জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
রবিন তাদের আলুক্ষেতে কিছু আলুর পাতার কিনারায় ছোট ছোট সবুজ-ধূসর বর্ণের পানিভেজা দাগ এবং কিছু পাতায় কালচে দাগসহ পচন দেখতে পেল। ক্ষেতের পাশে রাখা গোবর সারের স্তূপে ছাতার মত গঠনবিশিষ্ট এক প্রকার বর্ণহীন উদ্ভিদ লক্ষ করল।
- ক)(1)
লাইকেন কী?
- খ)(2)
অমরাবিন্যাস বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের উদ্ভিদের সৃষ্ট রোগের প্রতিকার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
গোবর সারের স্তূপে দৃশ্যমান বস্তুর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লাইকেন হলো একটি শৈবাল (Phycobiont) ও একটি ছত্রাকের (Mycobiont) পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ সহাবস্থানে গড়ে ওঠা একটি মিথোজীবী (Symbiotic) জীবদেহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদের গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরে যে বিশেষ টিস্যু থেকে ডিম্বক সৃষ্টি হয় ও পুষ্টি লাভ করে তাকে অমরা (Placenta) বলে। গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরে অমরা বা প্ল্যাসেন্টার বিন্যাস বা সাজানোর পদ্ধতিকে অমরাবিন্যাস বা প্ল্যাসেন্টেশন (Placentation) বলা হয়। যেমন— প্রান্তীয় (Marginal), অক্ষীয় (Axile), মুক্ত-মধ্য (Free-central), বহুপ্রান্তীয় (Parietal), মূলীয় (Basal) ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের অমরাবিন্যাস দেখা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত আলুর পাতার সবুজ-ধূসর পানিভেজা দাগ এবং কালচে দাগসহ পচন আলুর বিলম্বিত ধ্বসা রোগ বা 'লেট ব্লাইট অব পটেটো' (Late Blight of Potato)-এর লক্ষণ। এই রোগটি Phytophthora infestans নামক ছত্রাকের আক্রমণে ঘটে।
এই রোগের প্রতিকার পদ্ধতি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার: রোপণের জন্য প্রত্যয়িত ও সম্পূর্ণ রোগমুক্ত সুস্থ বীজ-আলু ব্যবহার করতে হবে।
২. বীজ শোধন: জমিতে রোপণের পূর্বে বীজ-আলুকে উপযুক্ত ছত্রাকনাশক (যেমন— ডাইথেন এম-৪৫ বা ফরমালডিহাইড দ্রবণ) দ্বারা শোধন করে নিতে হবে।
৩. ছত্রাকনাশক স্প্রে: কুয়াশাচ্ছন্ন ও আর্দ্র আবহাওয়ায় রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আগেই বোর্দো মিশ্রণ (Bordeaux mixture), মেনকোজেব অথবা ডাইথেন এম-৪৫ পানিতে গুলে জমিতে সুষমভাবে স্প্রে করতে হবে।
৪. আক্রান্ত অংশ ধ্বংসকরণ: রোগাক্রান্ত গাছ বা পাতা দেখা মাত্রই তা তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে বা মাটির গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে, যাতে স্পোর বাতাসে ছড়াতে না পারে।
৫. রোগ প্রতিরোধী জাতের চাষ: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন আলুর জাত (যেমন— ডায়মন্ট, কার্ডিনাল ইত্যাদি) চাষ করতে হবে।
৬. ফসল সংগ্রহে সতর্কতা: মাটির উপরিভাগের আক্রান্ত লতাপাতা সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পর বা কেটে ফেলার পর আলু তুলতে হবে, যাতে টিউবারে সংক্রমণ না ঘটে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের গোবর সারের স্তূপে ছাতার মতো গঠনবিশিষ্ট দৃশ্যমান বস্তুটি হলো মাশরুম (Agaricus)। এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. খাদ্য ও পুষ্টিগুণ: মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও উপাদেয় খাদ্য। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন (বিশেষ করে ভিটামিন B-কমপ্লেক্স, ভিটামিন D), খনিজ লবণ (ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম) ও খাদ্য আঁশ রয়েছে। এতে ফ্যাট ও শর্করা খুব কম থাকায় এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য।
২. ভেষজ ও ঔষধি গুণ: মাশরুমে কোলেস্টেরল কমানোর উপাদান (যেমন— লোভাস্টাটিন) থাকে, যা হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শর্করা ও চর্বি কম থাকায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আদর্শ খাদ্য। এছাড়াও এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি টিউমার ও ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
৩. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান: অল্প পুঁজি, স্বল্প শ্রম ও অল্প জায়গায় মাশরুম চাষ করা যায়। ফলে বাংলাদেশে বেকার যুবসমাজ ও মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সাহায্য করছে।
৪. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: শুকনা ও প্রক্রিয়াজাত মাশরুম বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
৫. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: মাশরুম উৎপাদনের পর ব্যবহৃত স্পন ও মাধ্যম উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করা যায়, যা মাটির উর্বরতা বাড়ায়।সুতরাং, পুষ্টির চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্যরক্ষা ও জাতীয় অর্থনীতিতে মাশরুমের গুরুত্ব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও