‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

হাবিবা বেগমের তিন মেয়ে। হঠাৎ করে স্বামী মারা যাওয়ায় তিনি বিপদে পড়ে একটি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে নিজে একটি জাল তৈরির মেশিন কিনে নিজের বাড়িতে জাল তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। উক্ত বেসরকারি সংস্থাটি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দরিদ্রদের সহায়তা করে থাকে।

  1. ক)

    স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘সংগঠক দৃশ্যমান হলেও সংগঠন অদৃশ্যমান'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    হাবিবা বেগম কোন ধরনের সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্থা ও এরূপ অন্যান্য সংস্থাগুলো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে প্রতিষ্ঠান বিশেষ সরকারি আইন বা রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত হয়ে নিজস্ব নীতিমালার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনভাবে কাজ করে, তাকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংগঠক হলেন একজন ব্যক্তি যিনি উৎপাদনের উপাদানসমূহকে (ভূমি, শ্রম ও মূলধন) একত্রিত ও সমন্বয় করেন, তাই তিনি রক্ত-মাংসের একজন মানুষ হিসেবে সরাসরি দৃশ্যমান। পক্ষান্তরে, সংগঠন হলো সেই সমন্বয়সাধন, ব্যবস্থাপনা, নিয়মকানুন ও কাঠামোগত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে উৎপাদন পরিচালিত হয়। প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য না হওয়ায় সংগঠন অদৃশ্যমান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাবিবা বেগম একটি 'বেসরকারি সংস্থা' বা 'এনজিও' (Non-Governmental Organization) থেকে ঋণ নিয়েছেন।

    বেসরকারি সংস্থাগুলো সরকারবহির্ভূত এমন কিছু প্রতিষ্ঠান যা সাধারণত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস বা অনুদান থেকে তহবিল সংগ্রহ করে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ ও সহায়তা প্রদান করে থাকে। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, উক্ত সংস্থাটি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দরিদ্রদের সহায়তা করে এবং হাবিবা বেগম সেখান থেকে ঋণ নিয়ে জাল তৈরির মেশিন কিনে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে স্বাবলম্বী করার এই বৈশিষ্ট্যটি এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থার নির্দেশক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলো বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    ১. দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: জামানতহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্র ও বেকার জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের ক্ষুদ্র ব্যবসায় যুক্ত করে স্বাবলম্বী করে তোলে (যেমন উদ্দীপকে হাবিবা বেগম জাল তৈরির মেশিন কিনেছেন)।
    ২. নারী ক্ষমতায়ন: এনজিওগুলোর ঋণের সিংহভাগই নারীদের দেওয়া হয়, যা গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে সাহায্য করে এবং পরিবারে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
    ৩. কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ: ছোট ছোট উৎপাদনের ক্ষেত্রে পুঁজি সরবরাহ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে শিল্পায়নের ভিত্তি মজবুত করে।
    ৪. শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সচেতনতা বৃদ্ধি: অনেক এনজিও ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিতদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, মৌলিক শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে।

    সুতরাং, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি, স্বকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এ ধরনের বেসরকারি সংস্থাগুলো বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন