বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

রাজ ও মনি. দুই বন্ধু। রাজের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। সেখানে রয়েছে প্রাগৈতিহাসিক যুগের পাথর, জীবাশ্য, কাঠের হাতিয়ার, নদী অববাহিকায় নদীবন্দর ও আন্তর্জাতিক বাণিজা কেন্দ্র। অপরদিকে, মনির বাড়ি রাজশাহীতে। যেখানে তারা বিয়েতে গায়ে হলুদ দেয়, পায়ে আলতা পরে, অতিথিদেরকে পান সুপারি দিয়ে আপ্যায়ন করে।

  1. ক)

    সংকরজন কী?

    (1)
  2. খ)

    সতীদাহ প্রথা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজ এর আবাসস্থল প্রাচীন বাংলার কোন নগর সভ্যতার স্মৃতি বহন করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মনিদের এলাকার বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান যে সমাজের জনজীবনের সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে দেয় তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বিভিন্ন বর্ণের নারী-পুরুষের বিবাহের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানদের সংকরজন বা বর্ণসংকর বলা হতো।

  2. খ)

    প্রাচীন বাংলার সমাজে স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকেও মৃত স্বামীর চিতায় সহমরণে যেতে হতো। এই প্রথাকে সতীদাহ প্রথা বলা হয়।

    এ সময় বিধবাকে নিরামিষ আহার করতে হতো এবং সব ধরনের বিলাসিতা ত্যাগ করতে হতো। ধন-সম্পত্তিতে নারীদের কোনো আইনগত অধিকার ছিল না। এটি নারীর প্রতি চরম অমানবিক প্রথা ছিল।

  3. গ)

    রাজের আবাসস্থল নরসিংদী জেলা প্রাচীন বাংলার উয়ারী-বটেশ্বর নগর সভ্যতার স্মৃতি বহন করে।

    উদ্দীপকে নরসিংদীতে প্রাগৈতিহাসিক যুগের পাথর, জীবাশ্ম, কাঠের হাতিয়ার এবং নদী অববাহিকায় নদীবন্দর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রের কথা বলা হয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্য উয়ারী-বটেশ্বরের সঙ্গে মেলে। পাঠ্যবইয়ে নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনস্থল বলা হয়েছে। এখান থেকে ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা, যক্ষমূর্তি এবং কৃষ্ণ-ও-রক্তিম মৃৎপাত্র পাওয়া গেছে। এগুলো প্রাচীন বাংলার নগরায়ণ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বাণিজ্য ও শিল্পকলার উৎকর্ষের প্রমাণ।

  4. ঘ)

    মনিদের এলাকার গায়ে হলুদ, আলতা পরা ও পান-সুপারি দিয়ে অতিথি আপ্যায়নের মতো আচার-অনুষ্ঠান মৌর্য শাসনের পূর্বেকার (প্রাক-মৌর্য) বাংলার গোত্রভিত্তিক আর্যপূর্ব সমাজের জনজীবনের সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়।

    ১. গোত্রভিত্তিক সমাজ : মৌর্য শাসনের পূর্বে বাংলার সমাজ বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত ছিল এবং তখনও তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে ওঠেনি।
    ২. আর্যপূর্ব ধর্মচিন্তা ও প্রথা : এই যুগের কর্মফল, জন্মান্তরবাদ, যোগসাধনা প্রভৃতি ধর্মচিন্তা পরবর্তীকালে বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে ছড়িয়ে পড়ে।
    ৩. প্রথার ধারাবাহিকতা : পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, এ যুগের অনেক সামাজিক প্রথা ও আচার-আচরণের প্রভাব পরবর্তীকালেও দেখা যায়। যেমন অতিথিদের পান-সুপারি খেতে দেওয়া, গীত গাওয়া, বিয়েতে গায়ে হলুদ দেওয়া, শাড়ি পরা, মেয়েদের কপালে সিঁদুর দেওয়া ইত্যাদি।

    সুতরাং, মনিদের এলাকার এসব আচার-অনুষ্ঠান বাংলার সেই প্রাচীন গোত্রভিত্তিক সমাজের সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন