সাহিত্য পাঠ • মাসি-পিসি • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

মীনার বাবা হঠাৎ মারা যাওয়ায় তার মা রানু তাকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। সে তার স্বামীর রেখে যাওয়া সামান্য কৃষিজমিতে উৎপন্ন ফসল বিক্রি করে যা আয় করে তাতে মীনার লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারে না। তাই অন্যের বাড়িতে ধান ভানা, মাড়াই দেওয়া, ও গৃহপরিচারিকার কাজ করে মীনার লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ বাধা হয়ে দাঁড়াল মীনার বয়স। ষোড়শী মীনাকে গ্রাম্য মোড়লের কুদৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য সে তাকে বিয়ে দিল। কিন্তু অর্থলোভী ও স্বার্থান্ধ পরিবারে মীনার ঠাঁই হলো না। সে মায়ের কাছে চলে এলো। শুরু হলো মা-মেয়ের নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই।

  1. ক)

    পাতাশূন্য শুকনো গাছটায়' কারা বসেছে?

    (1)
  2. খ)

    "ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়,"- এখানে 'পাষাণ' কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সমাজচিত্রের সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের সমাজচিত্রের সাদৃশ্য কতটুকু? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'বেঁচে থাকার লড়াই'- কথাটি উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্পের আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাতাশূন্য শুকনো গাছটায় শকুনরা এসে বসেছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "ছেলের মুখ দেখে পাষাণ নরম হয়"— এখানে 'পাষাণ' কথাটি দ্বারা পাষাণহৃদয়, নিষ্ঠুর বা কঠোর স্বভাবের মানুষকে বোঝানো হয়েছে।

    সাধারণত কঠোর ও হৃদয়হীন ব্যক্তিও আপন সন্তানের নিষ্পাপ মুখ দেখে কোমল ও স্নেহশীল হয়ে ওঠে। 'মাসি-পিসি' গল্পে বুড়ো রহমান নিজের মেয়ের কথা ভেবে আহ্লাদির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে উঠলে জগুর নিষ্ঠুর মনের প্রসঙ্গে এই মন্তব্যটি করা হয় যে, সন্তানের মুখ দেখে কোনো কোনো পাষাণ প্রকৃতির মানুষের হৃদয়ও নরম হতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সমাজচিত্রের সাথে 'মাসি-পিসি' গল্পের গ্রামীণ সমাজের পুরুষতান্ত্রিক শোষণ, অসহায় নারীর ওপর লোলুপ দৃষ্টি ও নিরাপত্তাহীনতার দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    'মাসি-পিসি' গল্পে ফুটে উঠেছে পিতৃহীন যুবতী মেয়ে আহ্লাদিকে কেন্দ্র করে সমাজের নানা প্রতিকূলতা। দুর্ভিক্ষের শিকার পল্লীসমাজে আহ্লাদির অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে গ্রামের গোকুল ও দারোগা তার প্রতি কুনজর দেয়। অন্যদিকে স্বামী জগুর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আহ্লাদি মাসি-পিসির আশ্রয়ে থাকে। গ্রামীণ সমাজের সমাজপতিদের লাম্পট্য এবং লোভী মানসিকতার কারণে নারীদের পদে পদে লাঞ্ছিত হতে হয়।

    উদ্দীপকেও একই সমাজচিত্র লক্ষ্য করা যায়। মীনার বাবা মারা যাওয়ার পর অসহায় মা-মেয়ের জীবনে গ্রামীণ মোড়লের কুদৃষ্টি প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাকে রক্ষা করতে বিয়ে দেওয়া হলেও সেখানে অর্থলোভী শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে মীনার আশ্রয় ভেঙে যায় এবং তাকে ফিরে আসতে হয়। অতএব, উদ্দীপকের সমাজচিত্রটি 'মাসি-পিসি' গল্পের স্বার্থপর, অর্থলোভী ও নারীকে ভোগ্যবস্তু মনে করা বিকৃত সমাজবাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্প উভয় স্থানেই 'বেঁচে থাকার লড়াই' কথাটি পিতৃহীন অসহায় নারীদের প্রতিকূল সমাজ ও জীবনসংগ্রামের বিরুদ্ধে অদম্য সাহসের সাথে টিকে থাকার প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে।

    'মাসি-পিসি' গল্পে মাসি ও পিসি দুজনেই বিধবা ও সহায়-সম্বলহীন। কিন্তু তারা ভাগ্নি আহ্লাদিকে নিয়ে কোনো পরনির্ভরশীলতায় না গিয়ে চরম পরিশ্রমের মাধ্যমে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা শালতি বেয়ে হাটে গিয়ে তরিতরকারি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। কেবল পেটের ভাত জোগাড় করাই নয়, লম্পট গোকুল ও স্বামীর লোকজনের হাত থেকে আহ্লাদিকে রক্ষা করতে বঁটি হাতে রুখে দাঁড়িয়ে তারা যে সংগ্রাম করেছে, তা এক অনন্য 'বেঁচে থাকার লড়াই'।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মীনার মা রানু স্বামীর মৃত্যুর পর জমিতে ফসল ফলানো, অন্যের বাড়িতে ধান ভানা, মাড়াই ও গৃহপরিচারিকার কাজ করে নিজের ও মেয়ের জীবন বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রাম শুরু করে। পরবর্তী সময়ে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে মীনা ফিরে এলে মা ও মেয়ে মিলে পুনরায় নতুন করে বেঁচে থাকার প্রত্যয় নিয়ে সংগ্রাম শুরু করে।

    সুতরাং দেখা যায়, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার অন্যায়, শোষণ, দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতাকে জয় করে আপন শ্রমে ও সাহসে মাথা উঁচু করে টিকে থাকার ক্ষেত্রে উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্পের 'বেঁচে থাকার লড়াই' এক অভিন্ন অর্থ বহন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন