ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
সৃষ্টির আদি থেকে ব্যবস্থাপনার উৎপত্তি। সভ্যতা বিকাশের সাথে সাথে তা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এইজন্য একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও দার্শনিক বলেছেন, "ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন"। বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা বিশারদ ও মনীষীদের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আধুনিককালে একজন ব্যবস্থাপনা বিশারদের ১৪টি নীতি ব্যবস্থাপনার প্রয়োগের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করেছে।
- ক)(1)
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনকের নাম কী?
- খ)(2)
চিত্রসহ ব্যবস্থাপনা চক্র অঙ্কন করো।
- গ)(3)
"ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন"— একথাটি কে এবং কেন বলেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রদত্ত ১৪টি নীতি কিভাবে ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ ও প্রসারে ভূমিকা রাখছে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক হলেন ফ্রেডরিক উইনস্লো টেইলর (এফ. ডব্লিউ. টেইলর)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক ও পরস্পর নির্ভরশীল কার্যাবলির চক্রাকার আবর্তনকে ব্যবস্থাপনা চক্র বলে।
ব্যবস্থাপনা চক্রের ক্রমিক রূপরেখা:
পরিকল্পনা (Planning) → সংগঠিতকরণ (Organizing) → কর্মীসংস্থান (Staffing) → নেতৃত্ব ও নির্দেশনা (Directing) → প্রেষণা (Motivating) → সমন্বয়সাধন (Coordinating) → নিয়ন্ত্রণ (Controlling) ↺ (নিয়ন্ত্রণের পর পুনরায় পরিকল্পনা প্রণয়ন)। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন"—কথাটি গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস (Socrates) বলেছেন।
সক্রেটিসের মতে, যে ব্যক্তি কোনো একটি ক্ষেত্র বা ব্যক্তিপর্যায়ে সঠিকভাবে নেতৃত্ব বা পরিচালনা করতে পারেন, তিনি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক বা ব্যবসায়িক যেকোনো প্রতিষ্ঠানেই যোগ্যতার সাথে ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করতে পারবেন। কারণ ব্যবস্থাপনার মৌলিক উপাদান ও নীতিসমূহ সর্বত্র অভিন্ন।
ব্যবস্থাপনার কার্য ও নীতি কেবল মুনাফাধর্মী বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সামাজিক সংগঠন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কার্যাবলির প্রয়োগ অপরিহার্য। সকল সংঘবদ্ধ মানবিক কর্মকাণ্ডেই ব্যবস্থাপনার উপস্থিতি বিদ্যমান থাকার কারণে একে 'সর্বজনীন' বলা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক হেনরি ফেয়ল প্রদত্ত ১৪টি নীতি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক সাফল্য অর্জনে দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ ও প্রসারে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখছে।
ফেয়লের প্রদত্ত ১৪টি নীতি হলো: কার্যবিভাজন, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের সমতা, শৃঙ্খলা, আদেশের ঐক্য, নির্দেশনার ঐক্য, সাধারণ স্বার্থে ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ, পারিশ্রমিক, কেন্দ্রীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ, জোড়া-মই শিকল নীতি, সুশৃঙ্খলতা, ন্যায়পরায়ণতা, চাকরির স্থায়িত্ব, উদ্যোগ এবং একতাই বল।
১. আদেশের ঐক্য ও নির্দেশনার ঐক্য সংঘাত দূর করে প্রতিষ্ঠানে একমুখী নির্দেশনা ও সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করে।
২. কার্যবিভাজন কর্মীদের কাজের বিশেষায়ন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে।
৩. জোড়া-মই শিকল নীতি তথ্যের অবাধ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রবাহ নিশ্চিত করে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগকে শক্তিশালী করে।
৪. কেন্দ্রীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণের নীতি উপযুক্ত ভারসাম্য এনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও গতিশীল করে।এ নীতিগুলো যেকোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভিত্তি তৈরিতে একটি সুস্পষ্ট গাইডলাইন বা নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে। ফলে ব্যবস্থাপনার তাত্ত্বিক রূপ ব্যবহারিক স্তরে প্রয়োগযোগ্য হয়ে ওঠে এবং বৈশ্বিক পরিসরে এর গ্রহণযোগ্যতা প্রসারিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও