জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

জন্মের পর বিভিন্ন রোগের টিকার জন্য যেমন আমাদের দেহে এক ধরনের অনাক্রম্যতার সৃষ্টি হয়; তেমনি জন্মের সময়ও আমাদের দেহে প্রাকৃতিকভাবে এক ধরনের অনাক্রম্যতা সৃষ্টি হয়।

  1. ক)

    পলিজেনিক ইনহ্যারিটেন্স কী?

    (1)
  2. খ)

    মেয়ের বিয়ের বয়স ১৮-২০ নির্ধারণ করা হয় কেনো?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা সৃষ্টিকারী পদার্থটির গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অনাক্রম্যতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুই বা ততোধিক ভিন্ন লোকাসে অবস্থিত নন-অ্যালিলিক জিনের সম্মিলিত প্রভাবে জীবের কোনো একটি পরিমাণগত বা গুণগত বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করার প্রক্রিয়াকে পলিজেনিক ইনহেরিট্যান্স বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মেয়েদের ১৮-২০ বছর বয়সের আগে প্রজননতন্ত্র এবং পেলভিক অস্থির বৃদ্ধি ও গঠন সম্পূর্ণরূপে পরিপক্ব হয় না। অল্প বয়সে বিয়ে ও গর্ভধারণ করলে গর্ভপাত, একলাম্পশিয়া, ফিস্টুলা, অপরিণত শিশুর জন্ম এমনকি মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই মানসিক পরিপক্বতা এবং শারীরিক সুস্থতা ও নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮-২০ নির্ধারণ করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অনাক্রম্যতা সৃষ্টিকারী মূল পদার্থটি হলো অ্যান্টিবডি (বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন)। অ্যান্টিবডির গঠন নিম্নরূপ:

    ১. পলিপেপটাইড শৃঙ্খল: প্রতিটি অ্যান্টিবডি অণু ইংরেজি 'Y' আকৃতির এবং এতে চারটি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল থাকে—দুটি দীর্ঘ ও ভারী শৃঙ্খল (Heavy chain) এবং দুটি সংক্ষিপ্ত ও হালকা শৃঙ্খল (Light chain)।
    ২. ডাইসালফাইড বন্ধন: চারটি শৃঙ্খল পরস্পর আন্তঃশৃঙ্খল ডাইসালফাইড (-S-S-) বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে। ভারী শৃঙ্খল দুটির মাঝেও ডাইসালফাইড বন্ধন থাকে।
    ৩. অঞ্চলসমূহ: প্রতিটি শৃঙ্খলে দুটি অংশ থাকে—

    • পরিবর্তনশীল অঞ্চল (Variable region বা V-অঞ্চল): 'Y' এর দুই বাহুর অগ্রভাগে থাকে, যা নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হতে পারে (অ্যান্টিজেন বাইন্ডিং সাইট বা প্যারাটোপ)।
    • ধ্রুবক অঞ্চল (Constant region বা C-অঞ্চল): অবশিষ্ট নিচের অংশ যা অপরিবর্তনীয় এবং অ্যান্টিবডির শ্রেণি নির্ধারণ করে।
      ৪. কব্জা অঞ্চল (Hinge region): ভারী শৃঙ্খলের মধ্যবর্তী নমনীয় অংশ যা অ্যান্টিবডির বাহু দুটিকে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে।
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মূলত দুই ধরনের অনাক্রম্যতার কথা বলা হয়েছে: জন্মের সময় প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট 'সহজাত অনাক্রম্যতা' (Innate immunity) এবং জন্মের পর টিকার মাধ্যমে সৃষ্ট 'অর্জিত অনাক্রম্যতা' (Acquired/Adaptive immunity)। এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

    ১. উৎপত্তি: সহজাত অনাক্রম্যতা জন্মসূত্রে প্রাপ্ত এবং বংশপরম্পরায় স্থানান্তরিত হয়। অপরদিকে, অর্জিত অনাক্রম্যতা জন্মের পর পরিবেশের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে বা টিকার মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
    ২. নির্দিষ্টতা: সহজাত অনাক্রম্যতা নির্দিষ্ট কোনো জীবাণুর জন্য নয়, এটি অনির্দিষ্ট (non-specific) প্রতিরক্ষা দেয় (যেমন- ত্বক, মিউকাস, ফ্যাগোসাইট)। অন্যদিকে অর্জিত অনাক্রম্যতা অত্যন্ত নির্দিষ্ট (specific); এটি কেবল নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধেই কার্যকর হয়।
    ৩. প্রতিরক্ষা স্তর: সহজাত প্রতিরক্ষা মানবদেহের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তরের অন্তর্ভুক্ত। অর্জিত প্রতিরক্ষা মানবদেহের তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তরের অন্তর্ভুক্ত।
    ৪. স্মৃতিকোষ (Memory cells): সহজাত অনাক্রম্যতায় কোনো ইমিউনোলজিক্যাল স্মৃতি সৃষ্টি হয় না। কিন্তু টিকার মাধ্যমে অর্জিত অনাক্রম্যতায় মেমরি বি ও টি-কোষ গঠিত হয়, যা পরবর্তীকালে একই জীবাণুর প্রবেশে দ্রুত ও তীব্র সাড়া প্রদান করে।
    ৫. কার্যকারিতা: সহজাত অনাক্রম্যতা জীবাণু প্রবেশের সাথে সাথে তাত্ক্ষণিকভাবে ক্রিয়াশীল হয়। পক্ষান্তরে, অর্জিত অনাক্রম্যতা কার্যকর হতে কয়েকদিন সময় নেয় কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা প্রদান করে।

    সুতরাং, সহজাত অনাক্রম্যতা মানবদেহের প্রাথমিক সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং অর্জিত অনাক্রম্যতা টিকাদানের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা বজায় রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন