পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
কে 'স্বরাজ দল' গঠন করেন?
- খ)(2)
বেঙ্গল প্যাক্ট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হয়েছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত নেতার অবদান গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত- এর সপক্ষে তোমার যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ (সি. আর. দাশ) ১৯২৩ সালের ১ জানুয়ারি 'স্বরাজ দল' গঠন করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বেঙ্গল প্যাক্ট' বা বঙ্গীয় চুক্তি হলো ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের উদ্যোগে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি।
এই চুক্তির মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলায় মুসলমানদের জন্য জনসংখ্যা অনুপাতে আইনসভায় প্রতিনিধিত্ব এবং সরকারি চাকরিতে ৫৫% কোটা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়। তাছাড়া ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য মসজিদের সামনে বাদ্য বাজানো নিষিদ্ধকরণ ও গরু কোরবানির ক্ষেত্রে সমঝোতার নীতি গ্রহণ করা হয়। এটি তৎকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অবিভক্ত বাংলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়:
১. তিনি পেশায় ছিলেন একজন খ্যাতিমান 'আইন ব্যবসায়ী' (লন্ডন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রিপ্রাপ্ত)।
২. তিনি ছিলেন ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির প্রাক্কালে 'অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী' (১৯৪৬–১৯৪৭)।
৩. ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে গঠিত ঐতিহাসিক 'যুক্তফ্রন্টের অন্যতম অবিসংবাদিত নেতা' ছিলেন তিনি।
৪. ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের রাজধানী 'বৈরুতে মৃত্যুবরণ' করেন এই মহান নেতা।সুতরাং, উদ্দীপকের সমস্ত সূত্র নিশ্চিত করে যে বর্ণিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী। তিনি আজীবন নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিয়োজিত ছিলেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর অবদান গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. গণতান্ত্রিক দল গঠন ও বিরোধী দলীয় রাজনীতির বিকাশ: পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগের স্বৈরাচারী ও একক আধিপত্যের বিরুদ্ধে তিনি ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরে এটি সার্বজনীন আওয়ামী লীগে রূপান্তরিত হয়। তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
২. যুক্তফ্রন্ট ও ১৯৫৪-র নির্বাচন: ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক নির্বাচনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও মওলানা ভাসানীর সাথে মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠনে তিনি নেতৃত্ব দেন। যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের রায় নিয়ে তিনি মুসলিম লীগের মসনদ ভেঙে দেন, যা ছিল পাকিস্তানি আমলে গণতন্ত্রের প্রথম বড় বিজয়।
৩. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভূমিকা: ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি দেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন ও কার্যকরে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তিনি পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক সমতা এবং পররাষ্ট্রনীতিতে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে সচেষ্ট ছিলেন।
৪. আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে সোহ্রাওয়ার্দী সামরিক একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তিনি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে 'ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট' (NDF) গঠন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সকল বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ করেন।
৫. আইনের শাসন ও সংসদীয় চেতনা: তিনি সবসময় নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী ছিলেন। সংসদীয় রীতি ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর আপসহীন ভূমিকার জন্য তাঁকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' আখ্যা দেওয়া হয়।
অতএব, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, বিরোধী মতের সুরক্ষা এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমৃত্যু সংগ্রামের কারণে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর অবদান গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় এক অনন্য মাইলফলক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও