়া যায়। যেহেতু এই রূপান্তর বা চিন্তার কাজটি মানুষের মনের অভ্যন্তরে ঘটে এবং ভাষায় প্রকাশের পূর্বে এটি ভাবনারূপে সক্রিয় থাকে, তাই অনুমানকে একটি মানসিক প্রক্রিয়া বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তি-১-এ প্রতিফলিত অনুমানটি হলো 'অবরোহ অনুমান' (Deductive Inference)।
    উদ্দীপকের যুক্তি-১:
    সব দার্শনিক হন উদার (সার্বিক)
    সক্রেটিস হন দার্শনিক (বিশেষ)
    অতএব, সক্রেটিস হন উদার (বিশেষ)

    উক্ত অনুমানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. সার্বিক থেকে বিশেষে গমন: অবরোহ অনুমানে সার্বিক নিয়ম বা সিদ্ধান্ত থেকে বিশেষ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হয়। এখানে 'সব দার্শনিক' থেকে 'সক্রেটিস' নামক নির্দিষ্ট ব্যক্তিতে আসা হয়েছে।
    ২. সিদ্ধান্তের সংকীর্ণতা বা সমব্যাপকতা: অবরোহের সিদ্ধান্ত কখনোই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হতে পারে না; এটি আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক বা সমান ব্যাপক হয়।
    ৩. আকারগত সত্যতার ওপর গুরুত্ব: অবরোহ অনুমানের মূল লক্ষ্য হলো নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা। এখানে আশ্রয়বাক্য দুটি সত্য হলে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবেই সত্য হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের যুক্তি-১ হলো অবরোহ অনুমান এবং যুক্তি-২ হলো আরোহ অনুমান। নিচে এদের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. গতিপ্রকৃতি বা অভিমুখ:
    যুক্তি-১ (অবরোহ)-এ চিন্তা সার্বিক সত্য থেকে বিশেষ সত্যে গমন করে। যেমন- 'সব দার্শনিক' থেকে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি 'সক্রেটিস'-এর দিকে যাওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে, যুক্তি-২ (আরোহ)-এ কতিপয় বিশেষ সত্য (সক্রেটিস, প্লেটো, রাসেল) পর্যবেক্ষণ করে একটি সার্বিক সত্য ('সব দার্শনিক হন উদার') প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

    ২. সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা:
    অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হতে পারে না; এটি কম ব্যাপক বা সমব্যাপক হয়। কিন্তু আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সর্বদা আশ্রয়বাক্যগুলোর চেয়ে অধিক ব্যাপক হয়, কারণ কতিপয় ব্যক্তি থেকে সমগ্র শ্রেণীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত টানা হয়।

    ৩. আরোহমূলক লম্ফ:
    যুক্তি-২ বা আরোহ অনুমানে জানা থেকে অজানায় যাওয়ার একটি ঝুঁকি বা লম্ফ (inductive leap) বিদ্যমান থাকে, যা যুক্তি-১ বা অবরোহ অনুমানে থাকে না।

    ৪. সত্যতার ধরন:
    যুক্তি-১ প্রধানত আকারগত সত্যতা (formal truth) নিশ্চিত করে। আর যুক্তি-২ আকারগত ও বস্তুগত সত্যতা (material truth) উভয়কেই প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে।

    সুতরাং, যুক্তি-১ এবং যুক্তি-২ চিন্তার গতি, ব্যাপকতা এবং পদ্ধতির দিক থেকে পরস্পর বিপরীতমুখী ও পৃথক অনুমান প্রক্রিয়া।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন