অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মিসেস অ্যাঞ্জিলিনা 'A' দেশের নাগরিক। তার LED TV এবং এয়ার কন্ডিশনার (AC) প্রয়োজন। বাজারে গিয়ে দেখেন, LED TV সেটের দাম ২০১৫ সালে ছিল ১০৫০ ডলার, যা ২০১৬ সালে দাঁড়ায় ১২০০ ডলারে এবং AC এর দাম একই সময়ে ১১০০ ডলার থেকে ১২৫০ ডলার হয়। তিনি আরও দেখেন বাজারে অন্যান্য পণ্যের দামও ক্রমাগত বেড়ে চলছে। অ্যাঞ্জেলিনার দেশের নিম্ন আয়ের লোকজন, শ্রমিক শ্রেণি ও সরকার এ বিষয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন।
- ক)(1)
সূচক সংখ্যা কী?
- খ)(2)
'মুদ্রাস্ফীতি সব সময় খারাপ নয়'। বুঝিয়ে লিখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে ভোক্তার দামসূচক ব্যবহার করে মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভিত্তি বছরের সাপেক্ষে বর্তমান বছরের কোনো চলকের (যেমন: দাম বা পরিমাণ) সামগ্রিক পরিবর্তনের মাত্রা পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত আপেক্ষিক সংখ্যাকে সূচক সংখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মুদ্রাস্ফীতি সব সময় খারাপ নয়'—কারণ একটি মৃদু বা সহনীয় মাত্রার মুদ্রাস্ফীতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সহায়ক। মৃদু মুদ্রাস্ফীতির ফলে পণ্যের দাম সামান্য বাড়লে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের মুনাফার প্রত্যাশা বৃদ্ধি পায়। এটি নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করে। তবে এই মুদ্রাস্ফীতি যদি মাত্রাতিরিক্ত বা উল্লম্ফন রূপ নেয়, তখন তা জনজীবনে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি করে। তাই সহনশীল মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে গণ্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভোক্তার দামসূচক (CPI) ব্যবহার করে ২০১৫ সালের সাপেক্ষে ২০১৬ সালের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করা হলো:
এখানে ভিত্তি বছর ২০১৫ এবং চলতি বছর ২০১৬।
ভিত্তি বছর ২০১৫-তে পণ্যের মোট দাম, ডলার।
চলতি বছর ২০১৬-তে পণ্যের মোট দাম, ডলার।ভোক্তার দামসূচক (CPI) নির্ণয়ের সূত্র:
অতএব, মুদ্রাস্ফীতির হার ():
(অথবা সরাসরি দামের পরিবর্তনের হার: )।সুতরাং, উদ্দীপক অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় ১৩.৯৫%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে—বিশেষ করে নিম্ন আয়ের লোকজন, শ্রমিক শ্রেণি ও সরকারের ওপর—মুদ্রাস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নিম্ন আয়ের লোকজনের ওপর প্রভাব: মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। নির্ধারিত বা সীমিত আয়ের মানুষদের প্রকৃত আয় কমে যায়, ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান নিচে নেমে যায়।
২. শ্রমিক শ্রেণির ওপর প্রভাব: বাজারে পণ্যের দাম দ্রুত বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি একই হারে বৃদ্ধি পায় না। এতে তাদের প্রকৃত মজুরি হ্রাস পায়, যা শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় সংকট তৈরি করে এবং কর্মক্ষেত্রে অসন্তোষ বৃদ্ধির সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।
৩. সরকারের ওপর প্রভাব: সামগ্রিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পায়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ওপর চাপ বাড়ে এবং জনঅসন্তোষের কারণে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ে। এছাড়া মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর আর্থিক ও রাজস্ব নীতি গ্রহণ করতে হয়, যা কখনো কখনো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর করতে পারে।
সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষেত্রসমূহে মুদ্রাস্ফীতি আর্থিক চাপ ও সামাজিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে বলেই সকলে উৎকণ্ঠিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও