সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
সহপাঠ প্রশ্ন
ডিম পাড়ে হাঁসে, খায় বাগডাশে বুঝছোনি তাই বুঝছোনি, আসল কথা বুঝছোনি? এক গেরামের গরিব চাষি কালামিয়া নাম সবার পেটে ভাত জুটাইতে ক্ষেত্রে ঝরায় ঘাম ও তাহার ছাওয়াল কান্দে ক্ষুধার জ্বালায় মহাজনরা হাসে। ডিম পাড়ে হাঁসে, খায় বাগডাশে।
- ক)(1)
খালেক ব্যাপারী দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম কী?
- খ)(2)
'শত্রুর আভাস পাওয়া হরিনের চোখের মতোই সতর্ক হয়ে ওঠে তার চোখ।' কার চোখ, কেন? এর সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন কোন চরিত্রের মিল দেখা যায় এবং কীভাবে তা সাদৃশ্যপূর্ণ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'হাঁস' ও 'বাগডাশের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায় ?
- ঘ)(4)
জমিদার, মুৎসুদ্দি শ্রেণির বিলোপ হলেও আধুনিক পির প্রথা সেই স্থান দখল করে নিয়েছে।”—বক্তব্যটি উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাস অবলম্বনে বিচার করা হলো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম তনু বিবি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত বাক্যটিতে মজিদের সতর্ক চোখের কথা বলা হয়েছে।
নিজের আধিপত্য, অস্তিত্ব কিংবা প্রভাব খর্ব হওয়ার সামান্যতম আশঙ্কা দেখা দিলেই মজিদ হরিণের চোখের মতো সচকিত ও সতর্ক হয়ে উঠত। যেমন—গ্রামে আওয়ালপুরের পিরের আগমন ঘটলে বা আক্কাস স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে মজিদ নিজের আধিপত্যে আঘাত আসার ভয়ে দারুণভাবে সতর্ক হয়ে ওঠে। তার এই আত্মরক্ষামূলক ধূর্ত দৃষ্টির সাথে খালেক ব্যাপারীর মতো স্বার্থান্বেষী শোষক শ্রেণির চরিত্রের মিল দেখা যায়, যারা স্বার্থে আঘাত আসার সামান্য ইঙ্গিত পেলেই কঠোর ও সতর্ক হয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'হাঁস' ও 'বাগডাশ'-এর সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের যথাক্রমে শোষিত মেহনতি শ্রেণি (যেমন: তাহের-কাদেরের বাপ বা সাধারণ কৃষককুল) এবং শোষক শ্রেণির প্রতিনিধি মজিদ ও খালেক ব্যাপারীর মিল পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে হাঁস অক্লান্ত পরিশ্রমে ডিম পাড়ে কিন্তু তা ভোগ করে বাগডাশ বা সুবিধাবাদী শিকারি। কালামিয়ার মতো গরিব চাষি রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ফসল ফলায় অথচ তার সন্তানরা অনাহারে থাকে আর মহাজনরা সেই শ্রমে স্ফীত হয়।
'লালসালু' উপন্যাসেও দেখা যায় মহব্বতনগরের সাধারণ কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলায়। কিন্তু তাদের সেই উপার্জনের একটি বড় অংশ ধর্মীয় ভয়-ভীতি ও অন্ধবিশ্বাসের ফাঁদে ফেলে মজিদ নিজের করে নেয় এবং মাতব্বর খালেক ব্যাপারী তাদের ঋণ ও দাদনের জালে শোষণ করে। অতএব উদ্দীপকের হাঁস হলো উপন্যাসের শোষিত কৃষককুল আর বাগডাশ হলো রক্তচোষা মজিদ ও খালেক ব্যাপারী। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"জমিদার, মুৎসুদ্দি শ্রেণির বিলোপ হলেও আধুনিক পির প্রথা সেই স্থান দখল করে নিয়েছে"—বক্তব্যটি উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের সার্বিক প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ যথার্থ।
ঐতিহাসিকভাবে সামন্ত যুগে জমিদার ও মুৎসুদ্দিরা সাধারণ কৃষকদের ঘাম ঝরানো ফসল জবরদস্তিমূলক খাজনা ও সুদের ফাঁদে ফেলে লুণ্ঠন করত। উদ্দীপকেও সেই চিরাচরিত মহাজনী শোষণের রূপটি বিধৃত হয়েছে, যেখানে গরিব চাষি কালামিয়ার সন্তানের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে মহাজনরা হাসে।
অন্যদিকে, 'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায় সনাতন জমিদারির বিলোপ বা পটপরিবর্তনের পর সেই শোষণের হাতিয়ার হিসেবে রূপ নিয়েছে ধর্মীয় ভণ্ডামি বা পির প্রথা। মজিদ এক অচেনা গ্রামে এসে একটি অখ্যাত কবরকে 'মোদাচ্ছের পিরে'র মাজার হিসেবে জাহির করে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বৃত্ত শোষণ করে নিয়েছে। জমিদারের লাঠির বদলে মজিদ ব্যবহার করেছে ধর্মের ভয় ও মাজারের আধ্যাত্মিক প্রতারণা। ধর্মের রক্ষকবেশে পির বা ধর্মব্যবসায়ীরা মহাজনের মতোই সাধারণ মানুষের সকল শ্রমের ফসল চুষে খেয়ে তাদের নিঃস্ব করে রাখে।
সুতরাং, শোষণের রূপ বদলালেও শোষক শ্রেণির লুণ্ঠন ও চরিত্র অপরিবর্তিত থেকে পির প্রথার রূপ নিয়েছে—উক্তিটির এই বিশ্লেষণ অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও