ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব আরিফ ও তার ছয় বন্ধু একত্রিত হয়ে ৯০ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে আনন্দ ট্রেডার্স নামে একটি ব্যবসায় গঠন করেন। আরিফ ও তার বন্ধু রিপন পরিচালক নিযুক্ত হন। তাদের সঠিক পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়েই সফলতার মুখ দেখে। পরবর্তীতে তারা পরিচালকের সংখ্যা ও মূলধন বাড়ানোসহ ব্যবসায়টি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন। এ লক্ষ্যে তারা উচ্চহার সুদের ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে জনগণের মাঝে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।
- ক)(1)
পরিমেল নিয়মাবলি কী?
- খ)(2)
কোম্পানির চিরন্তন অস্তিত্ব বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ১ম ও ২য় পর্যায়ের ব্যবসায়ের মধ্যে কোনটি অর্থনীতিতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন যে দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে, তাকে পরিমেল নিয়মাবলি বা সংঘবিধি (Articles of Association) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোম্পানির চিরন্তন অস্তিত্ব বলতে বোঝায় আইনের দ্বারা সৃষ্ট এমন কৃত্রিম সত্তা, যার বিলোপ কোনো শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যু, দেউলিয়াত্ব বা শেয়ার হস্তান্তরের কারণে ঘটে না।
যৌথমূলধনী কোম্পানি আইন দ্বারা গঠিত ও নিবন্ধিত হওয়ায় এটি আইনগত স্বতন্ত্র ব্যক্তিসত্তার অধিকারী হয়। মালিকদের থেকে কোম্পানি আলাদা হওয়ায় শেয়ারমালিকদের যেকোনো পরিবর্তন হলেও কোম্পানির অস্তিত্বের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। কেবল আইনগত নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়া কোম্পানির বিলোপসাধন ঘটে না, একেই চিরন্তন অস্তিত্ব বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি হলো প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।
যে কোম্পানিতে সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ থাকে, জনসাধারণের নিকট শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয়ের আহ্বান জানানো যায় না এবং শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয়, তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আরিফ ও তার ছয় বন্ধু মিলে মোট ৭ জন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে ৯০ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে 'আনন্দ ট্রেডার্স' নামে প্রতিষ্ঠানটি গঠন করেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ছিলেন মাত্র ২ জন (আরিফ ও রিপন)। আইন অনুযায়ী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিচালকের সর্বনিম্ন সংখ্যা ২ জন। শুরুতে তারা জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করেননি এবং নিজেদের মধ্যেই মূলধন সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। সদস্য সংখ্যা ৭ জন এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার এ ধরনের রূপ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। সুতরাং, প্রথম পর্যায়ে এটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম পর্যায় (প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি) ও ২য় পর্যায় (পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি)-এর মধ্যে ২য় পর্যায়ের ব্যবসায়টি অর্থনীতিতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে আরিফ ও তার বন্ধুরা প্রথমে ৭ জন মিলে ৯০ কোটি টাকা নিয়ে ব্যবসায় শুরু করেন, যা পরবর্তীতে জনগণের মাঝে শেয়ার বিক্রি করে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি নিম্নলিখিত কারণে অর্থনীতিতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে:
১. বিপুল মূলধন সংগ্রহ: পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বাজারে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি করে সাধারণ মানুষের অলস ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে একত্র করে বৃহদায়তন মূলধন গঠন করতে পারে, যা প্রাইভেট কোম্পানির পক্ষে সম্ভব নয়।
২. বৃহৎ মাত্রার উৎপাদন ও ব্যয় সংকোচন: অধিক মূলধনের সাহায্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বড় আকারে উৎপাদন করা সম্ভব হয়, ফলে পণ্যের একক প্রতি উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায় এবং ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পায়।
৩. ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি: ব্যবসা সম্প্রসারিত হলে বিপুল সংখ্যক দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে ভূমিকা রাখে।
৪. জাতীয় আয় ও রাজস্ব বৃদ্ধি: বৃহদায়তন কারবারের ফলে দেশের জিডিপি বৃদ্ধি পায় এবং কোম্পানি ও শেয়ারহোল্ডারদের থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ও কর পেয়ে থাকে।
৫. সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ: সাধারণ জনগণ শেয়ার কিনে সরাসরি বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে, যা দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করে।অতএব, পরিধি, সক্ষমতা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির প্রভাব বিবেচনায় ১ম পর্যায়ের চেয়ে ২য় পর্যায়ের পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি দেশের অর্থনীতিতে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও