ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
তালহা একটি ইবাদাত পালনের জন্য প্রতিদিন পাঁচবার মসজিদে গমন করেন। ইবাদাতটি তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সহযোগিতা করে। পাপকাজ থেকে বিরত রাখে। অন্যদিকে, রাহিক ওয়াজ শুনতে গিয়ে জানতে পারল ৮০ হিজরিতে একজন ইমাম কুফায় জন্মগ্রহণ করেন । যার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ফিক্হশাস্ত্র গড়ে ওঠে। ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদসহ বহু মুজতাহিদ আলেম তাঁর ছাত্র ছিলেন।
- ক)(1)
ইমাম মালিক (র.) কত হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন?
- খ)(2)
“আল্লাহর ইবাদাত পালনেই শান্তি”- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
রাহিক ওয়াজে কোন ইমাম সম্পর্কে জানতে পারে? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
তালহার কর্মকাণ্ডটি অন্যদের জীবনে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইমাম মালিক (র.) ৯৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আল্লাহর ইবাদাত পালনেই শান্তি"— কথাটির অর্থ হলো মানুষের প্রকৃত আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি কেবল আল্লাহর আনুগত্য ও স্মরণের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, "জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়" (সূরা আর-রাদ: ২৮)। মানুষ যখন তাঁর স্রষ্টার আদেশ অনুযায়ী সালাত, সিয়ামসহ অন্যান্য ইবাদত পালন করে, তখন সে সব ধরনের পাপ, দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে মুক্ত থাকে। ইবাদত মানুষের আত্মশুদ্ধি নিশ্চিত করে আত্মিক স্থিরতা প্রদান করে, যা পার্থিব কোনো ভোগ-বিলাসের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাহিক ওয়াজে ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ ইমাম আবু হানিফা (র.) সম্পর্কে জানতে পেরেছে।
ইমাম আবু হানিফা (র.) ৮০ হিজরিতে ইরাকের কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম নুমান ইবনে সাবিত। তিনি ছিলেন তাবেঈ এবং ফিকহশাস্ত্রের প্রধান প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একটি বিশেষজ্ঞ আলেম বোর্ডের মাধ্যমে কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ইসলামি আইন বা ফিকহশাস্ত্রকে সুবিন্যস্ত ও সংকলিত করেন। তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ফিকহশাস্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। তাঁর বিশিষ্ট ছাত্রদের মধ্যে প্রধান ছিলেন ইমাম আবু ইউসুফ (র.) ও ইমাম মুহাম্মদ (র.), যাঁরা পরবর্তীকালে ইসলামি আইনশাস্ত্রের বিকাশে অসামান্য অবদান রাখেন।
উদ্দীপকে রাহিকের শোনা বিবরণে ৮০ হিজরিতে কুফায় জন্ম নেওয়া, ফিকহশাস্ত্রের বিকাশ ঘটানো এবং ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতো মুজতাহিদ আলেমদের উস্তাদ হওয়ার যে তথ্য পাওয়া যায়, তা নিঃসন্দেহে ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর জীবনীকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তালহার প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে জামাতে সালাত আদায়ের কর্মকাণ্ডটি অন্যদের জীবনে গভীর ইতিবাচক ও গঠনমূলক প্রভাব ফেলতে পারে।
সালাত ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, যা মানুষকে সকল প্রকার অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে (সূরা আল-আনকাবুত: ৪৫)। মসজিদে দিনে পাঁচবার জামাতে নামাজ পড়ার মাধ্যমে শারীরিক ও আত্মিক পবিত্রতা অর্জিত হয়, যা উদ্দীপকে তালহার চরিত্রে ফুটে উঠেছে।
তালহার এই কর্মকাণ্ড অন্যদের জীবনে নিম্নলিখিত প্রভাব ফেলতে পারে:
১. ধর্মীয় প্রেরণা ও শৃঙ্খলা: তালহাকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত মসজিদে আদায় করতে দেখে সমাজের অন্য ব্যক্তিরাও সালাত আদায়ে উৎসাহিত হবে এবং তাদের জীবনে সময়ানুবর্তিতা গড়ে উঠবে।
২. ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক ঐক্য: জামাতে নামাজ পড়ার মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ দূর হয়। তালহার এই অভ্যাসের অনুসরণ সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে।
৩. পবিত্রতা ও নৈতিক উন্নয়ন: সালাতের জন্য নিয়মিত ওজু করার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন থাকার যে অভ্যাস তালহার মধ্যে রয়েছে, তা অন্যদেরও পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি পাপকাজ বর্জনের অনুপ্রেরণা জোগাবে।অতএব, তালহার এই নিয়মিত ইবাদত সমাজের অন্যান্য মানুষের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত, যা ব্যক্তি ও সমাজকে অন্যায়মুক্ত, পবিত্র ও সুশৃঙ্খল করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও