উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৬
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. রশিদ নারায়ণগঞ্জে একটি রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস কারখানা গড়ে তোলেন। কারখানায় উন্নতমানের পণ্যসামগ্রী উৎপাদিত হওয়ায় বিদেশে পণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু স্থানের অভাবে কারখানার আয়তন বৃদ্ধি করতে না পারায় যোগান বৃদ্ধি করতে পারছেন না।
- ক)(1)
শ্রম গতিশীলতা কী?
- খ)(2)
মূলধন গঠনে সঞ্চয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মি. রশিদ উৎপাদনের কোন উপকরণের অভাবে পণ্যের যোগান বৃদ্ধি করতে পারছেন না? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে মি. রশিদের কাজ ও কর্মীদের কাজ এক নয়। তুমি কি একমত? যুক্তি সহকারে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এক পেশা বা স্থান থেকে অন্য পেশা বা স্থানে শ্রমিকের স্থানান্তর বা গমনাগমন করার ক্ষমতাকে শ্রম গতিশীলতা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বর্তমান আয়ের যে অংশ ভোগ না করে ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখা হয় তাকে সঞ্চয় বলে।
মূলধন গঠনে সঞ্চয় অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। মানুষ তার আয়ের উদ্বৃত্ত অংশ সঞ্চয় করে এবং সেই সঞ্চিত অর্থ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একত্রিত হয়ে বিনিযোগযোগ্য তহবিলে রূপান্তরিত হয়। এই বিনিয়োগের ফলেই নতুন কলকারখানা, যন্ত্রপাতি বা উৎপাদনশীল সম্পদ অর্থাৎ মূলধন গঠিত হয়। সঞ্চয় ছাড়া মূলধন গঠন অসম্ভব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. রশিদ উৎপাদনের অন্যতম মৌলিক উপাদান 'ভূমি'র অভাবে পণ্যের যোগান বৃদ্ধি করতে পারছেন না।
অর্থনীতিতে উৎপাদনের উপাদান চারটি—ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। প্রকৃতিপ্রদত্ত সমস্ত সম্পদসহ কারখানা স্থাপনের স্থান বা জায়গাকে ভূমির অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়। ভূমির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর যোগান সীমাবদ্ধ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. রশিদের গার্মেন্টসের পণ্যের প্রচুর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কারখানার স্থানের অভাব থাকায় তিনি আয়তন বৃদ্ধি করতে পারছেন না। স্থানের অভাব মূলত উৎপাদনের 'ভূমি' নামক উপাদানের সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করে। পর্যাপ্ত ভূমির অভাবেই কারখানা সম্প্রসারণ ও যোগান বৃদ্ধি সম্ভব হচ্ছে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে মি. রশিদের কাজ ও কর্মীদের কাজ এক নয়—আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে উদ্যোক্তা বা সংগঠকের ভূমিকা এবং সাধারণ শ্রমিকের ভূমিকা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।
মি. রশিদ হলেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা বা সংগঠক। তিনি ঝুঁকি গ্রহণ করে মূলধন খাটিয়ে গার্মেন্টস কারখানাটি গড়ে তুলেছেন। তার কাজ হলো ব্যবসা পরিকল্পনা প্রণয়ন, অর্থায়ন, অন্যান্য উপকরণের সমন্বয় সাধন, তদারকি ও সামগ্রিক ঝুঁকি বহন করা। তিনি লাভের প্রত্যাশায় কাজ করেন এবং ক্ষতির দায়ভারও তার ওপর বর্তায়।
অন্যদিকে, কারখানার কর্মীরা হলেন 'শ্রমিক' বা মানবসম্পদ। তারা মি. রশিদের অধীনে নির্দিষ্ট মজুরির বিনিময়ে দৈহিক বা মানসিক শ্রম প্রদান করেন। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পণ্য সেলাই, কাটিং ইত্যাদি নির্দেশিত কাজ সম্পন্ন করাই তাদের মূল দায়িত্ব। তারা প্রতিষ্ঠানের লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি বহন করেন না, শুধু পারিশ্রমিক পান।
সুতরাং, দায়িত্ব, কাজের ধরণ এবং ঝুঁকি গ্রহণের মাত্রার বিচারে উদ্যোক্তা মি. রশিদ এবং কারখানার কর্মীদের কাজ কখনোই এক নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও