বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশের কুটির শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছে নকশী কাঁথা। গ্রামের মেয়েরা সূচ-সুতার সাহায্যে অপূর্ব নকশা তোলে কাপড়ে। এই নকশী কাঁথা নিয়ে কাব্য রচিত হয়েছে। বিদেশে রপ্তানি হয় নকশী কাঁথা। এভাবে দরিদ্র মেয়েরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। শহরেও কুটির শিল্পের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এটি এখন একটি লাভজনক ব্যবসা। এর ফলে আমাদের লোকশিল্প তার হারানো গৌরব ফিরে পাচ্ছে।

  1. ক)

    টেকো শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    "শিরে দিয়ে বাঁকা তাজ ঢেকে রাখে টাক"- বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কোন দিকটি 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে প্রতিফলিত হয়েছে আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যটি 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'টেকো' শব্দের অর্থ তকলি বা চরকার অংশবিশেষ (সুতা কাটার যন্ত্র)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "শিরে দিয়ে বাঁকা তাজ ঢেকে রাখে টাক" বলতে লেখক তথাকথিত সভ্য সমাজের বাহ্যিক কৃত্রিম জাঁকজমক দিয়ে চরম দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনকে ঢেকে রাখার ব্যর্থ প্রয়াসকে বুঝিয়েছেন।

    রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে তৎকালীন বাংলার কৃষক সমাজের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, উচ্চবিত্তরা শহরের বিলাসিতা ও চটকদার জীবনযাপনে মগ্ন থেকে গ্রামীণ দরিদ্র কৃষকদের বাস্তব দুঃখ-কষ্টকে এড়িয়ে যান। মাথার টাক যেমন বাঁকা টুপি বা পাগড়ি দিয়ে আড়াল করা যায় না, তেমনি শহরের বাহ্যিক চাকচিক্য দিয়ে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চরম দারিদ্র্য ও খাদ্য-বস্ত্রের হাহাকারকে লুকিয়ে রাখা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের কুটির শিল্পের পুনরুজ্জীবন ও গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

    'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে লেখিকা বেগম রোকেয়া উল্লেখ করেছেন যে, অতীতে বাংলার কৃষকদের ঘরে ঘরে কুটির শিল্পের ব্যাপক প্রচলন ছিল। পরিবারের নারীরা অবসর সময়ে চরকায় সুতা কেটে এবং নানাবিধ হস্তশিল্প তৈরি করে পরিবারের বস্ত্রের চাহিদা মেটাতেন ও সংসারে সচ্ছলতা বজায় রাখতেন। পরবর্তী সময়ে মিল-কারখানার সস্তা কাপড়ের আগমনে ও ঔপনিবেশিক প্রভাবে এই দেশীয় কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়, যার ফলে চাষাদের চরম দারিদ্র্য নেমে আসে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বর্তমান সময়ে নকশী কাঁথা তৈরির মাধ্যমে গ্রামের মেয়েরা সূচ-সুতার সাহায্যে অপূর্ব শিল্প সৃষ্টি করে নিজেরা স্বাবলম্বী হচ্ছে এবং কুটির শিল্পের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করছে। গ্রামীণ নারীদের এই ধরনের হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পের ভূমিকা 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে বর্ণিত গ্রামীণ অর্থনীতির সমৃদ্ধির ইতিবাচক দিকের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হলো দেশীয় কুটির শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করা, যা 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের মূল ভাবনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

    'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তৎকালীন সমাজের অন্নবস্ত্রহীন কৃষকদের শোচনীয় অবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। লেখিকা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, দেশীয় কুটির শিল্প বিলুপ্ত হওয়ার কারণেই বাংলার কৃষকসমাজ বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েছে। তিনি এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে দেশীয় শিল্পের পুনর্জাগরণ এবং পরিবারের নারীদের অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে হস্তশিল্প উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

    উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে গ্রামের নারীরা নকশী কাঁথা তৈরির মতো ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে এবং কুটির শিল্পকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করে দেশের লোকশিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনছে। এর ফলে গ্রামীণ দারিদ্র্য যেমন হ্রাস পাচ্ছে, তেমনি দেশের ঐতিহ্যও সংরক্ষিত হচ্ছে।

    অতএব, 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া গ্রামীণ কুটির শিল্প ধ্বংসের যে ক্ষতিকর প্রভাব ও আক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছিলেন, উদ্দীপকে সেই কুটির শিল্প পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির সমৃদ্ধি ও মুক্তির উপায় কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন