জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

রাশেদ কচু গাছের পাতার কিনারায় পানির উপস্থিতি দেখে শিক্ষককে প্রশ্ন করল। তিনি বললেন ইহা এক ধরনের রন্ধ্রের কাজ। এরকম আরও এক ধরনের রন্ধ্র আছে যা পাতার ঊর্ধ্ব ও নিম্নতকে থাকে।

  1. ক)

    নিউক্লিওসাইড কী?

    (1)
  2. খ)

    ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপ কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে শেষ অংশে নির্দেশিত রন্ধ্রটির গঠন চিত্রসহ বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্ভিদের জৈবনিক কাজে রন্ধ্র দুটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    এক অণু পেন্টোজ শ্যুগার (রাইবোজ বা ডিঅক্সিরাইবোজ) এবং এক অণু নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (পিউরিন বা পাইরিমিডিন) যুক্ত হয়ে গঠিত যৌগকে নিউক্লিওসাইড বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদের মূলের অন্তঃত্বকের (Endodermis) কোষগুলোর প্রস্থ ও পার্শ্বপ্রাচীরে সুবেরিন এবং লিগনিন যুক্ত হয়ে ফিতার মতো যে পুরু প্রাচীরবেষ্টনী গঠন করে, তাকে ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপ বলে। ১৮৬৫ সালে বিজ্ঞানী রবার্ট ক্যাসপেরি এটি প্রথম প্রত্যক্ষ করেন। এর মাধ্যমে অন্তঃত্বকের মধ্য দিয়ে পানি ও খনিজের অ্যাপোপ্লাস্টিক পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয় এবং সিমপ্লাস্টিক পরিবহন নিশ্চিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষ অংশে পাতার ঊর্ধ্ব ও নিম্নত্বকে উপস্থিত 'পত্ররন্ধ্র' বা 'স্টোমাটা' (Stomata)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।

    পত্ররন্ধ্রের গঠন:
    একটি আদর্শ পত্ররন্ধ্র প্রধানত নিচের অংশগুলো নিয়ে গঠিত:
    ১. রক্ষীকোষ (Guard cells): পত্ররন্ধ্র দুটি বৃক্কাকার বা অর্ধচন্দ্রাকার বিশেষায়িত এপিডার্মাল কোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে, এদের রক্ষীকোষ বলে। এ কোষগুলোতে সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস, ঘন সাইটোপ্লাজম এবং প্রচুর ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। রক্ষীকোষের ভেতরের প্রাচীর (রন্ধ্রের দিকের প্রাচীর) পুরু ও অনমনীয় এবং বাইরের প্রাচীর পাতলা ও স্থিতিস্থাপক হয়।
    ২. রন্ধ্র বা স্টোমা (Stoma): রক্ষীকোষ দুটির মধ্যবর্তী সূক্ষ্ম ছিদ্রটিকে রন্ধ্র বা স্টোমা বলে। রক্ষীকোষের স্ফীতি ও সংকোচন পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই রন্ধ্র খোলে ও বন্ধ হয়।
    ৩. সহকারী কোষ (Subsidiary cells): রক্ষীকোষ দুটিকে ঘিরে থাকা সাধারণ ত্বকীয় কোষগুলো বিশেষ রূপ নিয়ে অবস্থান করে, এদের সহকারী বা অনুষঙ্গী কোষ বলে।
    ৪. উপ-পত্ররন্ধ্রীয় প্রকোষ্ঠ (Sub-stomatal chamber): পত্ররন্ধ্রের ঠিক নিচে মেসোফিল কোষে অবস্থিত একটি বড় বায়ুকুঠুরি থাকে, একে উপ-পত্ররন্ধ্রীয় প্রকোষ্ঠ বা শ্বাসকুঠুরি বলে।

    [চিত্র: একটি আদর্শ পত্ররন্ধ্রের চিহ্নিত চিত্র যেখানে রক্ষীকোষ, পত্ররন্ধ্র, ক্লোরোপ্লাস্ট, নিউক্লিয়াস এবং সহকারী কোষ প্রদর্শিত থাকবে]

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রন্ধ্র দুটি হলো— কচু পাতার কিনারায় অবস্থিত 'পানি পত্ররন্ধ্র বা হাইডাথোড' (Hydathode) এবং পাতার তকে অবস্থিত 'পত্ররন্ধ্র বা স্টোমাটা' (Stomata)। উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবনিক প্রক্রিয়ায় এদের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. পত্ররন্ধ্রের (Stomata) গুরুত্ব:
    ক. প্রস্বেদন: উদ্ভিদের গৃহীত অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে পরিবেশে নির্গত হয়, যা উদ্ভিদের দেহে পানির ভারসাম্য ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
    খ. সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন: সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় CO₂ গ্রহণ ও O₂ ত্যাগ এবং শ্বসনের জন্য O₂ গ্রহণ ও CO₂ ত্যাগ পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমেই ঘটে থাকে। ফলে উদ্ভিদের শক্তি উৎপাদন ও খাদ্য তৈরি সম্ভব হয়।
    গ. রস উত্তোলন: প্রস্বেদন টানের সৃষ্টি করে মূলরোম থেকে পাতায় পানি ও খনিজ লবণ পরিবহনে পত্ররন্ধ্র পরোক্ষ ভূমিকা রাখে।

    ২. পানি পত্ররন্ধ্রের (Hydathode) গুরুত্ব:
    ক. গাটেটিং বা তরল নির্গমন: অতিরিক্ত আর্দ্র পরিবেশে বা রাতে যখন প্রস্বেদন বন্ধ বা ধীর থাকে, তখন মূলজ চাপের কারণে পানি পত্ররন্ধ্র দিয়ে অতিরিক্ত পানি তরল আকারে বিন্দু বিন্দু হয়ে নির্গত হয় (গাটেটিং)।
    খ. শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য: গাটেটিং-এর মাধ্যমে অতিরিক্ত অন্তস্থ পানির চাপ হ্রাস পায় এবং উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ কোষের স্ফীতি ও ক্ষয়ক্ষতি রক্ষা পায়। এছাড়া এর সাথে কিছু জৈব ও অজৈব লবণও বাইরে নিষ্কাশিত হয়।

    সুতরাং, উদ্ভিদের পানি ও খনিজ পরিবহন, গ্যাসীয় আদান-প্রদান এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রন্ধ্র দুটির গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন