অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে, খাদ্যদ্রব্য বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে, প্রত্যেক দেশে প্রতি ২৫ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়।

  1. ক)

    মানবসম্পদ উন্নয়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    যে পরিমাণ জনসংখ্যা থাকলে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয় তাকে কী বলে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে জনসংখ্যার কোন তত্ত্বটি সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে উক্ত তত্ত্বটি কতটুকু কার্যকর? মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের জনসমষ্টির দক্ষতা, কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে পরিমাণ জনসংখ্যা থাকলে দেশের প্রাপ্ত প্রাকৃতিক ও মূলধন সম্পদের পূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা (Optimum Population) বলে।

    কাম্য জনসংখ্যার চেয়ে জনসংখ্যা কম হলে দেশের সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার হয় না (অনগ্রসর জনসংখ্যা), আবার বেশি হলে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে মাথাপিছু আয় হ্রাস পায়। ফলে যে নির্দিষ্ট বিন্দুতে অর্থনৈতিক সম্পদের সাথে জনসংখ্যার এমন এক ভারসাম্য তৈরি হয় যাতে মাথাপিছু উৎপাদন ও কল্যাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, সেটাই কাম্য জনসংখ্যা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বক্তব্যটি অর্থনীতিবিদ থমাস রবার্ট ম্যালথাসের প্রদত্ত 'জনসংখ্যা তত্ত্ব'-এর সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।

    ম্যালথাস তাঁর ১৭৯৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থে উল্লেখ করেন যে, কোনো প্রকার প্রতিরোধ না থাকলে একটি দেশে জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২...) বৃদ্ধি পায় এবং প্রতি ২৫ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়। পক্ষান্তরে, জমিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর থাকার কারণে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫...)। উদ্দীপকে জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের যে অনুপাত এবং প্রতি ২৫ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা হুবহু ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের মূল বক্তব্যকে প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি আংশিকভাবে সত্য হলেও সামগ্রিকভাবে পুরোপুরি কার্যকর নয়।

    ম্যালথাসের আশঙ্কার পক্ষে যুক্তি হলো, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিপুল জনসংখ্যার চাপে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ম্যালথাসের তত্ত্বটি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে নিম্নোক্ত কারণে:

    ১. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার: উচ্চফলনশীল (উফশী) বীজ, রাসায়নিক সার, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জেনেটিক প্রযুক্তির কল্যাণে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন গাণিতিক হারের চেয়ে বহুগুণ বেশি গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে দেশ আজ প্রধান খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ।
    ২. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস: পরিবার পরিকল্পনা, নারী শিক্ষার প্রসার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দ্রুত কমে এসেছে এবং প্রতি ২৫ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার তত্ত্বটি বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হয়নি।

    অতএব, আধুনিক প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ফলে ম্যালথাসের হতাশাবাদী পূর্বাভাস বাংলাদেশে পুরোপুরি প্রযোজ্য হয়নি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন