‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

‘ক’ অঞ্চলের এক নন্দিত নেতাকে স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে কারাগারে নিয়ে যায়। সরকারের এই পাতানো, ষড়যন্ত্রমূলক ও প্রহসনমূলক মামলার প্রতিবাদে সারাদেশে আগুনের ফুলকি হয়ে জ্বলতে থাকে মানুষের বিক্ষোভ। মিছিলে মিছিলে প্রকম্পিত হতে থাকে রাজপথ। গণআন্দোলনের চাপে সরকার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সকল রাজবন্দির মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

  1. ক)

    ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    ‘মজলুম জননেতা' বলা হয় কাকে এবং কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে পাকিস্তানের কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উক্ত আন্দোলনের তাৎপর্য বর্ণনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হাজী শরীয়তউল্লাহ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে 'মজলুম জননেতা' বলা হয়।

    তিনি আজীবন শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের (মজলুম) পক্ষে আপসহীন আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছিলেন। সাধারণ নিপীড়িত মানুষের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে থেকেছেন এবং তাদের মুক্তির জন্য রাজনীতি করেছেন বলেই জাতি তাঁকে ভালোবেসে 'মজলুম জননেতা' উপাধিতে ভূষিত করেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে পাকিস্তানের ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক 'গণঅভ্যুত্থান'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খান বাঙালি জাতির মুক্তির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে তথাকথিত রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' দায়ের করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল শেখ মুজিবকে ফাঁসি দিয়ে বাঙালিদের স্বাধিকার আন্দোলন স্তব্ধ করে দেওয়া। কিন্তু এর প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং ১৯৬৯ সালে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।

    উদ্দীপকে স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক নন্দিত এক নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার সাজানো মামলা এবং তার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া প্রবল গণবিক্ষোভ ও মামলার প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে, যা ১৯৬৯ সালের আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের ঘটনার প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও অপরিসীম।

    প্রথমত, এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আইয়ুব খানের এক দশকব্যাপী স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে। তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করতে এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। মুক্ত হয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির একক মুখপাত্রে পরিণত হন এবং তাঁকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

    দ্বিতীয়ত, এই আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদকে সংহত করে এবং জনগণের মধ্যে একতা ও স্বাধীনতা অর্জনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। গণঅভ্যুত্থানের ফলে সামরিক জান্তা ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়, যেখানে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

    সুতরাং, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানই ১৯৬৬-র ছয় দফার স্বাধিকার আন্দোলনকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত মোহনায় পৌঁছে দিয়েছিল এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন