জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
পাঠ্যবইয়ের অন্তর্গত দ্বিস্তরী নিডারিয়ান প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের কোষ বিদ্যমান। তবে কোষগুলো কোনো টিস্যু, অঙ্গ বা তন্ত্র গঠন করে না। প্রত্যেক কোষই আলাদা আলাদা কাজে নিয়োজিত। এসব প্রাণীর এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসে এক বিশেষ ধরনের কোষ বিদ্যমান যা তাদের প্রজনন ও পুনরুৎপত্তিতে সাহায্য করে। জুওক্লোরেলা নামক এক ধরনের সবুজ শৈবাল তাদের গ্যাস্ট্রোডার্মিসে বাস করে। এ ধরনের সহাবস্থান পরজীবিতা নয়, মিথোজীবিতা হিসেবে পরিচিত।
- ক)(1)
নিম্ফ কী?-
- খ)(2)
ঘাসফড়িং-এ ডায়াপজ ঘটে কেন?
- গ)(3)
পুনরুৎপত্তি ও প্রজননে উদ্দীপকের বিশেষ কোষ কীভাবে সাহায্য করে তা বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষোক্ত লাইনটির ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অসম্পূর্ণ রূপান্তর প্রদর্শনকারী পতঙ্গের (যেমন: ঘাসফড়িং) ডিম ফুটে বের হওয়া ডানা ও জননাঙ্গবিহীন ক্ষুদ্রাকার দশাকে নিম্ফ (Nymph) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শীতকালে তাপমাত্রা হ্রাস ও খাদ্যাভাবের কারণে প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা পেতে এবং ভ্রূণীয় বিকাশ সুরক্ষিত রাখতে ঘাসফড়িং-এর ডিমের পরিস্ফুটন সাময়িকভাবে স্থগিত বা বিলম্বিত থাকে। পরিবেশের প্রতিকূল অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য বিপাকীয় কার্যকলাপকে অত্যন্ত কমিয়ে এই সাময়িক বৃদ্ধি স্থগিত থাকাকে ডায়াপজ (Diapause) বলে। মূলত জীবনচক্রের ধারাবাহিকতা ও প্রজাতি রক্ষা করতে এটি ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিডারিয়ান প্রাণীটি হলো হাইড্রা (Hydra) এবং বিশেষ কোষটি হলো ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (Interstitial cell)।
পুনরুৎপত্তি ও প্রজননে এই কোষের ভূমিকা নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. প্রজননে ভূমিকা:- মুকুলোদগম (অযৌন প্রজনন): অনুকূল পরিবেশে হাইড্রার দেহের মধ্যবর্তী বা নিম্নাংশের এপিডার্মিসের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষগুলো দ্রুত মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে বিভাজিত হয়ে মোচাকৃতির স্ফীতি বা মুকুল গঠন করে। পরবর্তীতে এটি পূর্ণাঙ্গ অপত্য হাইড্রায় পরিণত হয়।
- যৌন প্রজনন: প্রজনন ঋতুতে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষগুলো বারবার বিভাজিত ও রূপান্তরিত হয়ে জননাঙ্গ (শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়) তৈরি করে। শুক্রাশয়ের অভ্যন্তরে এই কোষগুলো শুক্রাণু এবং ডিম্বাশয়ে এগুলো ডিম্বাণু উৎপাদন করে।
২. পুনরুৎপত্তিতে ভূমিকা: ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ হলো টোটিপোটেন্ট (totipotent) প্রকৃতির, অর্থাৎ এরা দেহের যেকোনো ধরনের কোষে রূপান্তরিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। হাইড্রার দেহের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা কেটে গেলে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষগুলো বিভাজিত হয়ে প্রয়োজনীয় কোষসমূহ সৃষ্টি করে এবং ক্ষয়পূরণ বা সম্পূর্ণ নতুন দেহ পুনরুৎপাদন (Regeneration) সম্পন্ন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষোক্ত লাইনটি হলো— "এ ধরনের সহাবস্থান পরজীবিতা নয়, মিথোজীবিতা হিসেবে পরিচিত।"
যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে বসবাস করে একে অপরের দ্বারা পারস্পরিকভাবে উপকৃত হয় এবং কেউ কারো ক্ষতি করে না, তখন সেই সম্পর্ককে মিথোজীবিতা (Mutualism) বলে। উদ্দীপকে সবুজ হাইড্রা (Chlorohydra viridissima) এবং এককোষী সবুজ শৈবাল জুওক্লোরেলা (Zoochlorella)-র মধ্যকার পারস্পরিক উপকারী সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হলো:
১. শৈবালের প্রাপ্ত উপকারিতা:
- আশ্রয়: শৈবাল হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মিসের পেশি-আবরণী কোষের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয় লাভ করে।
- সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল: হাইড্রার শ্বসনে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড () শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে।
- নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য: হাইড্রার বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য শৈবাল তার আমিষ সংশ্লেষে কাজে লাগায়।
২. হাইড্রার প্রাপ্ত উপকারিতা:
- খাদ্য প্রাপ্তি: শৈবাল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় যে শর্করা খাদ্য তৈরি করে, তার উদ্বৃত্ত অংশ হাইড্রা গ্রহণ করে।
- অক্সিজেন প্রাপ্তি: শৈবালের সালোকসংশ্লেষণে নির্গত অক্সিজেন () হাইড্রা তার নিজস্ব শ্বসনে ব্যবহার করে।
- বর্জ্য অপসারণ: শৈবাল হাইড্রার দেহ থেকে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য ও শোষণ করে হাইড্রাকে বিষাক্ত বর্জ্যমুক্ত ও পরিষ্কার রাখে।
যেহেতু এ প্রক্রিয়ায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না বরং উভয়েই জীবনধারণের জন্য পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল ও উপকৃত হয়, তাই এ সম্পর্কটি পরজীবিতা নয়, একটি আদর্শ মিথোজীবিতা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও