ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. সুমন একজন জেনারেল ম্যানেজার। তিনি কারখানায় বিভাগীয় প্রধানদের সাথে প্রায়শই সভা করেন। সকলের পরামর্শ শোনেন এবং করণীয় নির্বাচন করেন। কিন্তু কারাখানায় উৎপাদন ব্যবস্থাপক কারও সাথে আলাপ না করে নিজেই লক্ষ্য নির্ধারণ করেন এবং ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কাজ আদায় করেন। প্রথমদিকে কারাখানায় উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও পরে তা কমে যায়।

  1. ক)

    নেতৃত্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    লক্ষ্য অর্জনে নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মি. সুমনের নেতৃত্বের ধরন ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উৎপাদন ব্যবস্থাপকের নেতৃত্বের ধরনটি তুমি কি সমর্থন কর ? যুক্তি সহকারে ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দল বা গোষ্ঠীর আচরণ ও কাজকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দিকে পরিচালিত ও প্রভাবিত করার কৌশল বা সামর্থ্যকে নেতৃত্ব বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে নেতৃত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

    উপযুক্ত নেতৃত্ব কর্মীদের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন করে, তাদের কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত করে এবং সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। যোগ্য নেতার উপস্থিতি ছাড়া প্রতিষ্ঠানের মানবীয় ও বৈষয়িক উপকরণের সঠিক সমন্বয় সম্ভব হয় না, ফলে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মি. সুমনের নেতৃত্বে 'গণতান্ত্রিক বা অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব' ফুটে উঠেছে।

    যে নেতৃত্ব শৈলীতে নেতা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধস্তনদের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করেন, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ পরিচালনা করেন, তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে।

    উদ্দীপকের জেনারেল ম্যানেজার মি. সুমন কারখানায় বিভাগীয় প্রধানদের সাথে নিয়মিত সভা করেন, সবার মতামত ও পরামর্শ শোনেন এবং তা পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানের করণীয় নির্ধারণ করেন। কর্মীদের সিদ্ধান্তে সম্পৃক্ত করার এই মানসিকতা গণতান্ত্রিক বা অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের পরিচায়ক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    না, উদ্দীপকে উৎপাদন ব্যবস্থাপকের স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের ধরনটি আমি সমর্থন করি না।

    যে নেতৃত্ব ব্যবস্থায় নেতা অধস্তনদের সাথে কোনো পরামর্শ না করে সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেন, কর্মীদের মতামতের মূল্য দেন না এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জোরপূর্বক কাজ আদায় করেন, তাকে স্বৈরতান্ত্রিক বা প্রভুত্বমূলক নেতৃত্ব বলে।

    উদ্দীপকে কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাপক কারও সাথে আলোচনা না করে নিজেই লক্ষ্য নির্ধারণ করেন এবং ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে শ্রমিকদের থেকে কাজ আদায় করেন। এই ব্যবস্থার ফলে সাময়িকভাবে কঠোর নজরদারির কারণে উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেয়, প্রতিষ্ঠানে অসন্তোষ সৃষ্টি করে এবং উৎপাদন হ্রাস ঘটায়। উদ্দীপকেও দেখা গেছে প্রথমদিকে কিছুটা বাড়লেও পরবর্তী সময়ে উৎপাদন কমে যায়।

    স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব কর্মীদের আত্মমর্যাদাবোধ ক্ষুণ্ন করে, কাজের স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণা নষ্ট করে এবং শ্রমিক-ব্যবস্থাপনা সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। একটি টেকসই কর্মপরিবেশ ও দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতার স্বার্থে এই ধরনের নেতৃত্ব একেবারেই অনুপযোগী ও অগ্রহণযোগ্য। তাই উৎপাদন ব্যবস্থাপকের এই নেতৃত্ব ধরনটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন