যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ কয়টি?
- খ)(2)
লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয় কেন?
- গ)(3)
ঘটনা-১ এর নির্দেশিত বিষয়টির সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ঘটনা-২ ঘটনা-১ এর 'ক' চিহ্নিত স্থানের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ ৩টি (বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলাবদ্ধকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিকরণ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লৌকিক ব্যাখ্যা কোনো বস্তুনিষ্ঠ বা বৈজ্ঞানিক নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং এটি মানুষের ব্যক্তিগত আবেগ, অন্ধবিশ্বাস ও অলৌকিক ধারণার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়।
লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের চেষ্টা করা হয় না। সাধারণ মানুষ তাদের নিজস্ব বিশ্বাস, সংস্কার এবং ব্যক্তিনির্ভর অনুভূতির ভিত্তিতে ঘটনাকে ব্যাখ্যা করে। যেহেতু প্রত্যেক ব্যক্তির মানসিক গঠন, সংস্কার ও দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়, তাই একই ঘটনাকে বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে। ফলে লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ নির্দেশিত মূল বিষয়টি হলো 'ব্যাখ্যা' (Explanation), বিশেষত সামগ্রিক ব্যাখ্যা বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা এখানে প্রকাশ পায়।
কোনো জটিল, দুর্বোধ্য ও অস্পষ্ট বিষয়কে সহজ ও সুস্পষ্ট করে তোলার প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা বলে। ঘটনা-১-এ ব্যাখ্যার দুটি প্রকারভেদ—বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও লৌকিক ব্যাখ্যা দেখানো হয়েছে, যার মূল শীর্ষবিন্দু 'ক' হলো 'ব্যাখ্যা'। তবে জগতের সব বিষয়কে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়; ব্যাখ্যার কিছু নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ব্যাখ্যার প্রধান সীমাবদ্ধতাগুলো হলো:
১. পরম বা মৌলিক গুণাবলি (যেমন- রূপ, রস, গন্ধ, বর্ণ ইত্যাদি) সরল অনুভূতির অংশ হওয়ায় এদের ব্যাখ্যা করা যায় না।
২. মনের মৌলিক অনুভূতিসমূহ (যেমন- আনন্দ, বেদনা, দুঃখ ইত্যাদি) সরাসরি অভিজ্ঞতালব্ধ হওয়ায় এদের কার্যকারণ সূত্রে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
৩. জড়জগতের অন্তিম উপাদান বা মৌলিক সত্তা (যেমন- দেশ, কাল, পরম কারণ বা ঈশ্বর) ব্যাখ্যার আওতাভুক্ত নয়।
৪. প্রকৃতির মৌলিক ও স্বতঃসিদ্ধ নিয়মসমূহকে কোনো উচ্চতর নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা যায় না বলে সেগুলোর ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
অতএব, উদ্দীপকের ঘটনা-১ নির্দেশিত বিষয়টি হলো ব্যাখ্যা, যার উপর্যুক্ত সীমাবদ্ধতাসমূহ বিদ্যমান। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এর 'ক' চিহ্নিত স্থানটি নির্দেশ করে 'ব্যাখ্যা' (Explanation)-কে এবং ঘটনা-২ একটি কার্যকারণ শৃঙ্খলের মাধ্যমে ঘটনা ব্যাখ্যার প্রক্রিয়াকে উপস্থাপন করে।
ব্যাখ্যার উদ্দেশ্য হলো অস্পষ্ট ও জটিল বিষয়কে স্পষ্ট ও বোধগম্য করা। যুক্তিবিদ্যায় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্যতম প্রধান রূপ হলো 'শৃঙ্খলাবদ্ধকরণ' বা কার্যকারণ শৃঙ্খলের মাধ্যমে ব্যাখ্যা প্রদান। যখন দুটি দূরবর্তী ঘটনার মধ্যকার অন্তর্বর্তী ধাপ বা মাধ্যম আবিষ্কার করে তাদের সম্পর্ক সুস্পষ্ট করা হয়, তখন তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধকরণ বলে।
ঘটনা-২ এ দেখানো হয়েছে:
আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার উত্তম চা উৎপাদন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন।
এখানে 'আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার' এবং 'বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন'—এই দুটি বিষয়ের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে সরাসরি কার্যকারণ যোগসূত্র দৃশ্যমান নয়। কিন্তু এদের মধ্যবর্তী যোগসূত্র হিসেবে 'উত্তম চা উৎপাদন'-কে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে উত্তম চা উৎপাদিত হয় এবং সেই চা রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। এটি একটি সুনির্দিষ্ট কার্যকারণ শৃঙ্খল।সুতরাং, ঘটনা-২ মূলত ঘটনা-১ এর 'ক' (ব্যাখ্যা)-এর বৈজ্ঞানিক রূপ 'শৃঙ্খলাবদ্ধকরণ'-এর বাস্তব দৃষ্টান্ত। এখানে অন্তর্বর্তী পর্যায়সমূহ আবিষ্কারের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটিকে যৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা ও সুস্পষ্ট করা হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও