ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
বাণিজ্য বায়ু কাকে বলে?
- খ)(2)
"গোধূলি অঞ্চল" বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' অঞ্চলে নিম্নচাপের কারণ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারাবছর নিয়মিতভাবে প্রবাহিত নিয়ত বায়ুকে বাণিজ্য বায়ু (Trade Wind) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সূর্যাস্তের পর বা সূর্যোদয়ের পূর্বে বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণা দ্বারা বিক্ষিপ্ত আলোর কারণে ভূ-পৃষ্ঠে যে মৃদু আলোর সৃষ্টি হয়, তাকে গোধূলি বলে। যেসব ভৌগোলিক অঞ্চলে পৃথিবীর অক্ষের আনতি ও আহ্নিক গতির কারণে সূর্য দিগন্তের নিচে দীর্ঘক্ষণ তির্যকভাবে অবস্থান করে এবং এই গোধূলির আলো বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়, সেই অঞ্চলকে 'গোধূলি অঞ্চল' বলা হয়। সাধারণত উচ্চ অক্ষাংশীয় অঞ্চলে গোধূলির স্থায়িত্বকাল অনেক বেশি থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' অঞ্চলটি হলো নিরক্ষীয় অঞ্চল (০° থেকে ৫°/১০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ)। এই অঞ্চলে নিম্নচাপ সৃষ্টির প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. লম্বভাবে সূর্যালোক পতন: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য সারাবছর প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এখানকার বায়ু প্রচণ্ড উত্তপ্ত ও প্রসারিত হয়ে হালকা হয় এবং উপরে উঠে যায়, যার ফলে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
২. জলভাগের আধিক্য ও জলীয় বাষ্প: নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের পরিমাণ বেশি। অতিরিক্ত তাপে বিপুল পরিমাণ পানি বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুতে মিশে যায়। জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু শুষ্ক বায়ুর চেয়ে হালকা হওয়ায় তা বায়ুর চাপ কমিয়ে দেয়।
৩. পৃথিবীর আবর্তন বেগ: পৃথিবীর আকার গোলকাকার হওয়ায় নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ সবচেয়ে বেশি। এই অধিক কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে এখানকার উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু সহজেই উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ছিটকে যায়, ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছরই একটি স্থায়ী নিম্নচাপ বলয় বিরাজ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে 'খ' অঞ্চলটি উত্তর গোলার্ধের ৩০° থেকে ৪৫° অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত, যা মূলত ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলকে নির্দেশ করে। এই জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. আর্দ্র ও বৃষ্টিবহুল শীতকাল: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো শীতকালে বৃষ্টিপাত হওয়া। শীতকালে সূর্যের দক্ষিণায়নের ফলে পশ্চিমা বায়ু বলয় বিষুবরেখার দিকে সরে আসে এবং সমুদ্র থেকে আর্দ্র পশ্চিমা বায়ু প্রবেশ করে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
২. শুষ্ক ও উষ্ণ গ্রীষ্মকাল: গ্রীষ্মকালে সূর্যের উত্তরায়ন ঘটলে এ অঞ্চল উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় ও উত্তর-পূর্ব বাণিজ্য বায়ুর অধীনে চলে আসে। স্থলভাগ থেকে আসা শুষ্ক বাণিজ্য বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকাল সম্পূর্ণ শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকে।
৩. নাতিশীতোষ্ণ ও মনোরম আবহাওয়া: এ অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণত মৃদু ভাবাপন্ন। গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা ২১° সে. থেকে ২৭° সে. এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা ৫° সে. থেকে ১০° সে. এর মধ্যে থাকে।
৪. রৌদ্রকরোজ্জ্বল আকাশ: বছরের অধিকাংশ সময়ই আকাশ মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার থাকে, ফলে এখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর ও মনোরম।
৫. রসালো ফলের উৎপাদন: শীতকালীন বৃষ্টিপাত ও মৃদু আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলটি জলপাই, আঙুর, কমলা, লেবু, ডুমুর প্রভৃতি রসালো ফলের জন্য পৃথিবীবিখ্যাত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও