অর্থনীতি ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
নোমান এমন একটি দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে গিয়েছেন যে, এ দেশের সরকার সব সম্পদের মালিক এবং জনগণের উৎপাদন, বন্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে। অন্যদিকে নোমানের দেশে উৎপাদক ও ভোক্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এর ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে। সরকার অর্থনীতির কোন খাতে হস্তক্ষেপ করে না।
- ক)(1)
মিশ্র অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?
- খ)(2)
ব্যাষ্টিক অর্থনীতি ও সামষ্টিক অর্থনীতি এক নয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপক অনুযায়ী নোমান যে দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়েছেন সেই দেশের বিদ্যমান অর্থব্যবস্থার তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নোমান যে দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়েছেন সেই দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থ ব্যবস্থা তুলনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটে অর্থাৎ ব্যক্তি মালিকানা ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা উভয়ই পাশাপাশি বজায় থাকে, তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাষ্টিক অর্থনীতি ও সামষ্টিক অর্থনীতি এক নয়, কারণ এদের আলোচনার পরিধি ও দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।
ব্যাষ্টিক অর্থনীতিতে অর্থনীতির একক বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় যেমন—একটি নির্দিষ্ট পরিবারের চাহিদা, একটি ফার্মের উৎপাদন, নির্দিষ্ট পণ্যের দাম ইত্যাদি আলোচনা করা হয়। পক্ষান্তরে, সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন—জাতীয় আয়, মোট সঞ্চয়, সামগ্রিক বিনিয়োগ, মূল্যস্তর ও কর্মসংস্থান ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়। সুতরাং, একটি সামগ্রিক রূপ এবং অপরটি একক বা পৃথক উপাদানের বিশ্লেষণ হওয়ায় এরা এক নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুযায়ী নোমান যে দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়েছেন, সে দেশে সব সম্পদের মালিক সরকার এবং উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগ কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। সুতরাং, দেশটিতে 'সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা' বিদ্যমান।
এই অর্থব্যবস্থার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সম্পদের রাষ্ট্রীয় মালিকানা: এ ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন) এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে না; বরং রাষ্ট্র বা সমাজের পক্ষে সরকার সব সম্পদের একক মালিকানা ভোগ করে।
২. কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা: উৎপাদনের ধরণ, পরিমাণ, বণ্টন ও বিনিয়োগের সার্বিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সরকারের একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের দ্বারা গৃহীত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
৩. ভোক্তার স্বাধীনতার অনুপস্থিতি ও সামাজিক কল্যাণ: এ ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে পণ্য উৎপাদিত হয় না এবং অবাধ পছন্দ অনুযায়ী ভোগ করা যায় না। বরং জনগণের মৌলিক চাহিদা মেটানো এবং সার্বিক সামাজিক কল্যাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নোমান যে দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়েছেন সেখানে সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান, অপরদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি মিশ্র অর্থব্যবস্থা। নিচে এ দুই অর্থব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সম্পদের মালিকানা: সমাজতান্ত্রিক দেশে উৎপাদনের উপাদানের ওপর শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানা বজায় থাকে, ব্যক্তিগত কোনো মালিকানা থাকে না। কিন্তু বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিমালিকানা উভয়ই পাশাপাশি অবস্থান করে।
২. অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ও মূল্য নির্ধারণ: সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ সকল উৎপাদন, বণ্টন ও মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু বাংলাদেশের মিশ্র ব্যবস্থায় মৌলিক শিল্প ও জরুরি সেবাখাত ছাড়া বেশিরভাগ পণ্যের দাম ও উৎপাদন বাজার ব্যবস্থা তথা চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক ক্রিয়ায় বা মূল্য ব্যবস্থার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
৩. মুনাফা অর্জন ও প্রতিযোগিতা: নির্দেশমূলক অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো সুযোগ নেই এবং উৎপাদকদের মাঝে কোনো মুক্ত প্রতিযোগিতা থাকে না। বিপরীতে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাত অবাধে মুনাফা অর্জনের সুযোগ পায় এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বিদ্যমান থাকে।
৪. ভোক্তার স্বাধীনতা: সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে ভোক্তার সার্বভৌমত্ব বা স্বাধীনতা থাকে না; কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ যা উৎপাদন ও সরবরাহ করে তা-ই ভোগ করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ভোক্তারা তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও পছন্দ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে দ্রব্য ও সেবা ভোগ করতে পারে।
অতএব, দেখা যায় যে নোমান যে দেশে গিয়েছেন সেখানকার অর্থব্যবস্থা সম্পূর্ণ রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত, কিন্তু বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের ভারসাম্যপূর্ণ সহাবস্থান রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও