‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

কিবরিয়া সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি সম্প্রতি ইউরোপের একটি দেশ ভ্রমণ করেন। তিনি লক্ষ করেন উত্ত দেশের জীবনযাপন পদ্ধতি তার নিজ দেশ থেকে আলাদা। ভ্রমণকৃত দেশের সব সম্পদের মালিক. রাষ্ট্র এবং বাজারে অবাধ প্রতিযোগিতা নেই। অথচ তার দেশে সম্পদের মালিকানা ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং সমাজে বৈষম্য বিদ্যমান।

  1. ক)

    অভাব কী?

    (1)
  2. খ)

    ’সম্পদের দুম্প্রাপ্যতা অর্থনৈতিক সমস্যার মূল ভিত্তি'-ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    কিবরিয়া সাহেবের ভ্রমণকৃত দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা চালু রয়েছে-ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে করো কিবরিয়া সাহেবের নিজ দেশের অর্থব্যবস্থার চেয়ে ভ্রমণকৃত দেশের অর্থব্যবস্থা অধিকতর শ্রেয়? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের বেঁচে থাকা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য কোনো বস্তুগত বা অবস্তুগত সামগ্রী পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা প্রয়োজনবোধকে অভাব বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের অভাব অসীম কিন্তু অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় উপায় বা সম্পদ সীমিত। মানুষের এই সীমাহীন অভাবের তুলনায় সম্পদের অপর্যাপ্ততা বা স্বল্পতাকেই সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলে।

    যদি সম্পদ পর্যাপ্ত বা অফুরন্ত হতো, তবে সকল অভাব একযোগে পূরণ করা সম্ভব হতো এবং কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বা সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতো না। কিন্তু সম্পদের জোগান সীমিত হওয়ায় মানুষকে বেছে নিতে হয় কোন অভাবটি আগে পূরণ করা জরুরি, যাকে নির্বাচন সমস্যা বলে। সুতরাং, সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতার কারণেই নির্বাচন এবং যাবতীয় অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এজন্য সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতাকে অর্থনৈতিক সমস্যার মূল ভিত্তি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কিবরিয়া সাহেবের ভ্রমণকৃত দেশে সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা (Socialist Economic System) চালু রয়েছে।

    যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলোর ওপর কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে না, বরং রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এ ব্যবস্থায় মুনাফা অর্জনের পরিবর্তে সমাজের সামগ্রিক কল্যাণই প্রধান উদ্দেশ্য থাকে এবং উৎপাদকদের মধ্যে অবাধ প্রতিযোগিতা অনুপস্থিত থাকে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, কিবরিয়া সাহেবের ভ্রমণকৃত দেশের সব সম্পদের মালিক রাষ্ট্র এবং সেখানে বাজারে কোনো অবাধ প্রতিযোগিতা নেই। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে নির্দেশমূলক বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। অতএব, কিবরিয়া সাহেবের ভ্রমণকৃত দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কিবরিয়া সাহেবের ভ্রমণকৃত দেশে 'সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা' এবং তার নিজ দেশে সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা ও বৈষম্য থাকায় 'পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা' বিদ্যমান।

    আমি মনে করি, সামগ্রিক সামাজিক কল্যাণ, অর্থনৈতিক সমতা ও শোষণের অনুপস্থিতির দৃষ্টিকোণ থেকে কিবরিয়া সাহেবের নিজ দেশের চেয়ে ভ্রমণকৃত দেশের অর্থব্যবস্থা (সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা) অধিকতর শ্রেয়। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:

    ১. সম্পদের সামাজিক মালিকানা ও শোষণহীনতা: পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা থাকায় সমাজে পুঁজিপতি ও শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে আয়বৈষম্য এবং শোষণ সৃষ্টি হয়, যা কিবরিয়া সাহেবের নিজ দেশে বিদ্যমান। পক্ষান্তরে, ভ্রমণকৃত সমাজতান্ত্রিক দেশে সম্পদের মালিক রাষ্ট্র হওয়ায় শোষণ ও ব্যক্তিগত মুনাফার সুযোগ থাকে না।

    ২. সামাজিক বৈষম্যের বিলোপ: পুঁজিবাদী সমাজে সম্পদের অসম বণ্টনের ফলে ধনী-গরিবের ব্যাপক বৈষম্য তৈরি হয়। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জাতীয় আয়ের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হওয়ায় সমাজে সম্পদের অপচয় ও শ্রেণিভেদ দূর হয়।

    ৩. কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও বেকারত্ব হ্রাস: সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণের মৌলিক চাহিদা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা হয়। এতে অতি-উৎপাদন বা মন্দার মতো অর্থনৈতিক সংকট থাকে না এবং পূর্ণ কর্মসংস্থান অর্জনের প্রয়াস নেওয়া হয়।

    তবে এটি সত্য যে, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের ক্ষেত্রে সমাজতন্ত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তথাপি, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সম্পদভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার চেয়ে অধিকতর শ্রেয় ও মানবিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন