উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
আমাদের দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম একটি খাত হলো মৎস্য চাষ। বর্তমানে কৃত্রিম উপায়ে ইলিশ উৎপাদনের চেষ্টাও করা হচ্ছে। অন্যান্য মাছ চাষের মতো সহজ না হলেও অবশেষে মৎস্য বিভাগ ইলিশের নিষিক্ত রেণুও সংগ্রহ করে খাঁচায় লালন-পালন করে উৎপাদন শুরু করেছে, যা মৌসুম ছাড়াও বাজারজাত করা যাবে।
- ক)(1)
উৎপাদন কী?
- খ)(2)
রূপগত উপযোগ কাকে বলে?
- গ)(3)
কৃত্রিম উপায়ে ইলিশ উৎপাদন কোন ধরনের উপযোগ সৃষ্টি করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
খাঁচায় উৎপাদিত ইলিশ উপযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে- তুমি কি একমত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতিপ্রদত্ত সম্পদের সাথে শ্রম ও মূলধনের সমন্বয়ে মানুষের ব্যবহারোপযোগী নতুন উপযোগ সৃষ্টি করার প্রক্রিয়াকে উৎপাদন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো বস্তুর আকার, আকৃতি বা রূপ পরিবর্তন করে যে বাড়তি উপযোগ সৃষ্টি করা হয়, তাকে রূপগত উপযোগ বলে।
যেমন— কাঠ থেকে আসবাবপত্র তৈরি করা কিংবা তুলা থেকে সুতা ও সুতা থেকে কাপড় তৈরি করা। রূপগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই বস্তু মানুষের ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃত্রিম উপায়ে ইলিশ উৎপাদন মূলত কালগত (বা সময়গত) এবং রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে।
কোনো পণ্যের প্রাকৃতিক রূপ বা প্রক্রিয়াগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন উপযোগ তৈরি হলে তা রূপগত উপযোগ। অন্যদিকে, এক সময়ের পণ্য অন্য সময়ে পাওয়ার ব্যবস্থা করা হলে তাকে কালগত বা সময়গত উপযোগ বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রাকৃতিক নিয়মে নদীতে উৎপাদিত হওয়ার পরিবর্তে কৃত্রিম উপায়ে খাঁচায় লালন-পালন করে প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন করা হচ্ছে, যা রূপগত উপযোগের দৃষ্টান্ত। এছাড়াও, এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত ইলিশ স্বাভাবিক ইলিশের মৌসুম ছাড়াও অন্য সময়েও বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা সময়গত বা কালগত উপযোগ সৃষ্টি করে। মূলত এই প্রক্রিয়ায় রূপগত পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রধানত সময়গত উপযোগ বৃদ্ধি পায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, খাঁচায় উৎপাদিত ইলিশ সামগ্রিক উপযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে— আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত।
উপযোগ হলো কোনো দ্রব্যের মানুষের অভাব মেটানোর ক্ষমতা। উৎপাদনের মাধ্যমে দ্রব্যের রূপ, স্থান, সময়, এবং স্বত্বগত উপযোগ সৃষ্টি করা যায়, যা ভোক্তাদের প্রয়োজন মেটাতে বড় ভূমিকা রাখে।
সাধারণত ইলিশ একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে নদী বা সমুদ্রে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়। কিন্তু উদ্দীপকে মৎস্য বিভাগ ইলিশের নিষিক্ত রেণু সংগ্রহ করে কৃত্রিমভাবে খাঁচায় লালন-পালনের মাধ্যমে উৎপাদন শুরু করেছে। এর ফলে বেশ কিছু উপযোগ সৃষ্টি ও বৃদ্ধি পাবে:
১. সময়গত উপযোগ: মৌসুম ছাড়াও যেকোনো সময়ে বাজারে তাজা ইলিশ সরবরাহ করা সম্ভব হবে, ফলে ক্রেতারা সারা বছর ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে।
২. স্থানগত ও পরিমাণগত উপযোগ: কৃত্রিমভাবে খাঁচায় চাষ করায় চাহিদানুযায়ী দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্থানে সহজলভ্য করা যাবে এবং ঘাটতি দূর হবে।
৩. অর্থনৈতিক উপযোগ: নিয়মিত সরবরাহ বজায় থাকায় ইলিশের দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও তা নতুন মাত্রা যোগ করবে।অতএব, খাঁচায় ইলিশ উৎপাদনের মাধ্যমে ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী সবসময় প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে, যা নিশ্চিতভাবেই পণ্যের বহুমুখী উপযোগ বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও