যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
রাঙামাটি যাওয়ার পথে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে শিমুল বললো, “বাহ! কি সুন্দর দৃশ্য।” শুভাও তখন বললো, “দৃশ্যটি হয় সুন্দর।”
- ক)(1)
একটি যুক্তিবাক্যের অংশ কয়টি?
- খ)(2)
শব্দ কখন পদে পরিণত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে শিমুলের বক্তব্যটি যুক্তিবাক্য নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে শিমুল ও শুভার বক্তব্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি আদর্শ যুক্তিবাক্যের তিনটি অংশ থাকে: উদ্দেশ্য, বিধেয় এবং সংযোজক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো শব্দ যখন কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় অথবা ব্যবহৃত হওয়ার উপযুক্ত যোগ্যতা অর্জন করে, তখন তাকে পদ বলে। কেবল অর্থপূর্ণ ধ্বনি সমষ্টি হিসেবে শব্দ থাকে, কিন্তু যখন তা কোনো অবধারণ বা যুক্তিবাক্যের চিন্তা প্রকাশে উদ্দেশ্য বা বিধেয়ের স্থানে বসে সম্পর্ক নির্দেশ করে, তখনই তা পদে পরিণত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিমুলের বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিতে যুক্তিবাক্য নয়, কারণ এটি একটি আবেগ বা বিস্ময়সূচক বাক্য।
যুক্তিবিদ্যায় শুধুমাত্র বর্ণনামূলক বা বিবৃতিমূলক বাক্যই যুক্তিবাক্য হতে পারে, যাতে কোনো উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয় দ্বারা কোনো কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় এবং যার সত্য বা মিথ্যা হওয়ার মানদণ্ড থাকে। তাছাড়া একটি যুক্তিবাক্যে সুস্পষ্টভাবে উদ্দেশ্য, বিধেয় ও সংযোজক বর্তমান থাকে।
শিমুলের বক্তব্য “বাহ! কি সুন্দর দৃশ্য” হলো একটি আবেগসূচক বাক্য (exclamatory sentence), যা মনের আবেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করে মাত্র। এতে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের স্পষ্ট সম্বন্ধ নেই এবং এর সত্যাসত্য বিচার করা যায় না। তাই এটি যুক্তিবাক্য নয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিমুলের বক্তব্যটি একটি সাধারণ ব্যাকরণিক বাক্য এবং শুভার বক্তব্যটি একটি যুক্তিবাক্য। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কাঠামোগত দিক: যুক্তিবাক্যের আবশ্যকীয় তিনটি অংশ থাকে—উদ্দেশ্য, সংযোজক এবং বিধেয়। শুভার বক্তব্যে “দৃশ্যটি” হলো উদ্দেশ্য পদ, “হয়” হলো বর্তমান কালের সদর্থক সংযোজক এবং “সুন্দর” হলো বিধেয় পদ। ফলে এটি একটি পরিপূর্ণ যুক্তিবাক্যের কাঠামো মেনে চলে। পক্ষান্তরে, শিমুলের বক্তব্য “বাহ! কি সুন্দর দৃশ্য”-তে কোনো ব্যাকরণগত সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য, বিধেয় ও সংযোজকের বিন্যাস নেই।
২. অর্থ ও প্রকাশের দিক: শিমুলের বক্তব্য কেবল মনের অনুভূতি, বিস্ময় ও আবেগ প্রকাশ করে (বিস্ময়সূচক বাক্য)। কিন্তু শুভার বক্তব্য একটি বর্ণনামূলক বা তথ্যজ্ঞাপক বিবৃতি (assertive proposition), যেখানে একটি বিষয়কে স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছে।
৩. সত্যতা বা মিথ্যাত্ব: শিমুলের আবেগময় কথার কোনো সত্য বা মিথ্যা মানদণ্ড থাকে না। কিন্তু শুভার উক্তিটি যুক্তিবাক্য হওয়ায় তা সত্য কিংবা মিথ্যা হতে পারে।
সুতরাং দেখা যায়, সকল যুক্তিবাক্যই বাক্য হলেও সকল বাক্য যুক্তিবাক্য নয়। সেই অর্থে শুভার উক্তিটি যুক্তিবিদ্যার আদর্শ নিয়ম অনুসারে একটি যথার্থ যুক্তিবাক্য, আর শিমুলের উক্তিটি শুধুই একটি আবেগ প্রকাশক ব্যাকরণিক বাক্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও