বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

ঋতু পরিক্রমায় দেখা যায় নানা বৈচিত্র্য। যা উপভোগের বিষয়। এমন উপভোগ সমানভাবে সবার গ্রহণ করার সৌভাগ্য হয় না। কারণ ব্যক্তিজীবন সবার সবসময় সমান যায় না। কারও পৌষ মাস কারও সর্বনাশ-যা একান্তই ক্রিয়াশীল।

  1. ক)

    অর্ঘ্য বিরচন কী?

    (1)
  2. খ)

    মাঘের সন্ন্যাসী বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

    (2)
  3. গ)

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সাথে উদ্দীপকের যে সাদৃশ্য পাওয়া যায়, তা বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের মূলভাব 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আংশিক বা খণ্ডাংশ মাত্র"- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'অর্ঘ্য বিরচন' অর্থ অঞ্জলি বা উপহার রচনা করা কিংবা পূজার উপকরণ প্রস্তুত করা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মাঘের সন্ন্যাসী' বলতে কবি শীত ঋতুকে রিক্ত, উদাসীন ও ত্যাগী সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন।

    শীতকালে প্রকৃতি তার পত্র-পল্লব ও ফুল হারিয়ে একেবারে রিক্ত ও নিঃস্ব রূপ ধারণ করে। কবি সুফিয়া কামাল শীতের এই কুয়াশায় ঢাকা রিক্ত রূপকে একজন সন্ন্যাসীর সাথে তুলনা করেছেন, যে সবকিছু ত্যাগ করে নিঃশব্দে চলে যায়। শীতের এই রিক্ত বিদায়ের কারণেই কবিমনও ব্যক্তিগত বেদনায় রিক্ত ও বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রকৃতির ঋতুবৈচিত্র্যের আনন্দ ব্যক্তিজীবনের দুঃখ-কষ্টের কারণে সবার পক্ষে সমানভাবে উপভোগ না করতে পারার যে বাস্তব সত্য ফুটে উঠেছে, তা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল বিষাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় চারিদিকে বসন্তের রূপ-রস-রঙের সমারোহ ঘটা সত্ত্বেও কবি সুফিয়া কামাল উদাসীন ও বিষণ্ণ। কারণ তাঁর প্রিয়তম স্বামী ও সাহিত্য-সাধনার প্রেরণা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির ব্যক্তিজীবন গভীর শোকে আচ্ছন্ন। প্রকৃতির বসন্ত বন্দনা কবিকে বিন্দুমাত্র আনন্দ দিতে পারে না।

    উদ্দীপকেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঋতুর বৈচিত্র্য উপভোগ করার মতো সৌভাগ্য সবার হয় না, কারণ সবার ব্যক্তিজীবন সমান যায় না। ব্যক্তিগত শোক বা ট্র্যাজেডি বাইরের ঋতু-আনন্দকে ম্লান করে দেয়। উদ্দীপকের এই বক্তব্যের সাথেই বসন্তের আনন্দকে গ্রহণ করতে না পারা কবি সুফিয়া কামালের ব্যক্তিজীবনের বেদনার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের মূলভাব 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আংশিক বা খণ্ডাংশ মাত্র"— মন্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে কেবল একটি সাধারণ সত্য তুলে ধরা হয়েছে যে, ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন বা বিষাদের কারণে ঋতুর আনন্দ সবাই সমভাবে উপভোগ করতে পারে না। এটি কবিতার মূল দ্বন্দ্বের একটি দিককে নির্দেশ করে।

    কিন্তু 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার ব্যঞ্জনা শুধু প্রকৃতির আনন্দ উপভোগে ব্যর্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি গঠনশৈলীসমৃদ্ধ সংলাপপ্রধান নাটকীয় কবিতা। একদিকে প্রকৃতিপ্রেমী ভক্ত-পাঠকের বসন্ত আবাহনের ব্যাকুল জিজ্ঞাসা, অন্যদিকে কবির অন্তর্মুখী রিক্ততা ও বেদনার্ত স্মৃতিচারণা—এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে কবিতাটি গভীর মাত্রা পেয়েছে। কবি এখানে অতীত স্মৃতি রোমন্থন করেছেন, যেখানে বসন্তের উপস্থিতির চেয়ে তাঁর কাছে বড় হয়ে উঠেছে শীতের বিদায়ী রূপ এবং তাঁর প্রয়াত স্বামীর বিচ্ছেদবেদনা। স্বামীর স্মৃতি তাঁকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছে যে তিনি বসন্তের আগমনী গান গাইতে পারছেন না।

    উদ্দীপকে কেবল ব্যক্তিজীবনের অসুখী অবস্থার কারণে আনন্দ উপভোগে বাধার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কবিতার অন্তর্গত শোকের গভীরতা, নাটকীয় সংলাপ এবং প্রিয়জন হারানোর পরম হাহাকার সেখানে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মূলভাব 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সামগ্রিক ভাবের একটি খণ্ডাংশ বা আংশিক রূপ মাত্র।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন