অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি উন্নয়নশীল দেশের খাদ্য উৎপাদন ও জনসংখ্যা সম্পর্কিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো

সন | ১৯০০ | ১৯২৫ | ১৯৫০ | ১৯৭৫ | ২০০০
জনসংখ্যা (কোটি) | ১ | ২ | ৪ | ৮ | ১৬
খাদ্য উৎপাদন (কোটি টন) | ২ | ২ | ৩ | ৪ | ৫

  1. ক)

    জনসংখ্যার ঘনত্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনসংখ্যার কোন তত্ত্বের সাথে উদ্দীপকের তথ্য সঙ্গতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনসংখ্যা তত্ত্বটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কতটুকু প্রাসঙ্গিক? আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটার বা নির্দিষ্ট আয়তনের স্থানে গড়ে যত জন লোক বাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন সাধারণ মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাকে কার্যকর মানবসম্পদে রূপান্তর করা হয়। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমশক্তির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় না এবং তারা অর্থনৈতিক উন্নয়নে ফলপ্রসূ অবদান রাখতে পারে না। তাই প্রশিক্ষণ প্রদান মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান কৌশল ও পূর্বশর্ত হওয়ায় এরা পরস্পরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্যটি অর্থনীতিবিদ থমাস রবার্ট ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের (Malthusian Theory of Population) সাথে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ।

    ম্যালথাসের মতে, কোনো ধরনের বাধা বা নিয়ন্ত্রণ না থাকলে জনসংখ্যা প্রতি ২৫ বছরে দ্বিগুণ হয় অর্থাৎ জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬...) বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে, জমিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর থাকার কারণে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় ধীরগতিতে বা গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫...)।

    উদ্দীপকের সূচিতে দেখা যায়, ১৯০০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত প্রতি ২৫ বছর পর পর জনসংখ্যা ১, ২, ৪, ৮, ১৬ কোটি হারে জ্যামিতিক হারে দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে খাদ্য উৎপাদন প্রতি ২৫ বছরে সীমিত হারে বা গাণিতিক ধারায় বৃদ্ধি পেয়ে ২, ২, ৩, ৪, ৫ কোটি টন হয়েছে। অতএব, জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের এই অনুপাত ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বকে হুবহু সমর্থন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে প্রযোজ্য নয়, বরং এর প্রাসঙ্গিকতা আংশিক বা সীমিত।

    ম্যালথাসের তত্ত্ব বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য না হওয়ার কারণসমূহ:
    ১. খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব: আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, উচ্চফলনশীল (HYV) বীজ, সার, কীটনাশক ও আধুনিক সেচব্যবস্থার ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন গাণিতিক হারের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ আজ খাদ্যশস্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ।
    ২. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস: পরিবার পরিকল্পনা, শিক্ষার প্রসার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার পূর্বের তুলনায় অনেক কমে এসেছে এবং জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে না।
    ৩. মানবসম্পদে রূপান্তর: আধুনিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তি ও প্রবাসীকর্মীতে রূপান্তর করে রেমিট্যান্স অর্জিত হচ্ছে, ফলে জনসংখ্যা কেবল বোঝা নয়, সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

    তবে সম্পদের সীমাবদ্ধতা, ভূমির ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং বেকারত্ব ইত্যাদি সমস্যা বিবেচনায় ম্যালথাসের সতর্কবাণীর কিছুটা প্রাসঙ্গিকতা এখনও রয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, ম্যালথাসের তত্ত্বটি অক্ষরে অক্ষরে বাংলাদেশে ফলপ্রসূ না হলেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এর দিকনির্দেশনাটি তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন