পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব মিলন “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” এর একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। তিনি পেশাগত জীবনে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে অনেক সম্পদের মালিক হন। সম্প্রতিবাংলাদেশের একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্তের ভিত্তিতে মামলা দায়ের ও পরিচালনা করে। বিচার শেষে বিজ্ঞ আদালত তাকে ঐ অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন।
- ক)(1)
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কাকে বলে?
- খ)(2)
কীভাবে সরকারি কর্মকমিশন যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মিলনের বিরুদ্ধে যে প্রতিষ্ঠান মামলা দায়ের করেছে তার কার্যাবলি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির গৃহীত পদক্ষেপ দুর্নীতি দমনে কতটুকু সহায়ক হবে বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব প্রতিষ্ঠান দেশের সর্বোচ্চ আইন অর্থাৎ সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধান বা অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত ও পরিচালিত হয়, সেগুলোকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করে।
কমিশন প্রথমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবেদনপত্র আহ্বান করে। এরপর সাধারণত প্রিলিমিনারি (বাছাই পরীক্ষা), লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের জ্ঞান, মেধা, মানসিক দক্ষতা ও প্রাসঙ্গিক যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী সরকারি কর্মকর্তা জনাব মিলনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও মামলার ব্যবস্থা নেওয়া প্রতিষ্ঠানটি হলো 'দুর্নীতি দমন কমিশন' (দুদক)। নিম্নে এর প্রধান কার্যাবলি ব্যাখ্যা করা হলো:
১. অনুসন্ধান ও তদন্ত: দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ স্বপ্রণোদিত হয়ে বা কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত হলে তা অনুসন্ধান ও তদন্ত করা।
২. মামলা দায়ের ও পরিচালনা: তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা এবং আদালতে তা যথাযথভাবে পরিচালনা করা।
৩. সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্তকরণ: দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি চিহ্নিত করে তা ক্রোক ও রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আইনি উদ্যোগ নেওয়া।
৪. দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি: নাগরিকদের মধ্যে সততা ও নিষ্ঠাবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা এবং সততা স্টোর, সততা সংঘ ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
৫. পরামর্শ প্রদান: দুর্নীতি প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ব্যবস্থা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি বা সরকারের নিকট সুপারিশ পেশ করা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির (দুর্নীতি দমন কমিশন) গৃহীত পদক্ষেপ দুর্নীতি দমনে অত্যন্ত কার্যকর ও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করার পর প্রতিষ্ঠানটি তার বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত ও মামলা পরিচালনা করে এবং আদালত তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন। এই ধরনের পদক্ষেপ দুর্নীতি দমনে নিম্নলিখিত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূরীকরণ: ক্ষমতাধর ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তির ব্যবস্থা হলে আইনের নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং 'আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়' এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
২. ভীতি ও সতর্কতা সৃষ্টি: অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হলে সম্ভাব্য অন্য দুর্নীতিবাজদের মনে শাস্তির ভয় সৃষ্টি হবে, যা দুর্নীতি প্রবণতা রোধে সরাসরি সহায়তা করবে।
৩. সুশাসন প্রতিষ্ঠা: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি হ্রাস পেলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং জনকল্যাণমূলক সেবা সুগম হবে।তবে এই পদক্ষেপসমূহ পূর্ণ কার্যকর হতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা, তদন্তের মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সুতরাং, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা দুর্নীতি দমনে প্রধান সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও